Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা শামসুল ইসলামের ইন্তেকাল

প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৩৮ পিএম, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮


স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম শামসুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন। তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর দেড়টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বিএনপির প্রবীণ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে গত ১৭ এপ্রিল থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এম শামসুল ইসলাম।
শামসুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন।
এম শামসুল ইসলাম ১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য ছিলেন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শামসুল ইসলাম। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য এম শামসুল ইসলাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার হাই কমিশনার ছিলেন। ১৯৮১ সালে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনবার তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে বাণিজ্য, টেলিযোগাযোগ ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম শামসুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তাকে প্রথমে ভূমি ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের শেষে দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া এম শামসুল ইসলাম ২০১৪ সালে দলের কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। গত কাউন্সিলের আগে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। চার দলীয় জোট গঠনেরও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিএনপি নেতারা জানান। তার একান্ত সচিব কামরুল হাসান জানান, গতকাল সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে এম শামসুল ইসলামের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকাল ৯টায় তার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা সাবেক এই নেতা ও মন্ত্রীর প্রতি দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাবেন। নয়াপল্টনে জানাযার পর দুপুরে এম শামসুল ইসলামের লাশ নিয়ে যাওয়া হবে মুন্সিগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার তিনসুড়িতে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ২০১৫ সালের জুন মাসে এম শামসুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ার ইসলাম মারা যান। তারা দুই ছেলে এম সাইফুল ইসলাম ও মোনাদির ইসলামকে রেখে গেছেন। বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম ‘জি-নাইন’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ঢাকা চেম্বারর্স অব কমার্সের নেতা। ছোট ছেলে মোনাদির ইসলাম প্রকৌশলী।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ