Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কলারোয়ায় বোরো ধান ঘরে তোলা শুরু

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ

| প্রকাশের সময় : ৪ মে, ২০১৮, ১২:০০ এএম


কলারোয়া (সাতক্ষীরা) থেকে আব্দুল হামিদ : কলারোয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার হেক্টর বেশী জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটায়ে বর্তমানে বোরো ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের ঘরে তোলা শুরু হয়েছে। কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কলারোয়ায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কৃষকরা আমন ধানের ন্যার্য্য মূল্য পেয়ে এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের উৎসাহে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। উৎফুল্য ও উৎসাহিত কৃষকরা বোরো আবাদের জন্য এবার অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি এবং চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করে। কিন্তু মধ্যে পৌষে মৃদ্যু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহে কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরো ধানের চারা বাচানোর জন্য সন্ধায় বীজ তলায় ২/৩ ইঞ্চি পানি রেখে এবং সন্ধায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে বোরো চারা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করা হয়। আগাম রোপন করা বোরো চারা বাচাতে সন্ধায় ক্ষেতে পানি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। শৈত্যপ্রবাহ শেষে আবাদের অনুকুল আবাহওয়া শুরু হয়। স্বল্প সময়ে বোরো ধানের চারাগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠে। মনের আনান্দে কৃষকরা ধান ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করে প্রযোজনীয় সার কীটনাশক প্রযোগ করতে থাকে। হৃষ্টপুষ্ট ধানগাছে শীষ বের হওয়া আরাম্ভ করে। কিন্তু আকস্মিক ভাবে ধানে ”বøাষ্ট” রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরামর্শ দিতে দল বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। লিফলেট বিতরণ করে বøাষ্টের আক্রমণ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কৃষকদের সচেতন করা হয়। ফলে বøাষ্টে ক্ষতির মাত্রা দেড় হেক্টরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলে কৃষি অফিস সুত্র জানায়। ক্ষতি কাটায়ে মাঠে মাঠে নজর কাড়া শীষ বের হয়। ইতিমধ্যে মাঠে মাঠে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। আগাম রোপন করা ধান কেটে ঘরে তোলার কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরাদমে সমস্ত জমির ধান কাটা শুরু হবে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান, চাষ করা ৫ বিঘার মধ্যে তিন বিঘা জমির ধান কেটে ৬৫ মন ধান পেয়েছে। বিক্রমপুর প্রামের কৃষক রহিম জানান, চাষ করা ৩ বিঘা ৫ কাঠা জমির মধ্যে ২ বিঘা জমি থেকে ৪৪ মণ ধান পেয়েছে। পাচপোতা গ্রামের কৃষক আলফাজ আলী জানান, চাষ করা আড়াই বিঘা ধানে বøাষ্টের আক্রমণ হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কাজ করে এক বিঘা জমির ফসল কেটে ১৯ মন ধান ঘরে তুলেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মহসিন আলী জানান, ইতিমধ্যে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বোরো ধান কাটা সম্পন্œ হয়েছে। ধান ঝেড়ে ঘরে তোলার কাজ চলছে। জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ধানের ফলন হয়েছে ৬ টন থেকে সাড়ে ৬ টন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর