Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

গ্রুপের তলানীতে থেকেই বিদায় অলিম্পিক দলের

প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রæপে চার দলের মধ্যে সবার শেষে থেকেই বিদায় নিলো বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। শেষ ম্যাচে তারা কম্বোডিয়ার মতো দূর্বল দলের কাছেও হারের লজ্জা পেয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্রæপের শেষ ম্যাচে কম্বোডিয়া ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ অলিম্পিক দলকে। বিজয়ী দলের হয়ে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ডিনা টিট। এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার তৃতীয়স্থানে থেকে আসর শেষ করলো কম্বোডিয়া। সমান ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট অর্জন করায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থস্থানে।
গ্রæপের প্রথম সেমিফাইনালিস্ট আগেই নির্ধারণ হয়েছিলো। মালদ্বীপ এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ চারে নাম লেখায়। দ্বিতীয় দল হিসেবে বাহরাইনের সঙ্গে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলেরও একটা সম্ভাবনা ছিলো সেমিফাইনালে খেলার। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে বাহরাইনকে হারতে হতো মালদ্বীপের কাছে এবং বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে জিততে হতো কম্বোডিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু সব শঙ্কা দূরে ঠেলে কাল বিকালে মালদ্বীপ-বাহরাইন ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলে কপাল পুড়ে বাংলাদেশের। ৫ পয়েন্ট পেয়ে গ্রæপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা পায় বাহরাইন। ফলে বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। তবুও স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক’শ স্বাগতিক দর্শকের আশা ছিলো সেমিতে না খেলুক অন্তত কম্বোডিয়াকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। কিন্তু না, পারলেন না রেজাউল করিমরা। ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারলেন না। উপরন্ত অপেক্ষকৃত দূবল প্রতিপক্ষ কম্বোডিয়ার কাছে হেরে জাতিকে লজ্জা দিলেন তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমনে ছিলো কম্বোডিয়া। তারা একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তুলে বাংলাদেশ রক্ষণদূর্গকে। তবে ভাগ্য সহায় না থাকায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়না অতিথি দল। ম্যাচের ২৬ মিনিটে মিডফিল্ডার ম্যাং ছ্যাং বল নিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেবার আগেই তা ক্লিয়ার করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। ৩২ মিনিটে বামপ্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদের বাড়িয়ে দেয়া বল বক্সে পেয়েছিলেন আরেক মিডফিল্ডার রুবেল মিয়া। কিন্তু তার শট বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে মিডফিল্ডার আমিনুর রহমান সজীবের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। গোলশূণ্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতির পর যেন জ্বলে উঠে কম্বোডিয়া। ৪৮ মিনিটে কর্ণার আদায় করে নেয় তারা। কিন্তু বক্সে বল ক্লিয়ার করে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৫৫মিনিটে বল নিয়ে বাংলাদেশের বক্সে ঢুকে শট নেন কম্বোডিয়ার ডিফেন্ডার তুলা নাব। ফিস্ট করে নিশ্চিত গোল বাঁচান বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান। বল গতি পরিবর্তিত হয়ে প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ড ছানরাসমের হাতে লাগায় গোলকিক পায় বাংলাদেশ। ৬১ মিনিটে কেস্ট কুমারের লং থ্রো বক্সে মাসুক মিয়া জনির পায়ে লেগে বলের গতিপথ পরিবর্তীত হয়ে যায়। সেখানে দাড়ানো আমিনুর রহমান সজীব এক দুর্দান্ত শট নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত বল ডান পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।
এর দশ মিনিট পরেই গোল পায় কম্বোডিয়া। মাচের ৭১ মিনিটে ভ্যানডেথ সনের পাসে স্বাগতিক দলের রক্ষণভাগকে ফাকি দিয়ে দর্শনীয় শটে বল জালে পাঠান ডিনা টিট (১-০)। উল্লাসে ফেটে পড়ে কম্বোডিয়া শিবির। আর হতাশা নামে বাংলাদেশ শিবিরে। তবে গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বেশ কিছু আক্রমণ সানায় বাংলাদেশ। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই বিফলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হওয়ায় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে অতিথি দল।
এদিকে ‘বি’ গ্রæপ রানার্সআপ হয়েই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠলো বাহরাইন। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্রæপের শেষ ম্যাচে তারা ১-১ গোলে ড্র করেছে মালদ্বীপের বিপক্ষে। মালদ্বীপের ইমাজ আহমেদ ও বাহরাইনের আনোয়ার আলী একটি করে গোল করেন। এই ড্র’র ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। ফলে কাল বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। এই গ্রæপের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ চার নিশ্চিত করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।