Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

নাব্য সঙ্কটে ওয়াটার বাস ও নৌযান বন্ধ

ক্ষতির মুখে সিন্নিরটেক আশুলিয়ার ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের সময় : ৮ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : নাব্য না থাকা, অপরিকল্পিত নদী খনন, বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, উচ্ছেদ অভিযান ও বিভিন্ন কারণে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকায় বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিন্নিরটেক, আশুলিয়া, গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ইজারাদাররা।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, রাজধানীর সঙ্গে নদীপথে যোগাযোগ ও ব্যবসার অন্যতম মাধ্যম মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদী। অপরিকল্পিত ড্রেজিং, দখলদারদের ছোবল ও অবৈধ স্থাপনায় নাব্য সংকটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে নদীটি। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন থেকে ‘এই চালু, এই বন্ধ’- এভাবেই চলছে ওয়াটার বাস ও বাল্ক হেড নৌযান চলাচল। আর এতে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়েছে ভাটা। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযান ও নদীর নাব্যতা না থাকার কারণে সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নদীতে দু’একটি ছোট নৌ-যান চলাচল করলেও তা খুবই সীমিত। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নদী পথে রাজধানীর সঙ্গে ব্যবসার অন্যতম মাধ্যম এই নদী। অথচ অপরিকল্পিত ড্রেজিং, নদী ভরাট করে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় মৃত্যুপায় নদীটি। বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, সম্ভাবনাময় এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব পেলেও তা খুবই কম। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগালে এখান থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেতে পারে।
সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে রয়েছে ঢাকা মহানগরীর চারপাশের নদীগুলো পুনরুদ্ধার, সার্কুলার নৌ-রুট এবং সড়ক নির্মাণ (ইস্টার্ণ বাইপাসসহ)। ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক খান মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই প্রকল্প সম্পর্কে নৌ-পরিবহন সচিব, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হয়- নদীর সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, স্থাপিত পিলার নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় কিনা এবং সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে। একই সঙ্গে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের মাধ্যমে উদ্বারকৃত জায়গা কিভাবে দখলে রাখা হচ্ছে এবং বাকী উচ্ছেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে। এছাড়াও বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল উদ্ধার করে পুন:খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কিনা এবং এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, উচ্ছেদ অভিযান ও নদীর নাব্যতা না থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একাধিকবার ইজারা মূল্য মওকুফ করার আবেদন করেছে সূচনা সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিব সারোয়ার মাসুম জানান, সিন্নিরটেক, আশুলিয়া নদীর উভয়তীর বাল্কহেড নৌ-যান শুল্ক আদায় পয়েন্টের চলতি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের ইজারা মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। অথচ ইজারা নেয়ার পর এই চালু, এই বন্ধ এভাবেই চলছে ওয়াটার বাস ও বাল্ক হেড/নৌযান। এতে শুল্ক আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৪২দিন শুল্ক আদায় বন্ধ ছিলো। বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের কাছে গত মঙ্গলবার দেয়া এক চিঠিতে সমিতির পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে ১৪২ দিন ঘাট বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে এই সময়ের ইজারা মূল্য সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন। অন্যথায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ধার-দেনা করে ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।    
সূত্র মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালনায় ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট ‘তুরাগ’ ও ‘বুড়িগঙ্গা’ নামে দুটি ওয়াটার বাস চালু হয়। দ্বিতীয় ধাপে চারটি এবং তৃতীয় ধাপে আরও ৬টি ওয়াটার বাস চালু করা হয়। কিন্তু নদীর নাব্য না থাকা এবং যাত্রী না পাওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ এটা বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অতি শীঘ্রই পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং না করানো হলে নৌ-যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৫ দিন বাল্কহেড চলাচল বন্ধ ছিল। এভাবেই প্রায়ই বন্ধ থাকে। গত ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্তও বন্ধ ছিল বাল্কহেড চলাচল।  
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর এস মোজাম্মেল হক বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদীর নাব্য ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতি সপ্তাহেই আমি পরিদর্শনে যাচ্ছি। যেখানে যেখানে চর দেখা দিয়েছে তার প্রত্যেকটা স্থান চিহ্নিত করে খনন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে  ইতোমধ্যে দুটি প্রাইভেট কোম্পানিকে খননের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো নদীতে ড্রেজিং দরকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগিরই ড্রেজিংয়ের জন্য দুটো ড্রেজার আনা হচ্ছে।






 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন