Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ব্রাহ্মণপাড়ায় গাজর, শশা ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ৩ গুণ

| প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা : কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পবিত্র মাহে রমজানের আগেই বেড়ে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম। গাজর, শশা ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ৩ গুণ। এতে নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস।
গত কয়েক দিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে স্বরেজমিনে ঘুরে এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। কিছুদিন আগেও ব্রাহ্মণপাড়ার আনাচে-কানাচে প্রতি কেজি গরুর গোস্ত ৪ শ ৫০ টাকায় পাওয়া যেত। তা হঠাৎ করেই বর্তমানে ৫ শ টাকা থেকে ৫শ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পল্ট্রি মুরগি প্রতি কেজি ১শ ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১শ ৫০ টাকা এবং পাকিস্তানী কক মুরগি প্রতি কেজি ১শ ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২শ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা গেল কয়েকদিন আগে প্রতি কেজি ৬২ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হত, যা বর্তমানে ৭৫ টাকা থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রশুন, হলুদ,মরিচ ও আদার দাম তো বেশ কিছুদিন থেকেই তুঙ্গে। ভোজ্য তৈল সয়াবিনের দাম স্থিতিশীল হলেও বেড়েই চলেছে অন্যান্য নিত্য পণ্য-সামগ্রীর দাম। চাষের পাংগাস ও তেলাপিয়া মাছের দাম কিছুটা কম হলেও গত বাজারের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ১০/২০ টাকা। ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শরীফ জানালেন, সয়াবিন তৈল ছাড়া সব পন্যেরই দাম বেড়েছে। তবে কেন বেড়েছে তা তিনি জানেন না। চিনি কয়েকদিন আগেও তিনি ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করতেন, আর বর্তমানে বিক্রি করেন ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায়।
সদর বাজারের মালের ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া ও জুয়েল রানা জানান, সকল কাঁচা পন্যের দাম বেশ বেড়েছে। কত বেড়েছে জানতে চাই তারা জানান, প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা, টমাটো ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, শাশা ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, কারকল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, পটল ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাক, দেরস ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, করল্লা ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, দুনধুল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, বটবটি (লত সিম) ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, চিচিংঙ্গা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, পেয়াজ ৩০ ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, আদা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১শ টাকা, রসুন (দেশী) ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, রসুন (ইন্ডিয়ান) ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১শ টাকা, লেবুর হালী ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা, কাঁচকলা হালী ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাই কাঁচা মালের দোকানে এসে দাম জি¦গাসা করে কোন কিছু না নিয়েই চলে যাচ্ছে। এব্যাপারে একজন ক্রেতা মালেক মিয়া জানান, পন্যের দাম যে ভাবে রেড়েছে, আমি দৈনিক যা ইনকাম করি তা দিয়ে আমার পরিবারের একদিনের বাজার খরচ মিটানো যাচ্ছে না।
এভাবে চলতে থাকলে আমরা যারা মানুষের দৈনিক উপর্জন দিয়ে চলি, তাতে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কাঁচ পন্যের ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। আমারা মোকাম থেকে দাম দিয়ে কিনে আনতে হয় তাই আমারাও দামে বিক্রি করি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ