Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

চমক হয়ে ফিরলেন মোসাদ্দেক

‘কোচ-অধিনায়কের চাওয়ায়’ টিকে গেলেন সৌম্য

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০১৮, ১২:০০ এএম

দলটির বিপক্ষে এর আগে একটি মাত্র টি-টোয়েন্টিই খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ বিশ্বকাপে মিরপুরের সেই ম্যাচে মুশফিকের দল জিতেছিল ৯ উইকেটে। এরপর থেকে অনেক এগিয়েছে আফগানিস্তান। টি-২০তে যে ভয়ঙ্কর দল তার প্রমাণ রেখেই এগিয়ে চলেছে ক্রিকেট বিশ্বে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে দলটি রয়েছে ৮ নম্বরে। অধিনায়কের হাতবদলের মত টি-২০তেও পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, সাকিব আল হাসানের দলের অবস্থান ১০ নম্বরে। পুরনো সেই দলটিকে নতুন করে চেখে দেখার সুযোগ মিলেছে বাংলাদেশের। ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য দল দিয়ে দিলেন বাংলাদেশের নির্বাচকেরা। গতকাল মিরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত এই দলে নেই ইমরুল কায়েস ও তাসকিন আহমেদ। দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। সাকিবের চোটে আগের সিরিজে দলে ফেরা লিটন দাস টিকে গেছেন আফগানিস্তান সিরিজে।
তাসকিন বাদ পড়ছেন, এটা অনুমিতই ছিল। কারণ, তিনি পুরোপুরি ফিট নন। নির্বাচকেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রস্তুতির জন্য একজন ব্যাটসম্যানকে দেশে রেখে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সেটা যে ইমরুল হতে যাচ্ছেন, বোঝা যাচ্ছিল সেটিও। তবে মোসাদ্দেকের অন্তর্ভুক্তিতে কিছুটা চমক থাকছেই। এক মাসের মধ্যে দুই রকম অভিজ্ঞতা হলো মোসাদ্দেকের। গত মাসে মন খারাপের মতো খবর পেলেন, বাদ পড়েছেন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে। গতকাল পেলেন মন ভালো করার খবর। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক তার ছয় টি-টোয়েন্টির শেষটি খেলেন গত বছরের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোয়।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানান, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার কথা মাথায় রেখে আফগানিস্তান সিরিজে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে যাননি তারা, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাইনি কারণ, প্রতিটি সিরিজ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে র‌্যাঙ্কিংয়ে আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। এই কারণেই আমাদের সেরা দলটা পাঠানোর চিন্তা ভাবনা করেছি। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর আছে। সেখানেও টি-টোয়েন্টি আছে। চেষ্টা করেছি আমাদের সম্ভাব্য সেরা দলটা গঠন করতে। নিদাহাস ট্রফির পর টি-টোয়েন্টি দলটা আমরা অনেকটাই পেয়ে গেছি। কিছুদিন আগেও এ ব্যাপারে আমরা ব্যাকফুটে ছিলাম। এই ফরম্যাটে আমাদের শক্তির জায়গাগুলো আমরা বুঝতে পেরেছি। যার কারণে খুব বেশি পরিবর্তনে যাইনি আমরা।’
২০১৭ সালের মার্চে কলম্বোয় শততম টেস্টে অসাধারণ ব্যাটিং, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর মোসাদ্দেক হঠাৎ দৃশ্যপট থেকে আড়াল হয়ে গেলেন চোখের সংক্রমণে পড়ে। ছন্দে ফিরতে তাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন। অবশেষে চুক্তি থেকে বাদ পড়া মোসাদ্দেককে ফেরানো নিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের ব্যাখ্যা, ‘অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মিরাজ শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মিরাজের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থেকেও মোসাদ্দেক কীভাবে নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মিনহাজুল, ‘ওটা অন্য বিষয় (চুক্তি)। আমরা মনে করছি, টি-টোয়েন্টিতে ভালো বোলিং করার যথেষ্ট দক্ষতা আছে মোসাদ্দেকের। ও যথেষ্ট প্রতিভাবান। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এ মুহূর্তে ফিটনেসসহ নানা বিষয়ে ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন ওপেনার ইমরুল ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সোহান। সেই টুর্নামেন্টে খারাপ করলেও টিকে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকার। ৫ ম্যাচ খেলে ৫০ রান করেছিলেন এই ওপেনার। ফর্মহীনতার পরও নিয়মিত দলে স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে ভেবেই কিনা উত্তারটাও আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিলেন নান্নু, ‘আমরা জানি ও (সৌম্য) ফর্মে নেই, দলে সুযোগ পেলে প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরাও এটা নিয়ে অনেক ভেবেছি। তবে অধিনায়ক (সাকিব) এবং কোচের (ওয়ালশ) মতে, তাকে দলে নেয়াটা উপকারে আসতে পারে।’
দেরাদুনের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৩, ৫ ও ৭ জুন হবে ম্যাচ তিনটি। সিরিজে খেলতে ২৯ মে দেরাদুনে যাবে বাংলাদেশ দল। ১ জুন খেলবে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ।

১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মোসাদ্দেক

১ ডিসেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন