Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

হঠাৎ ভোলায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: বাজার মনিটরিং দাবি

ভোলা থেকে এম এ বারী | প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ভোলায় নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দু‘একদিনের ব্যবধানে সবজি ও মাছের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিছুটা স্থিতি রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। তবে বেড়েছ মুরগির দাম। এতে বিপাকে পড়েছে ক্রেতারা।
অনেকেই বাজার করতে এসে হতবাগ হয়ে যাচ্ছেন। কারন, দ্রব্যের দাম অনেকটা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে ক্ষোভ আর অসন্তোস বাড়ছে সাধারন ক্রেতাদের। এক শ্রেনীর ব্যবসায়ী রমজান উপলক্ষে সিন্ডিকেট তৈরী করে কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে পন্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতারা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রনে মনিটরিং না থাকায় দিন দিন বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা, তাদের দাবি প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারে দ্রব্য মূল্যের দাম কিছুটা বাড়ছে।
সরেজমিনে শহরের কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সবজি কেজিতে গড়ে ৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেড়েছে বেগুন, শশা, রসূনের দাম। এসব দ্রব্যের দাম রমজানের একদিন আগেও কম ছিলো বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। অনেক ক্রেতাই বাজারে এসে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েন। কারন, হঠাৎ করেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। এ নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
বাজারে শশা কেজি প্রতি ৫০ টার স্থলে ৭০ টাকা, পোটল ৫০ টাকার স্থলে ৬০ টাকা, পেয়াজ ২৫ টাকার স্থলে ৩৫ টাকা, আলু ১৬ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা, দেশি রসুন ৪০ টাকার স্থলে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়ার কারন জানতে চাইলে কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল বলেন, আমরা দাম বাড়াইনি, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।
কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে আসা ক্রেতা স্কুল শিক্ষক মোঃ আশ্রাফ হোসেন বলেন, দু’দিন আগেও যেসব পন্যের দাম হাতের নাগালে ছিলো, কিন্তু রমজান মাসে হঠাৎ করে সেগুলোর দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কাঁচা বাজার ও সবজির দাম অনেক বেড়েছে। এমন চলতে থাকলে ক্রেতারা কিভাবে বাজার করবে।
এদিকে বেড়েছে সোয়াবিনের দাম। সোয়াবিন কেজিতে দুুই টাকা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। চিনি ৫২ টাকার স্থলে ৫৬ টাকা, সোলা ৬০ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকা।
মুদি ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, সব কিছুর দাম ঠিক রয়েছে তবে বেড়েছে দু’একটি জিনিসের দাম। তবে কেন বেড়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।
মুরগি বাজারেও দাম বেড়েছে। আগে যেখানে দেশি মুরগির দাম কেজি প্রতি ৪’শ টাকা ছিলো তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৪’শ টাকা। এছাড়া কক মুরগি ২৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে ফার্মের মুরগির দামও। প্রতি কেজি মুরগি ১৩০ টাকার স্থলে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মুরগির দাম বেড়েছে বলে জানান ক্রেতা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। সব কিছুরই দাম হু হু করে বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানবে কে? এ জন্য বাজার মনিটরিং খুব জরুরি।
এদিকে গরু ও খাসীর মাংসের মূল্য তালিকা দেয়া হয়েছে। গরু কেজি ৪৮০, খাসি ৭০০ এবং বরকি ছাগরের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা দর। মাংসের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও যেন মাছের বাজারে আগুন।
বাজারে ইলিশ, পোয়া, চিংড়ি, ছুড়া, কই, তেলাপিয়া ও কাতাল মাছের সরবরাহ থাকলেও দাম আকাশচুম্বী। ইলিশ হালি প্রতি বড় সাইজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা, মাঝারো ১৫০০ থেকে ২ হাজার এবং ঝাটকা ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি কেজি প্রতি ৭০০ টাকা দরে বিক্র হচ্ছে। অন্য মাছের দামও কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মাছের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা মোঃ সুমন জানান, নদীতে মাছের আমদানি কম, তাই দাম একটু বাড়তি। তবে বেশি মাছ পাওয়া গেলে দাম কমতে পারে।
ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এসএম বাহাউদ্দিন বলেন, বাজারে নিয়ন্ত্রনে কোন মনিটরিং হচ্ছেনা, সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সিন্ডিকেটের কাছে ভোক্তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। পাইকারী বাজার থেকে বিক্রেতারা যে মূল্যে পন্য কিনে আনেন তার চেয়ে অনেক বেশী দামে বিক্রি করেন নানা অজুহাত দেখিয়ে। রমজান মাসে এভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। দ্রæত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, প্রতিদিন বাজার মনিটরিং হচ্ছে, বিষয়টি আমরা খুব সিরিয়াসলি দেখছি। কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশী দামে পন্য বিক্রি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রয়োজনে তিনি নিজেও বাজার মনিটরিং নামবেন বলোও জানার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন