Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইফতার করার সময় প্রসঙ্গে

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০১৮, ১:৫১ এএম


সারা দিনে রোজা রাখার পর ইফতার করা হলো আনন্দ পূর্ণ শোকর গুজারীর নিদর্শন। ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে রোজাদার বান্দাহগণ পরিপূর্ণভাবে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আত্ম সমর্পন করে এবং তাদের দেহ, মন, প্রাণ আল্লাহর রহমত, বরকত ও মাগফেরাত লাভে ধন্য হয়ে উঠে।
বস্তুত : ইফতার করার নির্দিষ্ট সময়টি হচ্ছে সূর্যাস্ত হওয়ার পর মুহূর্তে। এই মুহূর্তটি ও উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথেই রোজা খুলে ফেলা উচিত। এতে কোন রূপ বিলম্ব করা সমীচীন নয়। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু যর গিফারী (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেছেন : আমার উম্মত যতদিন পর্যন্ত ইফতার ত্বরান্বিত করবে এবং সেহরী বিলম্বিত করবে, ততদিন তারা কল্যাণ ও মঙ্গলময় হয়ে থাকবে। (মুসনাদে আহমাদ : সাওম অধ্যায়)
সচরাচর দেখা যায় যে, এক শ্রেণীর মানুষ সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও রোজা খুলতে অকারণে বিলম্ব করে। তারা হয়ত মনে করে যে, এতে অধিক সওয়াব লাভ করা যায় অথবা এটা তাকওয়া ও পরহেজগারী প্রদর্শনের মোক্ষম সয়ম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা:) যে রোজার বিধান প্রদান করেছেন তাতে এরূপ করবার কোনই সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্টত:ই বলেছেন : রোজাদাররা যতদিন পর্যন্ত ইফতার ত্বরান্বিত করবে ততদিন দীন ইসলাম সুস্পষ্ট অ¤øান ও বিজয়ী হয়ে থাকবে। মূলত : ইফতার ত্বরান্বিত করা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর আদর্শ ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থা। মুসলমানরা যদি সে আদর্শ ও বিধানকে পুরাপুরী অনুসরণ করে, তবেই তারা প্রকৃত ইসলামের ধারণকারী বলে স্থিরকৃত হয়। ইফতার ত্বরান্বিত করা শুধু কেবল রাসূলুল্লাহ (সা:) এর পছন্দনীয় আমল নয়, বরং তা মহান আল্লাহ পাকের নিকট ও অধিকতর প্রিয় ও পছন্দনীয়। হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেছেন : ইফতার ত্বরান্বিতকারী বান্দাহগণই আমার নিকট অধিকতর প্রিয়। কারণ এতে আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর পূর্ণ অনুসরণ বাস্তবায়িত হয়। আল কুরআনে মহান রাব্বুল আলামীন এই তত্ত¡টুকু এভাবে তুলে ধরেছেন। ইরশাদ হয়েছে : হে প্রিয় নবী (সা:)? আপনি বিশ্বাসীদেরকে জানিয়ে দিন যে, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসার আশা পোষণ কর, তাহলে তোমরা আমার বাস্তব অনুসরণ কর, তা হলেই আল্লাহপাক তোমাদেরকে ভালো বাসার বন্ধনে আবদ্ধ করবেন। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত-৩১, রুকু-৪)। তিরমিজী শরীফে হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেছেন : মানুষ যতদিন ইফতার ত্বরান্বিত করবে, ততদিন তারা কল্যাণ ও মঙ্গল লাভ করতে থাকবে। (এর অন্যথা হবে না)।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।