Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইতিকাফে বসলে আজই বসতে হবে

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ৬ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০০ এএম, ৬ জুন, ২০১৮

ইতিকাফ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। ইতিকাফ মহান ইবাদত। বান্দাহ’র মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ইতিকাফ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম যুহরী (রহ.)-এর কথা খুবই প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘মুসলমানদের দেখে আশ্চর্য লাগে, তারা ইতিকাফ ত্যাগ করে চলেছে, অথচ নবী করীম (সা.) মদিনাতে আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো ইতিকাফ পরিত্যাগ করেননি।’ (ইবনে বাত্তাল : শরহুল বুখারী, খÐ ৪, পৃষ্ঠা ১৮১)
মসজিদ ব্যতীত ইতিকাফ শুদ্ধ নয়। পাঞ্জেগানা ও জামে মসজিদে ইতিকাফ করা শুদ্ধ। জুমার জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভাঙবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। অনুরূপ তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে লাইলাতুল কদর তালাশ করা। মহিলারা নিজ নিজ গৃহের নিভৃত স্থানে ইতিকাফ করতে পারেন। ইতিকাফ সম্পর্কে আল কুরআনে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকুকারী ও সিজদাহকারীদের জন্য পবিত্র কর। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১২৫) আর ইতিকাফের বিধান বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে : আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।’ (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৭)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (সহীহ বুখারী : হাদীস নং ১৯২১; সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১১৭১) হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।
অতঃপর তাঁর স্ত্রীগণ তার পরবর্তীতে ইতিকাফ করেছেন। (সহীহ বুখারী : হাদীস নং ১৯২২; সহীহ মুসলিম : হাদীস নং ১১৭১) আর আতা আল খুরাসানী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘আগে বলা হতোÑইতিকাফকারীর উদাহরণ সে বান্দাহর মতো, যে নিজেকে আল্লাহর সামনে হাজির করে বলছে : হে আল্লাহ, যতক্ষণ না তুমি ক্ষমা কর আমি তোমার দরবার ত্যাগ করব না।’ (ইবনে বাত্তাল : শরহুল বুখারী : খÐ ৪, পৃষ্ঠা ১৮২)।
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ইতিকাফ করতেন, তখন প্রাকৃতিক জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।’ (নাসাঈ : ফিল কুবরা : হাদীস নং ৩৩৬৯)। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন : ইতিকাফকারীর জন্য সুন্নাত হচ্ছে রোগী দেখতে না যাওয়া, জানাজায় হাজির না হওয়া, স্ত্রীকে স্পর্শ বা তার সাথে ঘনিষ্ঠতা না করা, খুব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ হতে বের না হওয়া। রোজা ব্যতীত ইতিকাফ শুদ্ধ নয়। অনুরূপভাবে জামে মসজিদ ছাড়াও ইতিকাফ শুদ্ধ নয়। আবু দাউদ : হাদীস নং ২৪৭৩; দ্বারা কুতনী : খÐ ২, পৃষ্ঠা ২০১; বায়হাকী ফিস্্ সুনাম : খÐ ৪, পৃষ্ঠা ৩২১; কাতহুল বারী : খÐ ৪, পৃষ্ঠা ২৭৩; আত্তামহিদ : খÐ ৮, পৃষ্ঠা ৩২০)। মানসিক প্রয়োজন ব্যতীত ইতিকাফকারীর মসজিদ থেকে বের হওয়া বৈধ নয়। যেমন, প্র¯্রাব-পায়খানা, অথবা পানাহার, যদি তা মসজিদে পৌঁছে দেয়ার কেউ না থাকে। অনুরূপভাবে প্রয়োজনীয় প্রত্যেক বস্তু, যা মসজিদে সম্পাদন করা সম্ভব নয়, তার জন্য বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হবে না। (আত্্ তামহীদ; খÐ ৮, পৃষ্ঠা ৩২৭, আলমুগনী : খÐ ৩, পৃষ্ঠা ৬৮; শারহুল নব্বী; খÐ ৩, পৃষ্ঠা ২০৮; সারহুত তাসরীব; খÐ ৪, পৃষ্ঠা ১৬৯) ‘ইতিকাফকারী জরুরি প্রয়োজনে বের হলে দ্রæত হাঁটা জরুরি নয়। বরং অভ্যাস অনুযায়ী হাঁটবে। তবে, প্রয়োজন শেষে দ্রæত ফিরে আসা ওয়াজিব।’ (আল মুগনী : খÐ-৩, পৃষ্ঠা-৬৯)।



 

Show all comments
  • পারভেজ ৬ জুন, ২০১৮, ২:৫৩ এএম says : 1
    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।