Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

মৃগী রোগীদের রোযা রাখা

| প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

রমযানে মৃগী রোগীদের রোযা রাখা, অনেকটা কষ্টকর ও সাধনার ব্যাপার । এসময়ে ডাক্তারের পরামর্শ ও রোগীর অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে যথেষ্ট সামলে চলতে না পারলে তার বিভিন্ন রকম বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে । মৃগী রোগীদের রোযা থাকার জন্য সৎসাহস, অপরের সহযোগিতা গ্রহণের সদিচ্ছা, আধ্যাত্বিক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে কিছু নিয়ম মেনেচলা অবশ্যই দরকার ।
নিয়মিত ঔষধ গ্রহণঃ মৃগী রোগীদের সুস্থভাবে রোযা রাখার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এপিলেপ্সির নির্দিষ্ট ঔষধ নিয়মিত ভাবে খেয়ে যাওয়া । রোযা রাখতে গিয়ে একটা ডোজও যেন মিস না হয় সে ব্যাপারে দ্বিগুণ সচেতন (নিজের খেয়াল রাখা, অপরের মনে করিয়ে দেওয়া, অ্যালার্মের সাহায্য নেওয়া ইত্যাদি) থাকা দরকার । নিয়মিত ঔষধ সেবন নিশ্চিত করার জন্য বাসায় কিছু অতিরিক্ত ঔষধ জমা রাখা প্রয়োজন । মৃগী নিয়ন্ত্রণে সকালে ও বিকালে ঔষধ খেয়ে আসলে ইফতার ও সেহেরির পর ঔষধ খেয়ে সুস্থভাবে রোযা রাখা সম্ভব । দিনে দুবারের বেশি ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে, তার জন্য রোযা রাখা কঠিন ও বিপদজনক হতে পারে ।
পর্যাপ্ত ঘুমঃ মৃগী রোগীদের ভাল থাকার জন্য পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম একান্ত দরকার । রোযায় সেহেরি করতে গিয়ে দৈনন্দিন ঘুমের পরিমাণ কমে যায় এবং বছরের বাকি সময়টায় যে ধাঁচে ঘুমিয়ে সে অভ্যস্ত, এসময়ে তার ব্যাঘাত ঘটে । তাই রোযার দিনে, বিশেষ করে ভোররাতে যখন সে সেহেরির জন্য ঘুম থেকে উঠে হাত থেকে কিছু পড়ে যাওয়া, কথা আটকে যাওয়া, মাটিতে বা সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে ব্যথা পাওয়া ও অজ্ঞান হওয়াসহ বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে । এসকল বিপদ মোকাবেলায় যা করা উচিত,
সন্ধ্যারাতে ইবাদাতসহ অন্যান্য কাজ সংক্ষিপ্ত করে একটু আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়া, যেন ঘুমের ঘাটতি যথাসম্ভব পুষিয়ে নেওয়া যায় ।
ভোররাতে ‘সময়’ ও শরীরের সুবিধা অনুযায়ী বিছানা ত্যাগ করা ।
টয়লেটের কাজ সারা, টুথব্রাশ করা, সেহেরি খাওয়া, ওযু করা ও নামায পড়া ছাড়া অন্যান্য কাজ অবস্থা বুঝে যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত । খারাপ লাগলে বা মৃগীতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্লেট ধোওয়া, ভাত-তরকারি বাড়া, গ্লাসে পানি নেওয়া ও পানি পান করাসহ অন্যান্য ব্যাপারে নিঃসংকোচে অপরের সহযোগিতা চাওয়া যেতে পারে । তাতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়িয়ে তার পক্ষে মহামূল্যবান রোযা আদায় করা অনেকটা সহজ হয়ে যায় ।
পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি গ্রহণঃ মৃগী রোগীদের খাদ্য চাহিদা সাধারণের চেয়ে বেশী । অল্প খেয়ে বা সেহেরি না করে রোযা রাখলে, রোজাদার এপিলেপটিকসদের বিভিন্ন অসুবিধা হতে পারে । তাই রোযায় ইফতার থেকে শুরু করে সেহেরি পর্যন্ত টাটকা, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাদ্য খেতে হবে অল্প অল্প করে বারবার । যেন এপিলেপ্সির কোন অসুবিধা না করে, শরীর সুস্থভাবে টিকে থাকতে পারে উপবাসের একটা বড় সময় । পানিশূন্যতায়ও মৃগীর প্রকোপ হতে পারে । তাই রোযা ভাঙ্গা থেকে শুরু করে প্রচুর পানি খেতে হবে রয়ে সয়ে । চা, কফি, চকলেট ও অ্যালকোহল প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেহে পানির ঘাটতি ঘটাতে পারে । তাই এসময়ে এগুলো না খাওয়াই ভালো ।
শারীরিক ও মানসিক চাপঃ মৃগী রোগীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম । তাই রোযা থাকা অবস্থায় তাদের দাঙ্গা হাঙ্গামা, ঝগড়াঝাটি, মানসিক অশান্তি ও অধিক কাজকর্ম এড়িয়ে চলা উচিত । রোযায়, মৃগী রোগীদের দীর্ঘক্ষণ নামায ও কুরআন তেলাওয়াত করতে গিয়েও, খুব একটা জানান না দিয়ে সে পড়ে যেতে বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে । তাই ফরয ইবাদতের পাশাপাশি শরীরের অবস্থা বুঝে অন্যান্য ইবাদতে শামিল হওয়া উচিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অসীম দয়ালু, অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময় । তিনি রোজাদার মৃগীরোগী ও অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদের ইবাদত পালনে যাবতীয় দোষ-ত্রুটি ও অনিচ্ছাকৃত অপারগতা তাঁর নিজ গুণে সহজেই ক্ষমা করে দিতে পারেন ।

-ডাঃ এন ইউ মাহমুদ
বাংলাদেশ এপিলেপ্টিক সোসাইটি
মোবাইল: ০১৮২৮৬০৪৯৬৩
ইমেইল: nasiruddin1544@gmail.com



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।