Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫, ০৭ যিলহজ ১৪৩৯ হিজরী‌

‘স্যার আপনি ওখানে আছেন জানলে আসতাম না’

বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ জুন, ২০১৮, ৪:২৬ পিএম

স্যার আপনি ওখানে আছেন জানলে আসতাম না। ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় আন্তঃবিভাগীয় ছিনতাইকারী চক্রের নেতা বটলা সেলিম আটকের পর বিয়ানীবাজার থানার ওসি শাহজালাল মুন্সিকে দেখে এমন উক্তি করে।
বিয়ানীবাজার থানার একটি ছিনতাই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আন্তঃবিভাগীয় ছিনতাইকারী একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। পাশাপাশি আটক করেছে ৩ ছিনতাইকারীকে। আটক ছিনতাইকারীরা সিলেট বিভাগের প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে ছিনতাই করে আসছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ৫ জনের এই চক্র রমজান মাসে ৩০ লাখ টাকারও বেশি ছিনতাই করেছে।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি শাহজালাল মুন্সি ৩ ছিনতাইকারীকে আটকের পর মঙ্গলবার রাতে বিয়ানীবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছেন। ওসি জানান, আন্তঃবিভাগীয় ছিনতাইকারী সেলিম আহমদ ওরফে অনিক ওরফে বটলা সেলিম (৩০), পিতা-মৃত চুনু মিয়া, সাং-উসনপুর,এ/পি রঙ্গির কুল, থানা-কুলাউড়া, জেলা-মৌলভীবাজারকে সোমবার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাড়ী থেকে আটক করে। তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দনবাগ গ্রাম থেকে বেলাল আহমদ ওরফে জাকির (৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল জলিলকে এবং সিলেট নগরীর উপশহর থেকে এনামুল হক (৩০), পিতা-আব্দুস ছালাম, সাং-হবিবপুর, থানা-জগন্নাথপুরকে আটক করে।
ওসি শাহজালাল মুন্সি জানান, গত ১৭ মে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক থেকে ২ লাখ উত্তোলন করে সিএনজি যোগে বাড়ী যাওয়ার পথে এক মহিলার ২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থানায় মামলা হলে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ছিনতাইকরীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ৩ ছিনতাইকারী শুধু রমজান মাসেই তারা বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করে ৩০ লাখ টাকারও বেশি ছিনতাই করেছে জানিয়েছে। তারা ৫ জনের গ্রুপ সর্বশেষ ছাতক উপজেলায় ছিনতাই করে। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের বাড়ী সামন থেকে তারা ৩ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে আসে।
পুলিশের কাছে ছিনতাইকারীরা এও স্বীকার করেছে তারা একেক দিন প্রবাসী অধ্যুষিত একেক উপজেলাকে বাছাই করে অপারেশন করতো। বিভিন্ন ব্যাংককে টার্গেট করে তাদের মধ্যে একজন ব্যাংকে অবস্থান নিত আর দেখতো কে কত টাকা উত্তোলন করছে। ছিনতাইকারীরা বেশির ভাগ মহিলাদের টার্গেট করে ছিনতাই করতো বলে পুলিশকে জানিয়েছে। ওসি জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা দামী মোটর সাইকেল ছিনতাই কাজে ব্যবহার করতো। অপারেশন সাকসেস হলে মোটর সাইকেলের ভাড়া বাবৎ ৫০ হাজার টাকা মোটর সাইকেলের মালিককে দেওয়া হতো। বাকী টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিত।
ওসি মঙ্গলবার রাতে ৩ ছিনতাইকারীকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেন। এ সময় তারা ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য পুলিশকে প্রদান করে। এ সময় ছিনতাইকারী বটলা সেলিম ওসি শাহজালাল মুন্সিকে দেখে বলে স্যার আপনি এই থানায় আছেন জানলে এখানে ছিনতাই করতে আসতাম না। ছিনতাইকারীদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে পলাতক ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের ধারণা এই চক্রের পলাতক ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলে সিলেট অঞ্চলের ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটা কমে যাবে।
ওসি জানিয়েছেন, সোমবার ও মঙ্গলবার তার নেতৃত্বে ওসি তদন্ত জাহিদুল হকসহ বিয়ানীবাজার থানার বেশির ভাগ পুলিশ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালায়। আটক ছিনতাইকারী একেকজনের নামে বিভিন্ন থানায় ৮/১০টি করে মামলা রয়েছে বলে ওসি নিশ্চিত করেন। বুধবার আটক ৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।



 

Show all comments
  • Mohammad Hossain ১ জুলাই, ২০১৮, ৮:১৮ এএম says : 0
    এই সমস্ত নরপশুর দলকে আইনের কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে সবচেয় ভালো কাজ হলো "Encounter on the spot"
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ