Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

অমুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিতে .... হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর অনুকরণীয় আদর্শ

সৈয়দ শামীম শিরাজী | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর অকল্পনীয় সহনশীলতা, ধৈর্য্য শক্তি, চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, চলাফেরা, আদব-কায়দা। শিষ্টাচার, সুমধুর ব্যতিক্রমী ব্যবহার, নিষ্ঠাবান সংগ্রামী জীবন, তার পর্যবেক্ষণ পারদর্শিতা, বিচক্ষণতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা, নারী অধিকার, মানবাধিকার, অসামপ্রদায়িক রাজনৈতিক মনোভাব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সকল ধর্মের মানুষের প্রতি মানবাধিকার ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে এবং সেগুলোর চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করে অমুসলিম মনীষীরা মহানবী (সা:)-এর প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব বিশ্বজোড়া খ্যাতনামা মনীষীরা সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন তিনিই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনিই জগৎ গুরু বা বিশ্বনবী। বিশেষ করে বিশ্বের সকল ধর্মের মানুষের প্রতি তার নিদারুণ সমত্ববোধ ভালোবাসা সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। মানবপ্রেমের এমন নজির সহসাই মেলে না বলেও মন্তব্য করেছেন।
হজরত মুহাম্মদ (সা:) যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মহাপুরুষ মহামানব এটা শুধু পবিত্র মহাগ্রন্থ কোরআন-হাদিস তথা ইসলামী মানুষিকতারই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং বর্তমান বিশ্বের বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী মহান ব্যক্তিরাও তার ধ্যান, জ্ঞান, চিন্তা আর কর্মের শ্রেষ্ঠত্বর একবাক্যে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা অনেকে বর্তমান যুগের গতানুগতিক মুসলমানেরা নবী (সা:)-এর প্রকৃত মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হলেও অন্যান্য স¤প্রদায়ের বিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা কিন্তু তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন করেছে। তারাও নবী (সা:)-এর জীবনের প্রতিটা বিষয়ের ওপর সুক্ষ বিচার বিশ্লেষণ তথা সম্যক পর্যালোচনা করে নবীজী (সা:) শ্রেষ্ঠত্বর প্রমাণ করেছেন।
হজরত মুহাম্মদ (সা:) হলেন সর্বশেষ বিশ্বনবী। তাঁর পবিত্র পয়গম কোন বিশেষ জাতি বা ভৌগলিক পরিসীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিলনা। তাঁর নবুওত বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের কল্যাণের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এজন্য প্রত্যেক জাতির কবি সাহিত্যিক, রাজনিতিবিদ, ধর্মগুরু তথা পন্ডিতগণ, নবীজির (সা:) প্রশংসা প্রশস্তি গেয়েছেন, তাঁর গুণাকৃতি করেছেন, উদাত্ত অবলীলাক্রমে। তাঁর এটার প্রধান কারণ হচ্ছে হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর দ্বারা প্রচারিত সনাতন ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারণ ইসলামই হলো এর একমাত্র বিশ্বজনীন তথা বিশ্বমানবতার ইহকাল ও পরকালের মঙ্গলবার্তা। এতে কোন দ্বিধা সংকোচ নেই। সন্দেহেরও কোন অবকাশ নেই।
ইউরোপ তথা বিশ্বের অন্যান্য সব মহাদেশের বহু খ্যাতনামা অমুসলিম পন্ডিত-গবেষক শেষ নবী (সা:)-এর জীবনীমূলক অনেক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। খ্রিস্টান ধর্মের ব্যক্তিরা বিশেষ করে ইংরেজি ভাষাভাষি সাহিত্যিকরাও অধিকহারে মহানবী (সা:) এর জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তারা রাসুল (সা:) এর সুমহান আদর্শ, মহত্ব, মানবতার তথা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন দিক বিশেষভাবে শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করেছেন। অমুসলিম লেখকদের মধ্যে গদ্য আর পদ্য ব্যতীত সে সকল লেখক শেষনবী (সা:) এর জীবনী তথা গবেষণাধর্মী রচনা এমনকি কাব্য রচনা করেছেন। তারাও আধুনিক বিশ্বের দরবারে মহানবীকে আদর্শ মানব, মহান বিপ্লবী, ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতা, শ্রেষ্ঠ মানব এবং মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদের মধ্যে ফরাসী লেখক আলফ্রেড দ্য ল্যামারটাইন, বীরযোদ্ধা নেপোলিয়ন বোনাপার্টি, ইংরেজি পাদ্রী বচওয়ারাথ স্মিথ, স্ট্রিফেন, পন্ডিত টয়েনবী, ঐতিহাসিক গিবন, থমাস, কার্লাইল, আলবার্ট জনসন প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ভারতীয় পন্ডিতদের মধ্যেও জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীজী, স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহরু, স্যার পিসি রাম, স্বামী আহিয়ার, স্বামী বিবেকানন্দ, সবোজনী নাইডু, এনি এ বেচান্ত, বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, সুশান্ত ভট্টচার্য, এম এন রায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বি এন পান্ডে, স্বামী লক্ষী শংকরাচার্য আরও অনেকে। মহানবী (সা:) এর ওপর এসকল মনীষীদের মূল্যবান বক্তব্য তথা দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ইতিমধ্যে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর গুণাবলীর জন্য তিনি যে সমগ্র জাতির মধ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সেটা পৃথিবীর বহু বিখ্যাত অমুসলিম ঐতিহাসিক তথা চিন্তাবিদগণ নানা প্রসঙ্গে স্বীকার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন বরেণ্য মনীষীদের উক্তি এখানে তুলে ধরা হলো।
ইনসাইক্লোপিডিয়া রিটেনিকার সুবিখ্যাত লেখকের বক্তব্যেই এর উজ্জ্বল প্রমাণ বহন করে। “OF ALL THE RELIGIOUS PERSONALITIES OF THE WORLD HAZRAT MOHAMMAD WAS THE MOST SUCCESSFUL”
মনীষী ড্রেপারের ভাষায়- “THE MAN WHO OF ALL MEN HAS EXCERCISED THE GREATEST INFLUENCE UPON THE HUMAN RACE” (হজরত মুহাম্মদ (সা:) ছিলেন সেই রকম একজন ব্যক্তি যিনি মানব সমাজের ওপর সব চাইতে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।)
হজরত মুহাম্মদ (সা:) ছিলেন বিশ্বের একজন বিপ্লবী নেতা। সাড়া বিশ্বের বুকে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত চিরস্মরণীয় ঐতিহাসিক বিপ্লব সম্পর্কে পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, ১৭৭৬ সনের আমেরিকা বিপ্লবে এর ১৩টি প্রদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশিকতার থেকে মুক্ত করে। “জাতীয় স্বাধীনতা প্রদান করেছিল। ১৭৮৯ সালের “ফরাসী বিপ্লবে একছত্রী রাজতন্ত্র তথা পুরানো ফরাসী অভিজাত্যক দমাতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবে সপরিবারে হত্যা করে মার্কবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই তিনটি ঐতিহাসিক অন্যতম বিপ্লব রাজনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে মানব জীবনের ওপর কোন ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। কিন্তু মহানবী (সা:) দ্বারা পরিচালিত সংঘটিত বিপ্লবে মানব জীবনের প্রতিটি বিষয় যেমন- ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবর্তন এনেছিল। পৃথিবীর একটা অধ:পতিত জাতির মধ্যে এই বিপ্লবে নব শক্তির সঞ্চার করেছিল। যেটা আমরা উল্লেখিত বিশ্বের বিখ্যাত বিপ্লবসমূহের মধ্যে দেখতে পাইনা। এক্ষেত্রে বিখ্যাত ঐতিহাসিক তথা চিন্তাবিদ” গীবন-এর উক্তি প্রনিধানযোগ্য তার ভাষায় ইসলামের অভ্যুর্থানে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরাট বিপ্লবের সৃষ্টি করেছিল। মানবসমাজে যার প্রভাব ছিল দির্ঘস্থায়ী ও সুদুরপ্রসারী। (ONE OF THE MOST MEMORABLE REVOLUTIIONS WHICH IMPRESSED A NEW AND LASTING CHARACTER ON THE NATIONS OF THE GLOBE.)
মহিশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে, এস, রামকৃষ্ণ ১৯৭৯ সনের হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর বিশ্বজনীন আদর্শের প্রতি অভীভূত হয়ে “MUHAMMAD-THE PROFET OF ISLAM” নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। তার মতে, পৃথিবীর একজন সুযোগ্য নাগরিক হিসাবে পরিচয় দিতে হলে বিশ্বের মানবজাতিকে প্রভাবিত করা ধর্ম আর দর্শনসমূহ অধ্যায়ন অপরিহার্য, যে প্রতিবেশি অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্কের সৃষ্টি করে। তিনিও বিভিন্ন মহান ব্যক্তিত্বের উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা:) কে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিপন্ন করেছে।
১৯৭৮ সনে মাইকেল এইচ হার্ট “ THE Hundred” নামের একটি বই প্রকাশ করেন। এই বইটিতে যুগ যুগান্তের ইতিহাশের শ্রেষ্ঠতম একশজন ব্যক্তির জীবন তথা ধর্ম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। সেই লেখক ও ইতিহাস অনুসন্ধান করে সেই সকল ব্যক্তির এই গ্রন্থে স্থান দিয়েছে- সে সকল ব্যক্তি বিশ্বের মানবজাতির ওপর সবচাইতে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। এ গ্রন্থখানায় আইজ্যাক নিউটন অশক, এরিস্টটল, গৌতমবুদ্ধ, কনফুচিয়াছ, যীশু, হিটলার, প্লেটো এবং মহাত্মা গান্ধীরসহ বিশ্বের বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি তবু এই একশ’ জন তালিকা করেই তার দায়িত্ব পালন শেষ করেননি। বরং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের জীবন তথা কর্মের উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ একত্রিত করে তার যথার্থ মূল্যায়নও করেছেন এবং সেই দিক থেকে যাকে যেভাবে পরিচিতি করা প্রয়োজন ঠিক তাই করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো- এই বিখ্যাত গ্রন্থে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে যে স্থানটি নির্ধারণ করেছে তার মধ্যে হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর স্থান হচ্ছে প্রথম। একজন অমুসলিম নেতৃত্বাধীন একদল গবেষকরা গভীরভাবে তথা নিরপেক্ষ গবেষণায় নবী মুহাম্মদ (সা:)ই বিশ্বের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই গবেষকগণ কিন্তু মুসলমান নয়- একজন খ্রিস্টান। সেও নিজের বক্তব্যের দৃঢ়টা প্রদর্শন করে বলেছেন- “ÒMUHAMMAD UNLIKE JESUS WAS SECULAR AS WELL AS RELIGIOUS LEADER… HE MAY WELL RANK AS THE MOST INFLUENTIAL POLITICAL LEADER OF ALL TIMES.IT IS THE UNPARALLELED COMBINATION ON SECULAR AND RELIGIOUS INFLUENCE WHICH I ENTITLE MUHAMMAD TO BE CONSIDERED MOST INFLUERRTIAL SINGLE PERSON IN HUMMAN HISTORY”
ভারতের একজন বিখ্যাত পন্ডিত মানবেন্দ্রনাথ রায় (১৮৮৭-১৯৫৪) তার বিখ্যাত লেখা গ্রন্থ “THE HISTORICAL ROLE OF ISLAM” সে হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর বিস্ময়কর কৃতকর্মের ওপর করা কেইটম্যান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মন্তব্যে প্রণিধানযোগ্য। রেডিক্যাল হিউম্যানিষ্ট আন্দোলনের অগ্রদূত লেলিন, ব্যালিনর সহকর্মী, সুপ্রিম সোভিয়েটের পলিটব্যুর সদস্য রায় আসিল সুক্ষ বিশ্লেষণতপার্গত তথা মানব সভ্যতার প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গীয় অধিকারী। তিনিও ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, লেখক ও বিজ্ঞানী। ত্রিশের দশকের জেলে থাকা অবস্থায় তিনি ইসলামের ওপর গভীরভাবে অধ্যায়ন করে উল্লেখিত শিরোনামের একটি অসাধারণ গ্রন্থের ভূমিকাতে তিনিও এইভাবে মন্তব্য করেন, মহাপুরুষ মুহাম্মদ (সা:)-এর অনুশাসিত ইসলামের আকস্মিক উত্থান তথা নাটকীয় বিস্তৃতি মানব জাতির সভ্যতার ইতিহাসের একটি বিরাট চমকপ্রদ অধ্যায়। (THE APPARENTLY SUDDER RISE AND DRAMATIC EXPANTION OF MOHAMMADANISM CONSTITUTES ALMOS FASCINATING CHAPTER IN THE DISTORY OF MANKIND).
ইতিহাসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি মুহাম্মদ (সা:)-এর পরাক্রমী শক্তির বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন, বীর ট্রাজানর সাহায্যে আগাষ্টাচর রোম সম্রাজ্য জয় ও এর ভিত্তি স্থাপনের সময় লেগেছিলো ৭০০ বছর তথাপি ১০০ বছরেরও কম সময়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করা আরব সম্রাজ্যের সমকক্ষতা লাভ করতে পারেনি।
আলেকজেন্ডার বিশ্ব বিজয়ী খেতাপ অর্জনের পর দেখা গেলো যে ইসলামের খলিফাগণের শসনাধীন বিশাল ভূ-খন্ডের তুলনায় যৎ সামান্য অংশে তিনি অধিকার করেছিলেন।
প্রায় ১০০ বছরে যে পারস্য সম্রাজ্যে রোমের আক্রমণের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পেরেছিল মাত্র ১০ বছরের কম সময়ে মুহাম্মদ (সা:) ইসলামী শক্তির বলে সেই পরাক্রমী পারস্যই আত্মসম্পূর্ণ করতে বাধ্য হয়। তাই প্রশ্ন জাগে আধুনিক কোনো ঐতিহাসিক কি মুহাম্মদ (সা:) ইসলামের এই অপরূপ তথা অভিনব অলৌকিত্বর হাসিল করতে প্রয়াস পাবে?
আলফ্রেড মার্টিনে তিনিও “THE GREAT RELIGIOUS TEACHER IN THE EAST” গ্রন্থে লিখেছেন, “মুহাম্মদ (সা:) এর মতাদর্শই আরবের তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনে যেভাবে সফলতা লাভ করেছিল, বিশ্বের দ্বিতীয় কোন ধর্মীয় ইতিহাসে তার কোন নজির পাওয়া যায় না।”
বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক ঝঃধহবষু খধহব চড়ড়ষ এর ভাষায় ধর্ম এবং সততার প্রচারক হিসাবে মহানবী (সা:) যেমন শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলো; একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসাবেও তিনি ছিলেন তেমনি শ্রেষ্ঠ।
স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়- আমার দৃষ্টিতে মহানবী (সা:)ই হচ্ছেন- সেই মহাপুরুষ যিনি বিশ্বজগতে সাম্যভাবের বার্তাবহন করে এনেছেন। তিনি হলেন, সাম্যবাদের প্রবাদপুরুষ। তিনিই মানবজাতির ভাতৃভাবের এনে দিয়েছিলেন বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে। তিনিই ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ বটে।
হজরত মুহাম্মদ (সা:)কে নারী জাতির মুক্তির প্রবক্তা হিসাবে প্রদান করে কবি বচন্ড বার্থ স্বীয় কবিলাইন, সাবোজিনীনাইডু, ক্রাবাইট প্রমুখ বিশ্ব বিখ্যাত মনীষীগণ ঘোষণা দেন যে, “নারী জাতিদের অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে মহানবী (সা:) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান রেখে গেছেন। ইতিপূর্বে কেউ এভাবে নারী জাতির অধিকার প্রদান করেনি।”
ইসলামের গণতান্ত্রিক প্রেরণাই নারী জাতিকে পুরুষের গোলামি থেকে মুক্তিদান করেছে। মহানবী (সা:)ই পৈতৃক সম্পত্তি এ নারীর অধিকার প্রদান করে গেছেন। নারীরা যে সম্পত্তির ওয়ারিশ হতে পারে এটা হজরত (সা:) বহু শতাব্দী পূর্বেই সাবস্ত করে গেছেন। তিনিই বিশ্বের বুকে প্রথম ব্যক্তি যিনি সাংবিধানিকভাবে নারী জাতির এই অধিকার প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় ১২ শত বছর পরে যখন ইংল্যান্ডে গণতন্ত্রর “প্রসুতিঘর” বলে বলা হয়- সেই ইংল্যান্ডের ১৮৮১ সনে এ ইসলামের নীতি গ্রহণ করা এবং বিবাহিতা নারী আইন। (ঞঐঊ গঅজজওঊউ ডঙগঊঘ’ঝ অঈঞ) নামের আইন পাস করা হয়। অথচ কত শত বছর আগেই ইসলামে নবীজি (সা:) ঘোষণা করেন।
নারী হচ্ছে পুরুষের অর্ধাঙ্গিণী। নারীর অধিকার পুত্র পবিত্র। সাবধান! নারীদের তাদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।
মহানবী (সা:) সেই পুরুষ, যার জীবনের শেষের ২৩টি বছর চিন্তা এবং কর্মের দ্বারাই মানবসভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তিনি সেই পুরুষ যিনি এক সার্বজনীন বাণীর ভিত্তিতে এক বিশ্বজনীন আদর্শপ্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এজন্যই তিনি জগৎ গুরু বা বিশ্বনবী (সা:)। এ সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত ইংরেজ পন্ডিত জর্জ বার্নাড’শ এভাবে মন্তব্য করেন।
“IF A MAN LIKE MUHAMMAD WERE TO ASSUME THE DICTATORSHIP OF THE MODERN WORLD HE WOULD SUCCEED IN SOLVING ALL IT’S PROBLEMS IN A WAY THAT WOULD BRING SO MUCH NEEDED PEACE AND HAPPINESS”
যদি মহানবী (সা:)-এর মত কোনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি আধুনিক বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারতেন তবে তিনি বর্তমান জগতের সমস্যাবলীর সকল সমাধান টেনে দিতেন। যিনি মানুষের বহু আশা-আকাক্সক্ষা আর সুখ-শান্তি এনে দিতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হতেন। এজন্যই বলা হয় “ISLAM IS THE COMPLITE CODE OF LIFE” (ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা)। হজরত মুহাম্মদ (সা:) পরিচালিত প্রস্থাবিত ঐশী বিধান যে কালজয়ী এবং তিনি যে সর্বকালের উপযোগী চিন্তাবিদ ছিলেন তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
লেখক : কবি, সাংবাদিক, কণ্ঠশিল্পী



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।