Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নাগরিকত্ব প্রশ্নে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর ক্ষোভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রত্যাবাসন প্রশ্নে মিয়ানমার সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে রোহিঙ্গাদের হতাশার কথা জানা গেছে আগেই। এবার ওই চুক্তির প্রক্রিয়া আর অস্পষ্টতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা সংগঠন। তাদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে যতোটুকু যা জানা গেছে, তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নের কোনও মীমাংসা করা হয়নি। রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে, মিয়ানমার সরকার ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেনি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র সঙ্গে গত ৬ জুন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে মিয়ানমার সরকার। গত ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এই চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন মিয়ানমারে নিয়োজিত জাতিসংঘের আবাসিক এবং মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি। ১০ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো ওই চুক্তি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মিয়ানমার সরকার সমঝোতা চুক্তি সম্পন্নের পর দাবি করে, এর মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। তবে মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। তাদের ‘বাস্তুচ্যুত মানুষ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ১০ জুন রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, চুক্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের ‘মূল কারণ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়নি; বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি সুরাহা করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসনের জন্য শরণার্থীদের ‘নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব ও অধিকারের’ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো নিশ্চিত হলেই তারা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করতে পারবে। শিবিরে বসবাসরত এক রোহিঙ্গা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমার ফ্রন্টিয়ারকে চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পূর্ববর্তী উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘লোকজন (রোহিঙ্গা) চিন্তায় আছে, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করেই যদি তারা ফিরে যায় তবে আগের মতো অবস্থা হবে।’ মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ও মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি ফ্রন্টিয়ারকে বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যথাযথ পরিবেশ গড়ে তোলার কাজে সহায়তার জন্য ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেছে।’ সমঝোতা চুক্তি সংক্রান্ত মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, ২৫ বছর আগে ২ লাখ ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুতর প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে সহায়তা করেছিল মিয়ানমার।’ তবে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো মিয়ানমার ও জাতিসংঘের মধ্যে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী প্রত্যাবাসন চুক্তিগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বলছে, সেই চুক্তিগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর পুনর্নির্মাণ করে দিতে এবং তাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীসহ ‘রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক ক্রীড়ানকদের’ প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা নিধনে দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করারও সুপারিশ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই, তাদের মতামত ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে। এমনকী ওই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ও মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি জানান, চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ফ্রন্টিয়ারকে তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি হলো ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক রূপরেখা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আইনি চুক্তি। সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু প্রকাশের ব্যাপারে তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিন পক্ষেরই সম্মতি লাগবে। বাংলাদেশে থাকা শরণার্থী ও রাখাইনের সব স¤প্রদায়ের লোকজনসহ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করার কথা রয়েছে জাতিসংঘের দুই সংস্থার । ফ্রন্টিয়ার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নাগরিকত্ব


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ