Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ট্রাম্পের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের বিক্ষোভ

| প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিরুদ্ধে নিউ জার্সি ও টেক্সাসে বিক্ষোভ হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের আটককেন্দ্রের সামনে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতার নেতৃত্বে রবিবার (১৭ জুন) এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে যোগ দেয় হাজার হাজার মানুষ। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় তারা। উল্লেখ্য, মেক্সিকোর অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত কঠোর অভিযানে বিপুল পরিমাণ পূর্ণ বয়স্ক নারী-পুরুষ আটক হওয়ায় ১৯৯৫ জন শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের রুখতে স¤প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলে আসছেন,তিনি নতুন কোনও অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেননি। বিগত ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের নেওয়া নীতি মেনেই মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। অবশ্য অবৈধ অভিবাসীদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নকরণের ঘটনা পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোতেও দেখা গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সে সংখ্যাটা অনেক কম ছিল। অতীতে দেখা গেছে, যেসব লোক অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতো এবং অপরাধের কোনও রেকর্ড ছিল না তাদেরকে আইনের আওতায় অপরাধী সাব্যস্ত না করে শুধুই অস্থায়ীভাবে আটক করা হতো কিংবা বিতাড়িত করার সুপারিশ করা হতো। মা ও শিশুরা সাধারণত একসঙ্গেই থাকতো। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীর বিরুদ্ধে আইনগত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার প্রথম ৬ সপ্তাহেই প্রায় ২ হাজার শিশু পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অতীতে এমন নজির দেখা যায়নি।
রবিবার টেক্সাসের ম্যাকালেনে বর্ডার পেট্রোল প্রসেসিং সেন্টার পরিদর্শন করেন সিনেটর জেফ মের্কেলিসহ বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রনেতা। টেক্সাসের সিনেট আসনের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বেটো ও’ রোরকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। বিক্ষোভে যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। অবৈধ অভিবাসন প্রত্যামদের কাছ থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ বন্ধের আহŸান জানান তারা। যা ঘটছে তার বোঝা বহনের জন্য বিক্ষোভকারীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন বেটো ও’ রোরকে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমাদের অনেকের জন্য এ বোঝা অস্বস্তিদায়ক হোক, যেন আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হই। যারা জনগণের আস্থার জায়গায় আসীন আছেন এবং আমাদের দেশের জন্য যাদের সঠিক কাজটি করার ক্ষমতা আছে, তাদের ওপর এটি চাপ তৈরি করবে।’
শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কতিপয় সংস্কারপন্থী রিপাবলিকানও ট্রাম্পের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র বিরোধী। অভিবাসন প্রত্যাশীদের সন্তানদের তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না করতে ট্রাম্পের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন তারা। শনিবার এ নীতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে হোয়াইট হাউসকে চিঠি লিখেছেন সিনেটর সুসান কলিনস ও জেফ ফ্লেক।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শিশুদের এই বিচ্ছিন্নকরণ প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী করছেন ‘ডেমোক্র্যাটদের প্রণীত’ আইনকে। তবে অতীতের অভিবাসন নীতির সঙ্গে সা¤প্রতিক পদক্ষেপের পার্থক্য টানতে গিয়ে সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন সে দেশের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নেওয়া সিদ্ধান্তকে। ডিপার্টমেন্টের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স-এর গত মাসে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন, অপরাধী-নিরপরাধ নির্বিশেষে প্রথমবারের মতো কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। শিশুদের যেহেতু অপরাধী বিবেচনা করার সুযোগ নাই, সে কারণে তারা পূর্ণ বয়স্ক অভিভাবকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর-হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে,১৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে সময়ের মধ্যে আটক হওয়া ১৯৪০ পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা ১৯৯৫ জন শিশু পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে কার বয়স কতো, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়নি। ওই শিশুরা হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের তত্ত¡াবধানে রয়েছে। রবিবার সিবিএস-এর ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে কলিন্স বলেন, ‘এসব শিশুকে তাদের মা-বাবা থেকে আলাদা করাটা আমাদের আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্পে


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ