Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ঢাকায় ফিরছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বাস ও লঞ্চে যাত্রী স্বাভাবিক হলেও গতকাল ঢাকামুখী ট্রেনে ছিল প্রচন্ড ভিড়। তিনদিন ছুটি শেষে গতকাল সোমবার সচিবালয়, ব্যাংকসহ অফিস আদালত খুলছে। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা রাজধানীতে ফিরছেন। অনেকে ভিড় উপেক্ষা করতে ঈদের পরের দিনই কর্মস্থলে রওনা করেছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ ছুটি শেষে গতকাল ফিরেছেন। এ কারণেই ট্রেনে ভিড় অনেক বেশি বলে জানা গেছে। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় সড়ক পথে যাত্রীর চাপ খুব একটা ছিল না। লঞ্চেও যাত্রী ছিল স্বাভাবিক। সড়ক পথে ঈদ যাত্রায় কোথাও কোথাও ভোগান্তি হলেও ফেরার সময় তা হয়নি। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে নেত্রকোণা ‘হযরত শাহ জালাল (রা.) এক্সপ্রেস’ বাস ভাড়া ২৮০ টাকা সেই ভাড়া ঈদের আগে ও পরে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ‘এনা’ বাসের ভাড়া ২২০টাকা ঈদের তিনদিন আগে ও পরে ওই ভাড়া ২৭০ টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের সামনে যে বাসের ভাড়া ২৮০ টাকা তাতে ৬০০ থেকে ৭০০টাকা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছে অথচ পুলিশ নীরব। তাদের কাছে নালিশ করে বলে আমাদের কিছুই করার নেই।’
যানজট আর জনজটের নগরীর সেই চিরচেনা রূপ গতকাল ছিলনা। রাজধানীর পরিচিত রূপ পেতে আরো সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে বলে অনেকের ধারণা। ঈদের একদিন আগে থেকেই ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা। গতকালও তার ব্যতিক্রম ছিল না। রাস্তায় যানবাহন খুব একটা ছিল না। মার্কেট, বিপনীবিতানসহ পাড়া মহল্লার অধিকাংশ দোকানই ছিল বন্ধ। অফিসপাড়ার প্রথম দিন ছিল ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। একইভাবে ব্যাংকপাড়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লেনদেনও খুব একটা হয়নি।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষ ট্রেন ছাড়াও অর্ধশতাধিক ট্রেন গতকাল ঢাকায় আসার কথা। ঈদের ছুটি শেষে প্রতিটি ট্রেনেই উপচে পরা ভিড়। স্টেশন ম্যানেজার জানান, এবার ঈদে ট্রেনের উল্লেখযোগ্য কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। চট্টগ্রাম থেকে আসা শফিকুল বলেন, গ্রাম থেকে আসতে ইচ্ছা করে না। সোমবার থেকে অফিস করতে হবে এজন্য আসতে হলো। ট্রেনে আসতে পথিমধ্যে কোনো ভোগান্তির শিকার হতে হয় নি বলে জানান তিনি। সিলেট থেকে আসা হালিম জানান, পরিবার নিয়ে ঈদে করতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। প্রতি বছর বাসে যাতায়াত করেন। এবার করেছেন ট্রেনে। এবার ট্রেনে আসা-যাওয়া করে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। যানজট বা কোনো ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, যারা আগে বাড়ি ছেড়ে এসেছেন তারা অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে রাজধানীতে ফিরতে পেরেছেন। বরিশালের ইসমাইল বলেন, ঈদের আগে সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সে তুলনায় ফিরতে পেরেছেন ভোগান্তি ছাড়াই। অনেকটা আরামেই ঢাকা ফিরতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। বিআইডব্লিটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (ট্রাফিক) জানান, ঈদে যাত্রীর প্রচÐ চাপ থাকলেও এবার রাজধানী ছেড়ে যাওয়া কিংবা রাজধানীতে ফেরা কোনো ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভিড় চোখে পড়েনি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর