Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ০৬ ভাদ্র ১৪২৫, ০৯ যিলহজ ১৪৩৯ হিজরী‌

সড়কে ব্যাপক ক্ষতি

| প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

রফিকুল ইসলাম সেলিম : টানা বর্ষণ, প্রবল জোয়ার আর পাহাড়ী ঢলে চট্টগ্রামের সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে নগরীর ২০ শতাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক বিভাগ ও এলজিইডি এখনও ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করছে। তবে মহানগরীর তুলনায় গ্রামীণ জনপদে সড়কের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক এলাকায় সড়ক-কালভার্ট ধসে গেছে। মহানগরীর বেশিরভাগ সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বেহাল সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। যানবাহনে চলতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছে নগরবাসী। ঈদের ছুটির পরপর মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক পোর্ট কানেকটিং রোড ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে চলছে উন্নয়ন কাজ। ফলে ওই দুটি সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মক বিঘিœত হচ্ছে। এই কারণে নগরীর বিশাল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। চরম দুর্ভোগের শিকার এসব এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর ভিআইপি সড়ক হিসেবে পরিচিত বিমানবন্দর সড়কের সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় অবস্থা একেবারেই বেহাল। বৃষ্টি হলেই সড়কের আধা কিলোমিটার এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি জমে যায়। এসময় সড়কে ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন ও ট্যাঙ্ক লরি চলাচল করে। সড়কে এখন বড় বড় গর্ত, ভারী যানবাহনের চাপে এসব গর্ত আরও বড় হচ্ছে।
একই অবস্থা নগরীর স্টিল মিল, কাটগড় ও পতেঙ্গা এলাকায়। কাটগড় থেকে ইপিজেড পর্যন্ত নগরীর প্রধান সড়কটির দুইপাশে কোন নালা নেই। ফলে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে যায়। আগ্রাবাদ থেকে শুরু করে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। টাইগারপাস থেকে পুরাতন স্টেশন হয়ে নিউমার্কেট থেকে লালদীঘি হয়ে আন্দরকিল্লা, জিইসি মোড় থেকে জাকির হোসেন রোড, প্রবর্তক মোড় থেকে চকবাজার হয়ে আন্দরকিল্লা, প্রায় সব সড়কেই এখন খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর ব্যস্ততম কদমতলী মোড়ের অদূরে বিআরটিসি টার্মিনাল এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণকালে নালা বন্ধ করে দেয় সিডিএ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে হাঁটু থেকে কোমর পানি জমে যায়। পানিবদ্ধতার কারণে সড়কেই ওই অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই অবস্থা নগরীর বহদ্দারহাট ও মুরাদপুর ফ্লাইওভারের নিচেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে গিয়ে নালা-নর্দমা ভরাট করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিকল করে দিয়েছে সিডিএ। এর খেসারত দিচ্ছে এলাকার বাসিন্দারা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ গতকাল (মঙ্গলবার) দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ভারী বর্ষণ, জোয়ার ও পাহাড়ী ঢলে নগরীর ২০ শতাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে ৯টি ডিভিশনে ভাগ করে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ বিঘিœত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নগরীর সড়কগুলোকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঈদের ছুটির পর সোমবার প্রথম কর্মদিবসেই মহানগরীর সড়ক অবকাঠামো পরিস্থিতি নিয়ে প্রকৌশলীদের সাথে জরুরী বৈঠকে বসেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সেখানে প্রধান প্রকৌশলী সড়কের ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। মেয়র দ্রæতসময়ে সড়ক সংস্কার করার নির্দেশ দেন।
দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর পোর্ট কানেকটিং ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের উন্নয়ন কাজ চলছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে টানা বর্ষণ ও জোয়ারে সড়ক দুটির অবস্থা এখন একেবারেই নাজুক। সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা জানান, ঈদের আগে জনদুর্ভোগ কমাতে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা হলেও এখন ফের কাজ শুরু হয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ কমিশনারসহ ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন মেয়র। খুব শিগগির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের সাথে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন মেয়র।
এদিকে মহানগরীর চেয়ে চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার সড়ক অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। উপজেলার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এলজিইডির একজন প্রকৌশলী গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সেসব এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে সংষ্কার কাজ চলছে। সড়ক বিভাগও সড়কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে কাজ করছে।
সড়ক ও জনপদের একজন কর্মকর্তা জানান, টানা বর্ষণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এসব গর্ত ভরাট করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার কাজ চলছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-হাটহাজারী আঞ্চলিক সড়কে। চট্টগ্রাম-বান্দরবান, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কেরও এখন বেহাল দশা। এতে করে ঈদ শেষে নগরীতে ফেরা মানুষকে দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ