Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবার পদত্যাগ

মতভেদে ভেঙেছে পিডিবি-বিজেপি জোট

| প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : মতভেদ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকায় প্রায় পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-পিডিবির সাথে সাড়ে তিন বছরের গাঁটছড়া ছিন্ন করলো কেন্দ্রে ক্ষশতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি। গত সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জম্মু-কাশ্মীরে পিডিবি ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যকার জোট ভেঙে যাওয়ার খবর দিয়েছে। বিজেপি জোট সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার ধারাবাহিকতায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন পিডিবি নেতা মেহবুবা মুফতি। ভারতীয় সংবিধান মোতাবেক, এখন ওই রাজ্যে গভর্নরের শাসন জারি হবে।
জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় মোট ৮৭টি আসন। ২০১৪-র মে মাসে উপত্যকায় যে নির্বাচন হয়, সেখানে পিডিপি পেয়েছিল ২৮টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ২৫টি। এছাড়া ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ১৫টি, কংগ্রেস ১২টি এবং অন্যান্যরা ৭টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি এবং পিডিপি যৌথভাবে প্রয়োজনীয় ৪৪ আসন ছাড়িয়ে ৫৩টি আসনের জোট গঠন করে। সেই জোটই এতদিন সরকার চালাচ্ছিল উপত্যকায়। তবে বেশকিছু মতাদর্শিক বিরোধের কারণে জোটগত ভাঙন সৃষ্টি হয়, যার ফলাফল এই সরকার ভেঙে যাওয়া।
ভারতীয় স¤প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির অনলাইন ভার্সনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে রমজানের মাসে উপত্যকা জুড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। তবে সেই মাসে দু’টি ভিন্ন ঘটনায় খুন হয়েছেন সাংবাদিক সুজাত বুখারি এবং সেনা জওয়ান আওরঙ্গজেব। মেহবুবা চাইছিলেন অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হোক। কিন্তু ওই দুই হত্যাকাÐের ঘটনাকে কারণ দেখিয়ে ঈদের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন। এর পরেই পিডিপি-র সঙ্গে কেন্দ্রের বিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়ে, যা জোটের ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ নিয়ে বিজেপি নেতা রাম মাধাব দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সন্ত্রাস, হিংসা এবং কট্টরবাদ উপত্যকায় সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছিল। সুজাত বুখারির খুন তার উদাহরণ।’
মেহবুবার দলের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাম মাধাব সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য স্বীকার করেছেন, সরকার গঠনের দিন থেকেই বিজেপির সঙ্গে পিডিপির বিরোধ ছিল। তার ভাষ্য, ‘আদর্শগত কোনও মিল না থাকা সত্তে¡ও আমরা সেদিন উপত্যকায় পিডিপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলাম শুধু জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে। না হলে, সেই সময়েই রাজ্য প্রেসিডেন্ট বা রাজ্যপালের শাসনে চলে যেত।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, গত এপ্রিলে কাশ্মিরের কাঠুয়াতে ৮ বছরের শিশু আসিফা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহবুবা ও বিজেপির মধ্যে দ্ব›দ্ব প্রকাশ্যে আসে। সে সময় ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পরোক্ষভাবে অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেন বিজেপির দুই মন্ত্রী। মামলার বিষয়ে সিবিআইয়ের তদন্তের দাবি করে বের হওয়া মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার দুই বিজেপি সদস্য। ওই ঘটনার পর মেহবুবা মুফতির সরকার থেকে তাদের বরখাস্ত করা হয়। যা জোটের মধ্যে ফাটলের সৃষ্টি করে।
মঙ্গলবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাম মাধব বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে পিডিপি-র সঙ্গে পথচলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার থেকে সরে আসা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।’ এর পরেই রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, দিল্লিতে বিজেপির অমিত শাহের সঙ্গে প্রদেশের ১১ জন সংসদ সদস্যের বৈঠকের পর তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মেহবুবার দলের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপি নেতা রাম মাধব দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মিরের জোটের শরিক হয়ে থাকাটা বিজেপির জন্য অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল। সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সামলানোর জন্য গভর্নরের হাতে ক্ষমতা দেয়া দরকার।’ সংবাদ সম্মেলনে রাম মাধব বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটা মাথায় রেখে ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের অভিমত, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়াই শ্রেয়।
রাম মাধবের সংবাদ সম্মেলনের পর রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। হিন্দুস্থান টাইমস বলছে, গত মঙ্গলবার মেহবুবার ওই পদত্যাগের কারণে কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল। সূত্র : ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন