Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

প্রশ্নঃ রমজানের সামাজিক প্রভাব কি ?

| প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৮, ১২:০০ এএম

উত্তর ঃ মহান আাল্লাহ তায়ালা রমজানুল মুবারক সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন- “ হে ্ঈমানদার গণ! তোমাদের উপরে সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, “রমজান মাস, এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য সৎপথের নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী” (সূরা বাকারা:১৮৫)
মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত দিয়ে আমাদেরকে মাহে রমজানুল মোবারক হাদিয়া প্রদান করেছেন। আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে মধুর সেতুবন্ধন সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এ মাসের সিয়াম সাধনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ মাসে সিয়াম সাধনাকে আমাদের জন্য ফরজ করেছেন। মাহে রমজানুল মোবারকের প্রভাব রয়েছে মানব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে। বিশেষ করে সামাজিক জীবনে রয়েছে এর বিশেষ প্রভাব। সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রোজার মাধ্যমে একজন মুমিন মুত্তাকী তথা আল্লাহ ভীরু হতে পারে। আর যিনি আল্লাহর ভয়ে সকল পাপাচার থেকে বিরত থাকেন, তিনিই মুত্তাকী। সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, রমজান মাস, এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য সৎপথের নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। সুতরাং মানব জীবনের ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পদক্ষেপে কুরআনুল কারীমের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী গঠন করার উপযুক্ত সময় হচ্ছে মাহে রমজানুল মোবরক। বুখারী ও মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, “রমজান আগমনের সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের দরজাগুলোকে উন্মুক্ত করে দেন, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেন এবং অভিশপ্ত শয়তানকে শিকলবন্দি করেন। ”
আজ সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যত অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হচ্ছে তা অধিকাংশই হিংসা বিদ্বেষ থেকে। তাইতো মুসনাদে আহমাদ ও মুসনাদে বাজ্জারে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “সবরের মাস অর্থাৎ রমজান মাসের রোজা এবং প্রতি মাসে তিনদিন রোজা অন্তরের হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেয়।” মাহে রমজানের রোজা আমাদের গরীব-দুঃখী, অসহায়, পিতৃহারা, বাস্তুহারা পথশিশুদের সীমাহীন বিভীষিকাময় ক্ষুধার যন্ত্রনা যে কত কঠিন, তা কিছুটা হলেও অনুভব করার মানসিকতা পয়দা করে দেয়। তাই আমরা এ মাসে গরীব অসহায় মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করতে পারি। কেননা ইবনে মাজা শরীফের ১৭৫৩ নং হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল সা. বলেন, “ইফতারির সময় যখন রোজাদার দোয়া করে, তখন তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না।” মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে আমরা আমাদের সম্পদের যাকাত- ফেতরা আদায় করে সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারি। কেননা আল্লাহ তায়ালা কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে, আল্লাহর রাসÍায় ব্যয় করে না, সঠিকভাবে যাকাত আদায় করে না, তাদের কঠোর আজাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।” রমজানের ফিদিয়া আদায়ের দ্বারা সমাজের হতদরিদ্র মানুষগুলো ঈদের মহা আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পায়। এ মাস আগমনের সাথে সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ আমল করতেন। যা ইবনে মাজাহ শরীফে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, যখন রমজান মাস আসত, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল বন্দিকে মুক্ত করে দিতেন এবং সকল সওয়ালকারীকে (জানতে চাওয়া ব্যাক্তিকে) কিছু না কিছু জ্ঞান দান করতেন।
এছাড়া পবিত্র রমজানুল মোবরকের রাত্রি বেলার তারাবীর নামাজ দ্বারা মানুষের মধ্যে ঐক্য ও নিবিড় সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। রমজানের রোজা রোগ মুক্তির অন্যতম হাতিয়ার । যা গবেষক ও ডাক্তারগণ প্রমাণ করেছেন। জার্মানির ডাক্তার ফেডারিক হরমেন বলেছেন, “ রোজার মাধ্যমে মৃগী রোগ, গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের নিরাময় হয়ে থাকে।”
উত্তর দিচ্ছেন : মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান সালেহী



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর