Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সুপারিশমালায় অটল রাখাইন পরামর্শক কমিশন

| প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০১৮, ১:০৬ এএম


ইনকিলাব ডেস্ক : মিয়ানমার সরকারের রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশন দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ রাজ্যটির সা¤প্রদায়িক সহিংসতা প্রশমনে ১০ মাস আগে তারা যে সুপারিশমালা পেশ করেছিল, নতুন করে সহিংসতা সত্তে¡ও তা এখনো প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের সভাপতিত্বে কোপেনহেগেনে এক সভার পর কমিশন এই মন্তব্য করে। ৮ জুন জানায়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আরসার হামলার পর নাটকীয়ভাবে রাখাইন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। কমিশনের সিনিয়র সদস্য ও মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনঃবসতিবিষয়ক মন্ত্রী ও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা উ উইন মিয়ত আয়ে বলেন, কোপেনহেগেনে সুপারিশমালার প্রাসঙ্গিকতা ও বাস্তবায়নে অগ্রগতি উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাঙ তুন, সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদ থান্ড মিয়ন্ত-ইউ, রাখাইন তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য উ কিয়াও ইয়িন হ্লাইঙ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, সুইডেনসহ সরকারি দাতাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এনএলডি সরকার ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পরামর্শক কমিশনটি গঠন করেছিল। এর ছয়জন সদস্য ছিলেন মিয়ানমারের, তিনজন আন্তর্জাতিক। তাদের দায়িত্ব ছিল মুসলিম ও বৌদ্ধ আরাকানিদের মধ্যকার চলমান সা¤প্রদায়িক সহিংসতা নিরসনের উপায় ও অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল অবস্থা কাটানোর উপায় নিয়ে পরামর্শ প্রদান করা। কমিশন প্রায় এক বছর কাজ করে ২০১৭ সালের আগস্টে তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে। এতে মোট ৮৮টি সুপারিশ ছিল। এসবের মধ্যে রয়েছে, সঙ্ঘাত এলাকায় মিডিয়া ও মানবিক সহায়তা দলকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পর্যালোচনা করা, লোকজনের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া, আইডিপি ক্যাম্পগুলো ভেঙ্গে দেয়া। সুপারিশমালা প্রকাশের পরপরই সরকার তা বাস্তবায়নে সঙ্কল্প ব্যক্ত করে। এ জন্য মন্ত্রী পর্যায়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। সুপারিমশালা পেশ করার পর পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এবার কমিশন বৈঠক করল। কমিশন তার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মাত্র আট ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট আরসার সন্ত্রাসীরা রাখাইনে ৩০টি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়। এরপরপরই মিয়ানমার সেনাবাহিনী শুদ্ধি অভিযান শুরু করলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে যায়। এসএএম।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ