Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন, হুমকির মুখে সেতু

বঙ্গবন্ধু সেতুর গ্রাম রক্ষা বাঁধে ভাঙন

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০১৮, ১২:২৬ পিএম

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে গ্রাম রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ি ও বেলটিয়া গ্রামের অর্ধ শতাধিক বাড়ি গত কয়েকদিনে যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বসত বাড়ি-ঘর ও রাস্তা ঘাট। এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুও হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। নদীর পানি বৃদ্ধি, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) গাফিলতিকেই দায়ি করছেন ঘর হারা মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী বঙ্গবন্ধু সেতুর দেড় কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে গ্রাম রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ছে। কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ি ও বেলটিয়া গ্রামের রাশিদা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমাগো পাকা দেয়াল করা ঘর, টিউবওয়েল, টয়লেটসহ সব কিছুই নদীতে চইলা গেছে। এহন অন্যের জাগায় কষ্ট করে কোন মতে থাকতাছি।’ আকবর আলী আকন্দ বলেন, গতবছরও ভাঙনে ম্যালা মাইনসের বাড়ি ঘর নদীতে চইলা গেছে। এবারও বর্ষা শুরু হওয়ায় আগেই তীব্র ভাঙন শুরু হইয়ে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে আমাদের রক্ষা নাই।’

একই এলাকার আকবর আলী আকন্দ, চাঁন মিয়া হাজী, আব্দুল আলী মন্ডল, আব্দুস সালাম, জনাব আলী তালুকদার, দোকানদার আবুল হোসেন, কোরবান আলী, আকবর সিকদার, আশরাফ আলী, সোলায়মান, শফিক উদ্দিন, জহুরুল ইসলাম, খালেদ মন্ডলসহ আরো অনেকের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে চলে গেছে। তারা অন্যের বাড়িতে এবং খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

ভাঙনের শিকার ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে জানান, ‘সেতু এলাকার ৬ কিলোমিটারের মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও বিবিএ-এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকার দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করেন। তাই আমাদের এই অবস্থা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু।’

সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল করিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘শুকনা মৌসুমে যখন নদীতে পানি কম থাকে, তখন যদি বিবিএ কাজ করতো তাহলে এই ভাঙন হতো না। শতশত মানুষ বাড়ি ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হতো না। এর জন্য ওরাই দায়ি।’

কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। অসহায় মানুষের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষকে ভাঙনরোধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সহকারী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে এই ভাঙনে সেতুর কোন ক্ষতি হবে না। ভাঙন ঠেকাতে সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফালানো হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ