Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে মাদক ব্যবসায়ীরা

ইয়াবা বহনে ‘পাঠাও’ চালক

| প্রকাশের সময় : ২৪ জুন, ২০১৮, ১০:৪৭ পিএম

বিশেষ সংবাদদাতা : ইয়াবা পাচারে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। রাজধানীতে মাদক পরিবহনে এবার রাইড শেয়ারিং ‘পাঠাও’ রাইডারদের মাধ্যমে ইয়াবা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছে দেয়ার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেফতারকৃতরা হলো- রানা আহমেদ ওরফে রাজু(২৫), ইফতেখারুল ইসলাম (২৫), অলি আহমেদ (২৪) ও মোস্তফা কামাল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮টি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জানান, গত ২৩ জুন শনিবার দিনগত রাতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ‘পাঠাও’ রাইডার রানা আহমেদ ওরফে রাজুসহ (২৫) চার ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। কিছু মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান এনে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে মজুদ করেছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের সিও এমরানুল জানান, ইফতেখারুল কক্সবাজারের উখিয়া কলেজের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উখিয়ার স্থানীয় কিছু যুবকের বিলাসবহুল জীবন-যাপন দেখে ইয়াবা ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ হয় ইফতেখারুল। কারণ, তার ধারণা ইয়াবা ব্যবসায় দ্রæত লাভবান ও বিলাসবহুল জীবন-যাপন করা যায়। ইফতেখারুল নিজে মাদক ব্যবসায় জড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় যুবক ও রোহিঙ্গাদের ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। কক্সবাজার থেকে বহন করে আনা ইয়াবা উত্তরার মাদক ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন ইফতেখারুল। এ দিকে আটক অলির বাড়িও কক্সবাজারের উখিয়া থানার রাজাপালং গ্রামে। তিনি উত্তরার ফজিলত প্রোপার্টিজ নামে একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অলির নিয়ন্ত্রিত ওই ভবনে কক্সবাজার থেকে আনা ইয়াবা মজুদ রাখা হতো। মোস্তফা কামাল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালের মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত। মোটা অঙ্কের টাকার লোভে ওষুধ বিপণন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি ইয়াবা পরিবহনের কাজেও যুক্ত হয়ে হন। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি চালান ঢাকায় পৌঁছে দিতে পারলে তিনি পেতেন ২০ হাজার টাকা। রানা মূলত রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’র একজন রাইডার। তিনি রাইড শেয়ারের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্খিত গন্তব্যে ইয়াবা পৌঁছে দিতেন। লে. কর্নেল এমরানুল আরো বলেন, কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর যোগসাজশের তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের নামও জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন