Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ডিসি সম্মেলনের যত কথা

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ২৪ জুন, ২০১৮, ১১:২৬ পিএম | আপডেট : ১২:০০ এএম, ২৫ জুন, ২০১৮

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দফায় দফায় চিঠি দিলেও গত বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের অধিকাংশই মন্ত্রণালয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ৫০টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মোট ৪২৯টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরমধ্যে স্বল্পমেয়াদি ১৫০টি, মধ্যমেয়াদি ১৩২টি এবং দীর্ঘমেয়াদী ১৪৭টি। ডিসিদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলেও খাতা-কলমে ৯৮ ভাগ বাস্তবায়নের তথ্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০১৭ সালের ডিসি সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী প্রকাশ করেছে। আর এটি আগামী ২৪ জুলাই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিসিদের হাতে দেয়া হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেষ ডিসি সম্মেলন।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন হচ্ছে মাঠ প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সম্মেলনে সরকারে নীতি নির্ধারকদের সাথে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত নীতি বাস্তবায়নকারী এবং সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী হিসেবে জেলা প্রশাসকদের সরাসরি মতবিনিয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। খেলাখুলিভাবে আলোচনায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন ডিসিরা। সে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের পথও উম্মোচিত হয়। তিনদিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনে ডিসিরা স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে অনেক গুরুরত্বপূর্ণ বিষয় নীতিনির্ধারকদের সমানে উপস্থপন করেন। তারা সম্মেলন থেকেই সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জেলা ডিসিদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করে থাকে। ২০১৬ সালে ডিসি সম্মেলনে মোট ৪৭৭টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এরমধ্যে ৪৪৮টি সিদ্ধান্ত বাস্তবাতি হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। গত বছর ২৫ থেকে ২৭ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে ডিসিরা ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত যেসব প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল ১৫০টি স্বল্পমেয়াদি, ১৩২টি মধ্যমেয়াদী এবং ১৪৭টি দীর্ঘমেয়াদী।
এদিকে আগামী ২৪ জুলাই তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হবে। শুরুতেই ডিসিদের হাতে গত বছরের গৃহীত সিদ্ধান্তের কার্যপত্র দেয়া হবে। সূত্র জানায়, চাঁদপুরের তৎকালীন ডিসি আব্দুস সবুর মন্ডল চাদঁপুরে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মা ইলিশ রক্ষায় একটি ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র, মেঘনা পাড়ে ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ রোডে গাছতলা ব্রিজের টোল আদায় বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এসব প্রস্তাব সম্মেলন গৃহীত হয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি। চাঁদপুরের বর্তমান ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান ইনকিলাবকে বলেন, ওইসব প্রস্তাবের বিষয় তার জানা নেই। কার্যপত্র দেখে তবেই বলতে পারবেন।
এদিকে সঠিক ডাটাবেজ না থাকায় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বহতল বিশিষ্ট ভবনের মালিকের সম্পদ আয়ের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন- এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন শেরপুরের ডিসি। সম্মেলনে এর সমধানের পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। কৃষি ঋণ বিতরণসহ ব্যাংকিং সেবা প্রদানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাঝে অনীহা রয়েছে। ফলে একদিকে দরিদ্র কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিখাত এবং বন্যাজনিত কারণে উত্তরাঞ্চলসহ সুনামগঞ্জ জেলায় এক বছরে ঋণ পরিশোধ মওকুফ করার প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন ফেনী ও সুনামগঞ্জের ডিসি। দুই ডিসির প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়নের ছিটেফোটাও এক বছরে দৃশ্যমান হয়নি।
কুড়িগ্রামের ডিসির দেয়া গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে বলা হয়, কোন কোন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় মাঠ পর্যায়ের অভিমত গ্রহণ করা হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে নানা সমস্যার উদ্ভব হয়। পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকার প্রশাসককে প্রয়োজন। কিন্তু প্রস্তবটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। নওগাঁর ডিসির দেয়া গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে বলা হয়, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা এবং লাইসেন্স ফি নির্ধারণ পূর্বক ডিসিকে ডিলিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা দেয়া প্রয়োজন। এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ব্রা²ণবাড়ীয়ার ডিসির প্রস্তাবে বলা হয়, যে সকল ইউনিয়নে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ ভূমি রয়েছে সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন নিমার্ণ করতে হবে। এই প্রস্তাবও আলোর মুখ দেখেনি। বগুড়ার ডিসির প্রস্তাব ছিল, ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশদের বেতন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে বিবেচনায় একেবারেই কম। গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধিসহ তাদের বাই-সাইকেল ও মোবাইল ফোন এবং পুলিশ বাহিনীর মতো রেশন প্রদান করা প্রয়োজন।
অবাক করার বিষয় হলো এই প্রস্তাবটি গত ৯ বছর ধরে প্রতিটি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দেয়া হচ্ছে। কিন্ত রহস্যজনক কারনে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। গোপালগঞ্জের ডিসির দেয়া গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় জেলা পরিষদ, এলজিইডি এবং পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাজের গুণগতমান আরও বৃদ্ধিকল্পে ডিডিএলজিকে প্রকল্প পরিদর্শন করার নিদের্শনা দেয়ার সুযোগ প্রদান করা প্রয়োজন। কিন্তু তা আজও করা হয়নি।
ঢাকার ডিসির গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে বলা হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রæত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিটি থানায় একটি করে সহকারি ভূমি কমিশনার সার্কেল অফিস চালু করা প্রয়োজন। প্রস্তবাটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সিলেটের ডিসির দেয়া গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০৫ সাল পর্যন্ত সিলেটে বৃটিশ হাইকমিশনের ইমিগ্রেশন সেকশন চালু ছিল। পরবর্তীতে ভারতের নয়াদিল্লির বৃটিশ হাইকমিশনে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াও কখনো ভিসা পেতে বিলম্ব এবং হয়রানির শিকার হতে হয়। এ কারণে সিলেটে বৃটিশ হাইকমিশনের ইমিগ্রেশন সেকশন চালু করা প্রয়োজন। এই প্রস্তাবটি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ বলতে কিছুই করেনি।



 

Show all comments
  • chanchal ২৫ জুন, ২০১৮, ২:২০ এএম says : 0
    very informative news
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ