Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

অবৈধ চিংড়ি রেণু সংগ্রহ : বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ

ভোলা থেকে মোঃ জহিরুল হক | প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০১৮, ১২:০৫ এএম

দ্বীপজেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিংড়ি রেণু সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। স্কুলগামী শিশুরা স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে রেণু সংগ্রহের জন্য জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়ায় তাদের শিক্ষা জীবন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভোলায় সংগ্রহীত চিংড়ি রেণুর প্রধান বাজার হচ্ছে খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায়।
সরজমিনে সদর উপজেলার রাজাপুর, ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া, শিবপুর, ভেলুমিয়া, সামরাজ, দৌলতখান, মঙ্গলসিকদার, তজুমদ্দিন সহ ভোলার বিভিন্ন এলাকায় রেণু ধরা হয় বলে জানাগেছে।
রেণু ধরার সময় কয়েকজন বলেন, মশারীর কাপড় দিয়ে তৈরী খুচি জাল দিয়ে রেণু সংগ্রহ করা হয়। রেণু সংগ্রহকালে বিভিন্ন প্রজাতির শত শত পোনা জালে ওঠে এর মধ্য থেকে খুব সুক্ষভাবে গলদা চিংড়ি রেণু সংগ্রহ করা হয়। চিংড়ি রেণু সংগ্রহকালে অন্যান্য প্রজাতির শত শত রেণু পোনা নষ্ট হয় বলে তারা স্বীকার করেন। তারা আরও বলেন, ক্ষেতে-খামারে দিনমজুরি করেন। প্রতিবছর এই সময় চিংড়ির রেণু ধরে বিক্রি করেন। রেণু পোনা ধরে দৈনিক তাদের আয় হয় ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা।
ভোলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের আলাপকালে জানা যায়, ভোলা সংলগ্ন নদীগুলোতে ২০০০ সাল থেকে চিংড়ি রেণু সংগ্রহ শুরু হয়। এরপর থেকেই নদীর অন্যান্য প্রজাতির মাছ কমতে শুরু করেছে। কমতে কমতে অনেক মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তারা জানান, চুলের ডাডি, বাইলা, পোয়া, ছুরুয়া, ফাইলসা সহ অনেক প্রজাতির মাছ এখন দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে চুলের ডাডি ও ফাইলসা বিলুপ্তির পথে। চিংড়ি রেণু ধরার সময় অন্যান্য মাছের পোনা নষ্ট হওয়ায় সেসব জাতের মাছের বংশ বৃদ্ধি হচ্ছেনা। তারা নদীর মাছ রক্ষায় নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ এবং জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবী জানান।
দৌলতখানের কয়েককজন রেণু ক্রেতা বলেন, ভোলার নদীর কোল ঘেষে প্রত্যেক জায়গায় রেণু পোনা ক্রয়ের আড়ৎ আছে। আড়তদারদের রেণুর মৌসুমের প্রথমেই রেণু ক্রয়কারীরা দাদন দিয়ে থাকে। প্রতি রেণু ৪ টাকা দরে পোনা কিনে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। অন্য পেশার পাশাপাশি এই মৌসুমি কারবারটা করে থাকে অনেকে। এতে তাদের ভালো আয় হয়। নদী থেকে রেণু ধরা নিষিদ্ধ তা জানেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সবাই তো করছে। প্রভাবশালী লোকরাই এর সাথে জড়িত। তাদের কারনে প্রশাসনের লোকজনও দেখে না দেখার ভান করে। তবে এটা শতভাগ সঠিক রেণু পোনার ধরার কারনে দেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। রেণু পোনার সাথে যে সব মাছ ধরা পরে তার এক ঘামলা মাছের পোনা বিক্রি করি ২০ টাকা। আর সেই মাছ যদি বড় হয় তখন বিক্রি করতে পারতাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
একাধিক শিক্ষকের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন চিংড়ি রেণু ধরার মৌসুম শুরু হলে স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরা রেণু সংগ্রহে নেমে পরে। ৩-৪ মাস পরে বেশির ভাগ শিশু আর স্কুলে ফিরে আসেনা। এক সময়ে তাদের আর লেখা পড়া হয় না। ওই সব শিশুদের শিক্ষা জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান রেণু ধরা নিষিদ্ধ করার কারণ সম্পর্কে বলেন, রেণু অতিক্ষুদ্র হওয়ায় তা ধরতে মিহি জাল ব্যবহার করা হয়। এই জালে আটকা পড়ে মারা যায় অন্য মাছ ও জলজ প্রাণীর অসংখ্য রেণু। নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও কিভাবে রেণু ধরা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, রেণু শিকারিদের ঠেকানোর জন্য ঝটিকা অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। স¤প্রতি কোস্ট গার্ড ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ব্যাপক রেণু জব্দ করে নদী ও পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তবে সচেতন মহলের আকুতি সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করে এখনই জরুরী ভিত্তিতে রেণু ধরা বন্ধ না করা হলে অচিরেই ভোলা জেলা মাছ শুণ্য হয়ে পড়বে। তাদের দাবী রেণু ধরা বন্ধ করে দেশের মৎস সম্পদ ও অর্থনীতিকে বাঁচান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর