Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

প্রশ্ন : রামাদ্বানের শেষ দশ দিন কি কারণে অতীব গুরুত্বপূর্ণ?

| প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

উত্তর: রামাদ্বানের শেষ দশ দিন অতীব গুরুত্ব ও ফযীলতের সময়। নি¤েœাক্ত বিশেষ তিনটি কারণে শেষ দশদিনের গুরুত্ব ফুটে উঠে: প্রথমতঃ এ দিনগুলোতে প্রিয় নবীজী (সা.) ইবাদতের পরিমান অনেকগুন বাড়িয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) শেষ দশ দিনে ইবাদতের জন্য এত বেশি চেষ্টা করতেন, যা তিনি অন্য সময়ে করতেন না।-(বুখারী) তিনি আরেকটি হাদীসে বলেছেন, শেষ দশদিন এসে গেলে প্রিয় নবীজি (সা.) রাত জেগে ইবাদতে লেগে যেতেন। পরিবারের অন্যদেরকে জাগিয়ে দিতেন। কঠিন প্রচেষ্টা চালাতেন। কোমরের কাপড় বেঁধে নিতেন।-(বুখারী/মুসলিম) মুহাদ্দেসীনে কেরাম কোমরের কাপড় বেঁধে নেয়ার দুটো অর্থ করেছেন, একটা হচ্ছে কঠিন প্রয়াস চালাতেন, যেমনটি আমরা বাংলায় বলে থাকি কোন কাজে কোমর বেঁধে লাগা। আর অপর অর্থ হচ্ছে-স্বামী-স্ত্রী’র মিলামিশা থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। উদ্দেশ্য-পার্থিব তৎপরতা কমিয়ে দিয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করা। কাজেই আমাদেরকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার যতদূর পারা যায় পার্থিব তৎপরতা কমিয়ে দিয়ে এ দশদিনে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে মশগুল রাখার চেষ্টা করা। তাহাজ্জুদ যেন একদিনও ছুটে না যায়। কুরআন তিলাওয়াত, যিকির এস্তেগফার ও দোয়া দরুদের আমল বেশি বেশি করে করার প্রচেষ্টা চালানো।
দ্বিতীয়তঃ এ দশদিনে লুকিয়ে রয়েছে একটি বিশেস রাত-লাইলাতুল ক্বদর। যে রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এক হাজার মাসব্যাপী কেউ ইবাদত করলে যে সওয়াব অর্জন করবে, এই একটিমাত্র রাত্রে সঠিকভাবে ইবাদত করতে পারলে তারচেয়েও বেশি নেকী ও কল্যাণের অধিকারী হয়ে যাবে। নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমান ও ইহতেছাবের সাথে রাত জেগে ইবাদত করবে, তার অতীত যিন্দেগীর গুণাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।’-(বুখারী/মুসলিম)এ হাদীসে ঈমান এবং ইহতেছাব বলতে বুঝানো হয়েছে লাইলাতুল ক্বদরের যে মর্যাদা এবং ফযীলত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা এবং আমল করতে পারলে যে সওয়াব পাওয়া যাবে, তার জন্য ব্যাকুল হওয়া। ক্বদরের রাত কোনটি?এ প্রসঙ্গে নবী করীম (সা.) হাদীস শরীফে এরশাদ করেছেন, ‘রামাদ্বানের শেষ দশদিনে লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করো’-(বুখারী)। অন্য হাদীসে আরও ব্যাখ্যা করে বলেছেন, শেষ দশদিনের বেজোড় রাতসমূহে লাইলাতুল ক্বদরকে অন্বেষণ করো-(বুখারী)। অন্য হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি আসছিলাম তোমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদরের তারিখটি বলে দিতে, কিন্তু পথিমধ্যে তোমাদের দু’ভায়ের ঝগড়া থামাতে গেলে, সেটা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হলো। তবে সেটা অবশ্যই শেষ দশদিনের একটি বেজোড় রাত। উপরোল্লিখিত হাদীস সমূহের আলোকে ওলামাদের মতামত হলো লাইতুল ক্বদরের ইবাদত শুধু এক রাতে না করে একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ এবং ঊনত্রিশ-এ সবগুলো রাতেই করতে হবে। আর রাসূল (সা.)-কে নির্দিষ্ট রাতটি ভুলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে এক রাতের পরিবর্তে পাঁচটি রাতে সবিশেষ গুরুত্ব সহকারে ইবাদত করার ব্যবস্থা করে দিলেন।এ রাতের ইবাদত সমূহ হচ্ছে-সালাতুত্ তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, কুরআন তেলাওয়াত, যিকর, দোয়া ও ইস্তিগফার। হযরত আয়েশা (রা.) প্রশ্ন করেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি লাইলাতুল ক্বদর পেয়ে গেলে কোন দোয়াটি বেশি বেশি করে আমল করব? তিনি বললেন, পড় ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী’। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি অনেক বেশি ক্ষমাকারী। ক্ষমা করা পছন্দ করেন। আমাকে ক্ষমা করে দিন।-(আহমদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)তৃতীয়তঃ রামাদ্বানের শেষ দশদিনে রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমল। আর তা হচ্ছে ইতিকাফ। নবী করীম (সা.) জীবনের শেষ বৎসর পর্যন্ত শেষ দশদিনের ইতিকাফ করে গেছেন। শেষ দশদিনের সময়কে পুরোপুরিভাবে আল্লাহর ইবাদতে কাজে লাগাতে ইতিকাফ একটি বিরাট সুযোগ। যারা ইতিকাফ করতে ইচ্ছুক, তাদেরকে বিশ তারিখের রোযার ইফতারের সময়ের পূর্বেই মসজিদে ঢুকে যেতে হবে।রামাদ্বানের শেষ দশদিনের আমলের সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আর তা হচ্ছে যাকাত।
উত্তর দিচ্ছেন : মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ