Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে -সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০১৮, ১২:০৫ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের নামে শুধুমাত্র একটি তামাশা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে খুলনার মতো গাজীপুরেও নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করেছে। ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে তা প্রয়োগ করেছে। আমরা (বিএনপি) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী জানান তিনি। গতকাল (বুধবার) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার আবার প্রমাণ করলো তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নির্লজ্জভাবে একের পর এক নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে সকল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করছে। খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আর এক কলংকময় অধ্যয় সংযোজন করলো। জনগণের আশা আকাক্সক্ষাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে স্বৈরাচার এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমাহিত করছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতেই ধারাবাহিকভাবে প্রায় প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজীর বিহীন ভোট ডাকাতির মধ্যদিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে এবং প্রমাণ করেছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধীন মাধ্যমে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের ফলে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিচ্ছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গণগ্রেফতার, সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ভাংচুর, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকতে না দেওয়া, নির্বাচনের আগের রাত হতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বাক্স বোঝাই করা, নির্বাচনের দিন এজেন্টদের জোর পূর্বক বের করে দেওয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ক্রমাগত অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন কোন কিছুই আমলে নেয়নি। বিশেষ করে গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও নির্যাতনের বিষয়ে বার বার অভিযোগ করেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সরকার গাজীপুরে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের আইন কখনই প্রয়োগ করে নাই। সরকার গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। ভোট কারচুপির এরকম ঘটনার পরও রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘আন্দোলনের অংশ’ হিসেবে অংশ নেওয়ার দলের সিদ্ধান্তের কথাও জানান বিএনপি মহাসচিব। সরকারের নিলর্জ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচনের জন্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছি আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি একই কারণে। এই জনবিচ্ছিন্ন সরকাররের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হচ্ছে এই নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে। দলের কারাবন্দি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকার ‘নীল করশার গল্প’ সাজিয়ে গ্রেফতারের করে অভিযোগ অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির জাতীয় ঐক্যের মধ্যদিয়ে গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে এবং ভোট ডাকাত গণবিরোধী এই সরকারকে পরাজিত করে নিরপক্ষে সরকারের অধীনে যোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গাজীপুরে ভোটের আগের রাতেই তারা ওকে ভোট দিয়ে দিয়েছে। এটা ভোটের পারসেনটেইজ দেখলে বুঝা যায় যে, ভোটের টার্ন আউটা কত আর টোটালটা কত? তার থেকেই বুঝা যায় যে আগের রাতে ভোট দিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা দিনের মতো পরিস্কার হয়ে গেছে যে, এই সরকার গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে না। আমাদের অনেকে এজেন্টেদের কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি, অনেককে বাসা থেকে বের হতেই দেয়নি, অনেককে পথেই বাঁধা দিয়ে রুখে দেয়া হয়েছে। এসব দৃশ্য গণমাধ্যমের কর্মীরা নিজেরাই দেখেছেন। এভাবে ষড়যন্ত্র করে গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল সরকার, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন এক হয়ে কাজ করেছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা পরিস্কার হয়ে গেছে সরকার একটি নির্বাচনী প্রকল্প করেছে, তার অংশ হিসেবে খুলনায় যা ঘটিয়েছিলো, গাজীপুরেও তারা একই কাজ করেছে। নীল নকশার অংশ হিসেবে পুলিশের একটি অংশ যারা দলীয় পুলিশ, নির্বাচন কমিশন সকলে মিলে একের পর এক নির্বাচনকে কব্জা করছে তারা। গণতন্ত্র ফিরে পেতে হলে এই নির্বাচনী প্রকল্পকে ভেঙে দিতে হবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এড. আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।



 

Show all comments
  • ২৮ জুন, ২০১৮, ৯:৫২ এএম says : 0
    নাচতে না জানলে উঠান বাকাঁ ! জনগনের প্রতি প্রশাসনের প্রতি মিডিয়ার প্রতি এমন কি ক্ষুদ নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারছেন না বি এন পি। কারন নিজের চেহারা আয়না দেখেনা।শুধু অন্যর চেহারা দেখে তাই।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ