Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

দারিদ্র্য বিমোচনে বায়তুলমাল

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

ছয়

এ ধরনের কাজ যা কোন সাহাবী করেন এবং অন্যান্য সাহাবী তা জানতে পারেন কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই তার বিরোধিতা করেন না, তখন ফিক্হ এর পরিভাষায় সে নীতি সম্পর্কে সকল সাহাবীর ইজমা’ সম্পাদিত হয়েছে বলা চলে। দামেস্ক সফরের সময় ‘উমর রা. অক্ষম অমুসলিম নাগরিকদের জন্য বৃত্তি নির্ধারণ করার আদেশ জারি করেছিলেন। বর্ণিত আছে, ‘উমর ফারূক রা. দামেস্ক যাত্রাকালে কুষ্ঠরোগগ্রস্ত এক খৃস্টান জনগোষ্ঠীর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের এ অবস্থা দেখে তিনি তাদেরকে বায়তুলমালের সাদাকার ফান্ড হতে অর্থ দান করার এবং খাদ্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ইসলামে দারিদ্র্য বিমোচনে বায়তুলমালের ভূমিকার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হল ‘উমর রা.-এর যুগের এ ঘটনাটি: “একদা উমর রা. এক অমুসলিম অন্ধ বৃদ্ধকে ভিক্ষা করতে দেখে তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘তুমি কোন আহলি কিতাবের অন্তর্ভূক্ত?’ সে বলল, ‘আমি একজন ইয়াহূদি। ‘উমর রা. বললেন, ‘তুমি ভিক্ষা করছ কেন?’ ‘সে বলল, আমার কাছে জিযিয়া তলব করা হচ্ছে, অথচ তা পরিশোধ করার সামর্থ্য আমার নেই। ‘উমর রা. তার হাত ধরে নিজের ঘরে নিয়ে এলেন। প্রথমে নিজের কাছ থেকে (তাকে) কিছু সাহায্য দিলেন, অতঃপর বায়তুলমালের খাজাঞ্চিকে ডেকে নির্দেশ দিলেন, ‘তার এবং তার মতো লোকদের (শোচনীয়) অবস্থা দেখ এবং তার জন্য বায়তুল মাল থেকে কিছু নির্ধারণ কর এবং তার ও তার মত লোকদের কাছ থেকে জিযিয়া আদায় করো না। আল্লাহ্র কসম, এটা কোন ন্যায়বিচার নয় যে, আমরা এ সমস্ত লোকের যৌবনকাল থেকে ফায়দা (উপকার) লুটব, কিন্তু বার্ধক্যকালে তাদেরকে বাইরে নিক্ষেপ করব।
‘উমরের রা. এ কথার শেষাংশ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। সরকার বিত্তশালীদের নিকট থেকে কর, রাজস্ব ও চাঁদা ইত্যাদি আদায় করবে, যুবশক্তিকে জাতীয় কাজে নিযুক্ত করবে, এটা দেশবাসীর উপর সরকারের স্বাভাবিক অধিকার, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু একজন নাগরিক যখন দরিদ্র হয়ে পড়বে কিংবা বৃদ্ধি হয়ে উপার্জন ক্ষমতা হারাবে, তখন তার যাবতীয় প্রয়োজন পূর্ণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্র বা সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। এটা রাষ্ট্রের উপর নাগরিকদের স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার, এটাও যথাযথভাবে পূর্ণ করা সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব। ইসলামী অর্থনীতির এ বৈশিষ্ট্য অতুলনীয়।
‘উমর ইব্ন আবদুল আযীয রহ. তাঁর বসরার শাসনকর্তা আদি ইব্ন আরতাতকে চিঠি লিখে পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাকে কতিপয় ফরয সম্পর্কে নসীহত করেন এবং বলেন, সে যেন নিজের এলাকায় তা মেনে চলেন। তাঁর এ চিঠির গুরুত্বের কারণে বসরার জনগণকে তা পড়ে শুনানো হয়েছিল। চিঠিতে লিখা ছিল: “তুমি নিজে লক্ষ্য করে দেখ, অমুসলিম নাগরিকদের মধ্য থেকে যেসব লোক বয়োবৃদ্ধ এবং কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে এবং উপার্জন-উপায় কিছুই নেই, তুমি তাদের প্রয়োজন মত অর্থ রাষ্ট্রীয় বায়তুলমাল থেকে তাদের দাও”। য়তুলমালের দারিদ্র্য বিমোচনের কর্মসূচী মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য। যা উপরের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে।
ইসলাম সুদী কারবারকে নিষিদ্ধ (হারাম) ঘোষণা করেছে এবং বিভিন্ন পন্থায় সুদবিহীন ঋণদানের ব্যবস্থা করেছে। “সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার নির্দেশকে নবী যুগের একেবারে শেষ দিককার নির্দেশ (হুকুম) বলে মনে করা হয়। সচ্ছল লোকদেরকে ‘করযে হাসানা’ দানের নির্দেশ হচ্ছে রাসূলের ওফাতের বড়জোর এক বছর পূর্বেকার। তাই নবী যুগে এর জন্য কোন বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারেনি”। হাদীস এবং ইতিহাস গ্রন্থাদি থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ স.-এর যুগে বিত্তশালী সাহাবীরা বিত্তহীন সাহাবীদেরকে ঋণ হিসেবে সুদবিহীন ‘করযে হাসানা’ প্রদান করেছিলেন। খোদ রাসূলুল্লাহ স. একবার চল্লিশ হাজারের একটি ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ‘আব্দুল্লাহ ইব্ন আবি রাবি‘আ বলেন: রাসূলুল্লাহ স. আমার নিকট থেকে চল্লিশ হাজার দিরহাম ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্তদের দান-দক্ষিণা প্রদান যেমন প্রত্যেক ধর্মের দৃষ্টিতে পুণ্যের কাজ, তেমনি যে অর্থ বেকার পড়ে থাকে, সে অর্থ ঋণ হিসেবে অন্যকে দান করাও ইসলামের দৃষ্টিতে একটি পুণ্যের কাজ। কুরআনের অনেক স্থানে এ সম্পর্কে মুসলিমদের উৎসাহিত করা হয়েছে। এমন কে আছে যে আল্লাহ্কে ঋণদান করবে সুসঙ্গতভাবেত, সে মতে তিনি তাকে বর্ধিত করে দেবেন সে ঋণদাতার অনুকূলে, অধিকন্তু তার জন্য (অবধারিত) আছে এক মহা পুণ্যফল।

মহানবীর সা. ধারাবাহিক জীবনী
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাপতি আবু ওবায়দা রা. কে নির্দেশ দেন, তিনি যেন আমর ইবনুল আস এর সাথে মিলিত হয়ে উভয়ে মিলেমিশে কাজ করেন। কোনো প্রকার মতানৈক্য যেন না করেন। আবু ওবায়দা অক‚স্থলে যাওয়ার পর পুরো বাহিনীর অধিনায়কত্ব চান। কিন্তু হযরত আমর ইবনুল আস বললেন, অধিনায়ক তো আমি, আপনিতো সহায়ক সৈন্য নিয়ে এসেছেন। আবু ওবায়দা একথা মেনে নেন। এরপর নামাযের ইমামতিও সেনাদল প্রধান হযরত আমর ইবনুল আসই করতে থাকেন।
আর রাহীতুল মাখতুম, মূল : আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী, অনুবাদ: খাদিজা আখতার রেজায়ী

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর