Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কাজী জাফর আহমদের ৭৯তম জন্মদিন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ জুলাই, ২০১৮, ১২:১১ এএম

 বাংলাদেশের রাজনীতির শার্দূল সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম কাজী জাফর আহমদের ৭৯তম জন্মদিন আজ। ৫৯ বছরের এক বর্ণাঢ্য-বৈচিত্রময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী কাজী জাফর ১৯৩৯ সালের পহেলা জুলাই কুমিল্লার প্রখ্যাত চিওড়া কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ভাষা আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়েই ১৯৫৫ সালে তিনি সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। রাজশাহী জেলা ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক এবং রাজশাহী কলেজ সাহিত্য মজলিশের মুখপত্র-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খুলনা জেলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা, রাজশাহী সরকারী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. অনার্স ও এম.এ পাশ করেন।
কাজী জাফর আহমদ ১৯৫৯-১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন; তিনি ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬২-১৯৬৩ সালে অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি শ্রমিক রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী জাফর ১৯৭২-১৯৭৪ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তখন ছিলেন ন্যাপের সভাপতি। এরপর ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড পিপলস্ পার্টির (ইউপিপি) প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে চেয়ারম্যান হন। তিনি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী সভার শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৯০ সালে তিনি জাতীয় পার্টির সরকারে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য, বন্দর-জাহাজ ও নৌ-পরিবহন, তথ্য এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, চতুর্থ জাতীয় সংসদের নেতা তথা বাংলাদেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৯৬ পর্যন্ত পরপর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এইচএম এরশাদের আদর্শচ্যুতি এবং ডিগবাজীর রাজনীতির প্রতিবাদ করে ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজী জাফর আহমদ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বাঁকে বাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ঢাকায় জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঃ কাজী জাফর আহমদের জন্মদিন উপলক্ষে আজ বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দোয়া মিলাদ মাহফিলে মরহুমের রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের উপস্থিত হয়ে রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে মরহুমের নিজ গ্রাম চৌদ্দগ্রাম চিওড়া কাজী বাড়ীতে দিনব্যাপী কুরআন খানি, বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ