Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

খেলাপি ঋণ আদায়ের টার্গেট আট শতাংশ

সরকারি ছয় ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

 সরকারি মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৪৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অথচ সরকারের তরফ থেকে নতুন অর্থবছরে (২০১৮-১৯) এসব ব্যাংককে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এটি খেলাপি ঋণের মাত্র আট শতাংশ। অর্থাৎ বাকি ৯২ শতাংশ আদায়ের লক্ষ্যই থাকবে না ব্যাংকগুলোর। সরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সরকারের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, প্রতি বছর সরকারি ছয় ব্যাংকের সঙ্গে কর্মসম্পাদন চুক্তি করে বিভিন্ন টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বছর শেষে তা মূল্যায়ন করা হয়। চলতি অর্থবছর চুক্তির আওতায় টার্গেট অনুযায়ী সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) ১৫টি সূচকে টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়, খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ, স্বল্পমেয়াদি আমানতের হার বৃদ্ধি, লোকসানি শাখা কমিয়ে আনা ও পরিচালনা মুনাফা অর্জন উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাস পর্যন্ত ছয়টি সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৩ হাজার ৬৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ ঋণই খেলাপি। গেল ডিসেম্বরেও সরকারি ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। খেলাপি ঋণ বাড়লেও তা আদায়ের পরিমাণ কম। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণও করে দেওয়া হচ্ছে কম।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ব্যাংকটিকে মোট এক হাজার ১০০ কোটি টাকা (শ্রেণিকৃত ঋণ ৯০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ২০০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯২০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে সাত হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ব্যাংকটিকে মোট ৫৮০ কোটি টাকা (শ্রেণিকৃত ঋণ ৪৫০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ১৩০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২৫ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ব্যাংকটিকে মোট ৬৫০ কোটি টাকা (শ্রেণিকৃত ঋণ ৫০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ১৫০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অগ্রণী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ব্যাংকটিকে মোট এক হাজার ৩৫ কোটি টাকা (শ্রেণিকৃত ঋণ এক হাজার কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৩৫ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে।
বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ব্যাংকটিকে মোট ১৫০ কোটি (শ্রেণিকৃত ঋণ ১৪০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ১০ কোটি টাকা) আদায় করতে হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০ কোটি টাকা। বিডিবিএলের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নতুন অর্থবছরে ব্যাংকটিকে মোট ১২০ কোটি টাকা (শ্রেণিকৃত ঋণ ৯০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৩০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে।
কর্মসম্পাদন চুক্তিতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বেসিক ব্যাংক ছাড়া অবশিষ্ট পাঁচটি ব্যাংককে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের জন্য প্রভিশন সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। নতুন অর্থবছরের জন্য এ হার ৪২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গেল অর্থবছরে ছিল ৬০ শতাংশ। চুক্তিতে মূলধন সংরক্ষণের ব্যাপারে সোনালী ব্যাংককে ১০ শতাংশ, জনতা ব্যাংককে সাড়ে ১০ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংককে ১০ শতাংশ, রূপালী ব্যাংককে ১০ দশমিক এক শতাংশ, বেসিক ব্যাংককে ১২ শতাংশ ও বিডিবিএলকে ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন