Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

শেষ সময়ের গোলে জাপানের স্বপ্নভঙ্গ

বেলজিয়াম ৩-২ জাপান

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০১৮, ১২:৩৮ এএম | আপডেট : ১:৫৫ এএম, ৩ জুলাই, ২০১৮

গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে নকআউট পর্ব শুরু। হারলেই বিদায়। তাই সর্বোচ্চটা বাজি রেখেই খেলবে দলগুলো। সে লক্ষ্যে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়ামের মোকাবেলা করছে এশিয়ার দল জাপান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে দুই গোলে এগিয়ে ছিল জাপান। দ্রুতই শেধ করে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। আর অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে (৯০+৪) গোল করে দলকে শেষ আটে তোলেন চাডলি।  

রুস্তভ-অন-ডনে অাক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলার চতুর্থ মিনিটে লুকাকুর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দশম মিনিটে তাকাসি ইনুইয়ের ক্রস থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেননি ইয়া ওসাকো। ভিনসেন্ট কোম্পানির দারুণ দক্ষতায় বল ক্লিয়ার হয়। ২১ মিনিটের মাথায় জাপান গোল পোস্টের ২০ গজ দূর থেকে শট নেন লুকাকু। এবারো ব্যর্থ হতে হয় তাকে। পরের মিনিটে ডি ব্রুইনের সেট পিস থেকে নেওয়া শট জাপানিজ ডিফেন্সে বাধা পায়।

২৬তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগটি পায় বেলজিয়াম। ড্রিস মের্টেন্সের গোলমুখে বাড়ানো ক্রস জাপানের রক্ষণ ঠিকমতো ফেরাতে ব্যর্থ হলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আসে রোমেলু লুকাকুর সামনে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডিফেন্ডার মায়া ইয়োশিদা বাঁচান দলকে। পরের মিনিটে এদেন আজারের জোরালো শট রুখে দেন গোলরক্ষক এইজি কাওয়াশিমা।

বিরতির আগে থিবো কর্তোয়ার ভুলে গোল খেতে বসেছিল বেলজিয়াম। বাঁ-দিক থেকে ইউতো নাগাতোমোর শট ছয় গজ বক্সে ফরোয়ার্ড ইউয়া ওসাকোর পায়ে লেগে একটু দিক পাল্টায়। তারপরও ছিল না কোনো হুমকি। কিন্তু বল ধরতে গিয়ে তালগোল পাকান চেলসির গোলরক্ষক। যায় হাত ফসকে; তবে বলে গতি না থাকায় বেঁচে যায় তারা। 

দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে তেমনি এক আক্রমণে এগিয়ে যায় এশিয়ার দলটি। নিজেদের সীমানা থেকে মিডফিল্ডার গাকু শিবাসাকির থ্রু বল ঠেকাতে ব্যর্থ হন ইয়ান ভার্টোনেন। বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে ছুটে আসা ভার্টোনেনকে কোনো সুযোগ না দিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন গেনকি হারাগুচি। ভাগ্য সহায় হলে পরের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারতো বেলজিয়াম। কিন্তু এদেন আজারের জোরালো শট ফেরে পোস্টে লেগে।

৫২তম মিনিটে উল্টো গোল খেয়ে বসে বেলজিয়ামই। ইনুয়ায়ের দুরপাল্লার জোরালো শট জাল খুঁজে নিলে ২ গোলের লিডে সাদা-লালের উল্লাসে মাতে রস্তোভ অ্যারেনা।

পরিবর্তন নিয়ে অাক্রমণে শান দেন বেলজিয়ান কোচ। নামান উইলিয়ানকে। গতি বাড়ে ম্যাচেও। যার সুফলও হাতে হাতে পায় র‌্যাংকিংয়ের ৩ নম্বর দলটি। ৬৯তম মিনিটে ভেরতোগেনের গোলে ববধান কমায় বেলজিয়াম। ঠিক তার ৫ মিনিট বাদেই সমতা আসে ফেল্লাইনির গোলে।

এবারের আসরের শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্য বুঝিয়েছে বেলজিয়াম। দলের দুই প্রধান অস্ত্র লুকাকু-হ্যাজার্ডদের আক্রমণে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে নিয়েছে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পানামাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়ার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে হারায় ৫-২ গোলে। আর শেষ ম্যাচে ফেভারিট ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

কাগজে কলমে এই বেলজিয়ামকে ধরা উচিত বিশ্বকাপের বড় দাবিদার। যে দলের গোলরক্ষক কোর্তোয়া, রক্ষণে আছেন কোম্পানি, মধ্যমাঠে ডি ব্রুইনদের সাথে আক্রমণে হ্যাজার্ড, লুকাকু; সে দলের সামর্থ্য নিয়ে কেউই প্রশ্ন তুলবেন না। এই বেলজিয়াম এতোটাই শক্তিশালী, তাতে জায়গা হয়নি রোমার হয়ে দারুণ খেলা মিডফিল্ডার নাইঙ্গোলানের।

অন্যদিকে, ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েই শেষ ষোলোতে উঠে এসেছে এশিয়ার দেশ জাপান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুরু করে জাপান। তবে, দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র, আর শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জাপানিজরা। তবে, সমীকরণ আর দলের সামর্থ্যের কথা বলতে গেলে বেলজিয়ামকেই এগিয়ে রাখতে হবে।

টুর্নামেন্টের ডাক হর্স বেলজিয়াম। প্রতিটি বিভাগে দারুণ সব খেলোয়াড় নিয়ে গড়া দলটির কম্বিনেশন চমৎকার। মাঠেও গোছানো ফুটবল খেলছে তারা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয়। প্রতিপক্ষ জাপান অনেকটা ভাগ্যের জোরে খেলছে শেষ ষোলো। তবে অঘটন ঘটাতে পটীয়সী দলটি কিছু একটা করে ফেলতেই পারে।

ম্যাচের ফলাফল কি হবে তা জানা যাবে ম্যাচ শেষে, তবে তার আগেই ফলাফলের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে হাজির আমরা। পাশাপাশি দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ, কৌশলও তুলে ধরা হলো-

নজরে থাকবেন যারা

দারুণ ছন্দে থাকা রোমেলু লুকাকুই গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের পার্থক্য। ৪টি গোল দিয়ে আছেন গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতায়। তবে কেভিন ডি ব্রুইন ম্যাচের সবচেয়ে বড় তারকা। মধ্য মাঠের মধ্য মণি। চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির রেকর্ড লিগ শিরোপা জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। আছেন এডেন হ্যাজার্ডের মতো খেলোয়াড়। অনেকেই তাকে মেসি-রোনালদোর সম পর্যায়ের খেলোয়াড় বলেই দাবি করে।

দলের বড় তারকা না থাকলেও একতাকে শক্তি মেনে গোছানো ফুটবল খেলে থাকে জাপান। কাগাওয়া, ওকাজাকি, নাগামোতোর মতো খেলোয়াড়রা গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের পার্থক্য।

একাদশ ও ম্যাচের কৌশল

বেলজিয়াম একাদশ (৩-৪-৩) : থিবো কোর্তোয়া, ইয়ান ভার্টোনেন, ভিনসেন্ট কোম্পানি, টবি আল্ডারভাইরেল্ড, ইয়ানিক কারাসকো, আক্সেল উইতসেল, কেভিন ডে ব্রুইনে, তমা মুনিয়ে, এদেন আজার, ড্রিস মের্টেন্স, রোমেলু লুকাকু

জাপান একাদশ (৩-৪-৩) : এইজি কাওয়াশিমা, ইউতো নাগাতোমো, গেন সোজি, মায়া ইয়োশিদা, হিরোকি সাকাই, গাকু ওসাকো, মাকোতো হাসেবে, তাকাসি ইনুই, শিনজি কাগাওয়া, গেনকি হারাগুচি, ইউয়া ওসাকো

ভবিষ্যদ্বাণী : শক্তি, সামর্থ্য, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই সবই কথা বলে বেলজিয়ামের পক্ষে। চলতি আসরে যে তারা প্রায় প্রতিরোধ্য। মাঠে তাই পরিষ্কারভাবেই এগিয়ে থাকবে তারা। বড় কোন অঘটন না হলে বেলজিয়ামের জয় প্রত্যাশিত।

সম্ভাব্য স্কোর : বেলজিয়াম ২-০ জাপান।

জেনে নিন

১) এর আগে জাপানের বিপক্ষে পাঁচবারের মোকাবেলায় মাত্র একটি জয় পেয়েছে বেলজিয়াম। ২০১৭ সালের নভেম্বরে লুকাকুর গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।

২) ২০০২ বিশ্বকাপে জাপানের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের একমাত্র লড়াইটি হয় এ দুই দলের। আর তা ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল।

৩) শেষ সাত বিশ্বকাপের ছয়বারই নকআউট পর্বে উঠেছে বেলজিয়াম। ১৯৮৬ ও ২০১৪ এর পর এ নিয়ে তৃতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালের হাতছানি দলটির সামনে।

৪) নকআউট পর্বের ১১টি ম্যাচে কখনোই ক্লিন শিট রাখতে পারেনি বেলজিয়াম। এর মধ্যে ৮টিতে হেরেছে তারা। জয় মাত্র দু’টি। এছাড়া শেষ নয় লড়াইয়ের পাঁচটিই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।

৫) এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ ৯টি গোল দিয়েছে বেলজিয়াম। উরুগুয়ে ও ক্রোয়েশিয়ার সমান তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে তারাও।

৬) শেষ ২২টি ম্যাচে অপরাজিত বেলজিয়াম। এরমধ্যে ১৭টি জয় ও ৫টি ড্র। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষবার তারা স্পেনের কাছে ০-২ গোলে হেরেছিল তারা।

৭) ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে শেষ ছয় লড়াইয়ের মাত্র একটি জিতেছে জাপান। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে তারা কোন গোলই করতে পারেনি। ২০১০ বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল দলটি।

৮) ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার পর থেকে এক আসর পর পর তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলছে। ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে। আর ২০০২, ২০১০ ও ২০১৮ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পায়। তবে কখনোই শেষ ষোলো পার হতে পারেনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাশিয়া বিশ্বকাপ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ