Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গ্রেপ্তার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০১৮, ১০:৫৯ এএম | আপডেট : ১২:৩৬ পিএম, ৪ জুলাই, ২০১৮

রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাতের পুরানো অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। গতকাল নাজিবকে তার কুয়ালালামপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা এমএসিসি। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১এমডিবি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল থেকে অর্থ চুরি ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়, আজ মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় নাজিবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হবে। নাজিবের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন টিমের নেতৃত্বে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল টমি থমাস। সূত্রের বরাত দিয়ে বার্নামা জানিয়েছে, ১এমডিবি কেলেঙ্কারি মামলায় নাজিবের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের ১০টিরও বেশি অভিযোগ আনা হতে পারে।
কুয়ালালামপুর সেশন্স কোর্টের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারক জয়নাল আবেদিন কামারুদ্দিনের আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করা হবে। পরে, মামলাটি স্থানান্তর করা হবে বিচারপতি আজমান আব্দুল্লাহর ক্রিমিনাল হাইকোর্ট ১-এ।

গতকাল নাজিবকে গ্রেপ্তারের পর এমএসিসি সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ১এমডিবির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনালকে ঘিরে এক দুর্নীতি মামলায় দু’বার এমএসিসি সদরদপ্তরে নাজিবের বিবৃতি নেয়া হয়। এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল ১এমডিবি’র একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। ২২শে মে এমএসিসির প্রধান কমিশনার মো. শুক্রি আবদুল জানিয়েছিলেন, নাজিবের বিরুদ্ধে তাদের ২০১৫ সালের তদন্তে ২৬০ কোটি রিঙ্গিত ও ৪ কোটি ২০ লাখ রিঙ্গিতের দুটি তহবিল নিয়ে গরমিল জানা যায়। ধারণা করা হয়, এসআরসি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়েছিল ওই অর্থ।

১এমডিবি কেলেঙ্কারির আদ্যোপান্ত: রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ১ মালয়েশিয়ায় ডেভেলপমেন্ট বারহাদ, সংক্ষেপে ১’এমডিবি গঠন করা হয় ২০০৯ সালে। নাজিব প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই। লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতি বেগবান করতে উন্নয়ন তহবিল গড়ে তোলা। এই রাষ্ট্রীয় তহবিলের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ সর্বপ্রথম সামনে আসে ২০১৫ সালে। দেশের জনগণ জানতে পারে তহবিল থেকে হাওয়া হয়ে গেছে ৪০০ কোটি ডলার। আর নাজিবের ব্যাংক একাউন্টে ৭০ কোটি ডলার পাচার হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ২০১৬ সালে ওই তহবিল সংক্রান্ত ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ জব্দের উদ্যোগ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে, নাজিব রাজাক বরাবরই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার ভাষ্য, তিনি যে অর্থ পেয়েছিলেন সেটা ছিল সৌদি রাজপরিবারের অনুদান যা তিনি ইতিমধ্যে ফেরত দিয়েছেন।

গতকাল নাজিবকে গ্রেপ্তারের আগে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা তার সৎছেলে রিজা আজিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রসঙ্গত, এই ১এমবিডি তহবিল কেলেঙ্কারি গেল মে’র নির্বাচনে নাজিবের ভরাডুবির পেছনে অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রীয় ওই তহবিল আত্মসাৎ মামলা তদন্ত ফের চালু করে যা নাজিব ক্ষমতায় থাকাকালীন বন্ধ ছিল। আল জাজিরার রিপোর্টে বলা হয়, করদাতাদের অর্থের এমন অপব্যবহারের ঘটনায় ক্ষোভের সঞ্চার হয় মালয়েশিয়ানদের মধ্যে। মে মাসের নির্বাচনে ব্যালটে এর জবাব দিয়েছেন তারা। তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার আশাভঙ্গ হয় নাজিবের। আর তার নেতৃত্বাধীন ইউএমএনও’র ভাগ্যে জোটে ঐতিহাসিক পরাজয়।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার ১এমডিবি কেলেঙ্কারি তদন্তে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। এ দফায় ক্ষমতায় থাকার রক্ষাকবচ ছিল না নাজিবের। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে তদন্তের কোনো এক পর্যায়ে।

নাজিব গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই কেলেঙ্কারির সত্যিকারের চিত্র এবারে দ্রুতই বেরিয়ে আসবে। আর এতে ফেঁসে যাবেন সাবেক অনেক সরকারি কর্মকর্তা।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার সহযোগী অধ্যাপক কার্তিনি আবু তালিবের মতে নাজিবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখানেই শেষ। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনের পরিভাষায়, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরপরাধ; তবে, ভাবমূর্তির প্রশ্নে নাজিবের কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাকে সবসময়ই দেখা হবে দুর্নীতির প্রতিরূপ হিসেবে।’

কয়েক বছর ধরেই নাজিব ও তার স্ত্রীর বিলাসী জীবনযাপন মানুষের নজরে পড়ে। গত মাসে কয়েক দফা অভিযানে মালয়েশিয়ার পুলিশ নাজিবের বাসা থেকে যত নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করেছে তার সামগ্রিক মূল্য ২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ