Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

জামিন পেলেন নাজিব রাজাক

১০ লাখ রিঙ্গিত মুচলেকা

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০১৮, ১২:০২ এএম

 দশ লাখ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ার মুদ্রা) মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। গতকাল বুধবার তার জামিন আবেদনে সম্মতি দেন মালয়েশিয়ার একটি হাইকোর্ট। বিচারক মোহাম্মদ সুফিয়ান আব্দুল রাজাক জামিনের এ অর্থ নির্ধারণ করেন। তিনি নাজিব রাজাককে তার দুটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার তাকে তার কুয়ালালামপুরের ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কোম্পানি ‘ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলাপমেন্ট বারহাড’এ বিনিয়োগসহ চারটি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে কুয়ালালামপুর হাইকোর্টে হাজির করে নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নাজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল (ওয়ানএমডিবি) থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ৬৪ বছর বয়সী নাজিবকে আদালতে হাজির করায় তিনি হলেন আদালতে হাজির হওয়া দেশটির প্রথম সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। আদালত চত্বরে প্রায় ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা নাজিবকে ঘিরে রেখেছিল। গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) নাজিবকে কুয়ালালামপুরের বিলাসবহুল বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। নাজিবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ২০ বছরের কারাদÐ হতে পারে।
টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জনগণের উদ্দেশে নাজিব বলেন, ‘অভিযোগগুলো বিশ্বাস করবেন না। অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমার আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।’ পুলিশ বলছে, গত জুন মাসে তারা নাজিব রাজাকের প্রাসাদে বিলাসবহুল পণ্য ও অর্থ উদ্ধার করে, যার পরিমাণ ২৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের মূল্যবান জিনিসপত্র জব্দের ঘটনা। ওয়ানএমডিবি বিশেষ টাস্কফোর্স এক বিবৃতিতে বলেছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে নাজিবকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মালয়েশিয়ায় মিডিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাগ অর্ডার হাইকোর্টের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে চলমান মামলার মেরিট নিয়ে আলোচনার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মালয়েশিয়ার হাই কোর্ট। বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ড. মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ আদালতের কাছে এমন বিধিনিষেধ দেয়ার আহŸান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করার পর থেকেই মিডিয়ায় এক ধরনের বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন তার মক্কেল। এর প্রেক্ষিতে তিনি ওই বিধিনিষেধ দেয়ার আহŸান করেন। আইনজীবী শাফি বলেন, নাজিব রাজাককে এরই মধ্যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে কিনা এ নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে লোকজন। তাই আমি আদালতের কাছে একটি সীমাবদ্ধতা দেয়ার নির্দেশ দিতে আবেদন করছি, যাতে বলা হবে, এই মামলার মেরিট নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। ড. নাজিবের সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তবে এ আবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন এটর্নি জেনারেল টমি থমাস। তিনি বলেন, এ আবেদন অবাধ মত ও বক্তব্য প্রদানের বিরুদ্ধ। যখন সারা বিশ্ব এটা নিয়ে আলোচনা করবে তখন এমন একটি অর্ডারের (গ্যাগ অর্ডার) অর্থ কি থাকবে? এক্ষেত্রে টমি থমাস সারাওয়াক রিপোর্টকে উদাহরণ হিসেবে সামনে তুলে আনেন। বলা হয়, এই ওয়েবসাইটটি সারাবিশ্ব থেকে পড়া হয়। এমন একটি গ্যাগ অর্ডার পেতে বিবাদীপক্ষকে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে, আমরা যার ঘোর বিরোধিতা করছি। এরপর ড. মুহাম্মদ শাফির কাছে সুস্পষ্ট করে কার বিরুদ্ধে গ্যাগ অর্ডার চাওয়া হয়েছে তা জানতে চান টমি থমাস। জবাবে শাফি বলেন, মিডিয়ার বিরুদ্ধে। সেটা ডিজিটাল ও সংবাদপত্র উভয়ের ক্ষেত্রে। এরপর হাই কোর্টের বিচারক মোহাম্মদ সুফিয়ান আবদ রাজাক অন্তর্বর্তীকালীন গ্যাগ অর্ডার অনুমোদন করেন। তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ৮ আগস্ট দিন ধার্য করেন। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এনকোয়ারার ও নিউ ইয়র্ক টাইমস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ