Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিস্তার ঘটছে বন্যা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৬ এএম

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে সিলেট, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সুনামগঞ্জসহ নি¤œাঞ্চল। বিভিন্ন নদ নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, আবার কোথাও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। হুমকির মুখে বিভিন্ন বাঁধ। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। আকম্মিক বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। বিশেষ করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর। পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় বন্যার বিস্তৃতির শঙ্কা রয়েছে। মানবেতর জীবনযাপন করছে হাজার হাজার শ্রমিক। বিশুদ্ধ খাবার ও পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটে স্থগিত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি ও বীজতলা, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ। বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ।
ফয়সাল আমীন সিলেট থেকে জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ঘাঘট, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা কুশিয়ারার নদী সমূহে পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে ইতিমধ্যে সুরমা-কুশিয়া নদীগুলো পানিতে টুইটম্বুর হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের সুরমায় ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়ে দাড়িয়েছে জেলার সমতল ও নি¤œাঞ্চল। লাগাতার বৃষ্টি ও ঢলে শহরের পৌরসভার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। গতকাল ৩টায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সুনামগঞ্জের ছাতকে গত কয়েকদিন ধরে হওয়া টানা বর্ষণে ফের বড় রকমের বন্যার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, সিলেটের গোয়াইনঘাট ্ও কানাইঘাট ্উপজেলা নি¤œাঞ্চল এখন প্লাবিত। টানা বৃষ্টি আর পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী সিলেটের গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা আকষ্মিক পাহাড়ী তীব্র ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কক্সবাজার ব্যুরো জানায়, গতকাল সকালের ভারী বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন আশয়কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করেছে। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা উখিয়ার থাইংখালি ও বাগগুনা এবং টেকনাফের পুটিবুনিয়া, লেদা ও নয়াপাড়া আশ্রয়কেন্দ্রের। বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্প, বালুখালী ডি বøক, থাইংখালী তাজিনিমারখোলা ক্যাম্পসহ অধিকাংশ ক্যাম্পে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এনজিও কর্মীদের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এদিকে পাহাড় ধস ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থানে কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস হলেও এদের সরানোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে শীঘ্রই এক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপদ স্থানে সরানো হবে বলে জানানন রোহিঙ্গা বিষয়ক কর্মকর্তারা। টানা ভারী বর্ষণে জ্বালানী সংকটেও ভোগছেন রোহিঙ্গারা। এমনিতে তারা বনের গাছ গাছালী জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। টানা বর্ষণে রোহিঙ্গারা তাও পাচ্ছেনা বলে জানাগেছে।
স্টাফ রিপোর্টার,বান্দরবান থেকে : প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে তুমব্রæ সীমান্তের জিরো লাইনে থাকা রোহিঙ্গা শিবির আবারো পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সকালে এই রোহিঙ্গা শিবিরটি তুমব্রæ খালের পানিতে তলিয়ে গিয়ে সেখানকার প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। অনেকেই শিবিরের মাচান ঘর ও টিলায় অবস্থান করছেন। এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে বান্দরবানের সাংঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, গতকাল বিকেল ৩ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটর। যা বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারনে তিস্তা পাড়ের লোক জনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। প্রচন্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা যাচ্ছে না।
পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের অস্থায়ী বাঁধ গুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাধ গুলোঁ ভেঙ্গে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে। আদিতমারী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ সংস্কার না করায় হুমকীর মধ্যে পড়েছে মহিষখোচা অংশ। ইতোমধ্যে চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। চর এলাকা গুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি অব্যাহত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতংকে রয়েছে তিস্তাপারের লোকজন। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন পুর্বাভাস ও সর্তকীকেন্দ্রর কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বুধবার সকাল ৬ টায় ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয় (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার)। এছাড়াও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যে কোন সময় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। পানি বৃদ্ধির কারনে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর