Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কাজানে সাম্বা নাচের অপেক্ষা

রেজাউর রহমান সোহাগ | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আস্থাভাজন দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে ব্রাজিল। কাজানে তাদের সমর্থকদেরও দেখা গেল উৎসবের আমেজে। মাঠে তিতের দলের আত্মবিশ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়েছে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝেও। গতকাল কাজান অ্যারেনার আশপাশে তাদের উৎসবের ধরন সেই কথায় জানান দিচ্ছিল।
কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এজন্য গতকাল সকালেই কাজানের মাইরেজ হোটেলে এসে পৌঁছান নেইমার-কুতিনহো-উইলিয়ানরা। হোটেলের বাইরে এসময় সাম্বার ঐতিহ্যে সেজে নেচে গেয়ে প্রিয় তারকাদের স্বাগত জানায় হাজারো ভক্ত-সমর্থক। তাদের পোষাকে ছিল সবুজ আর হলুদের সমরহ, হাতে প্রিয় পতাকা। কেউ কেউ হলুদ-সবুজ রঙে সেজেছেন বর্ণিল সাজে। মুখে-পিঠে-চুলের সাজ জাসান দিচ্ছিল এ সাজ সেলেসাওদের। সঙ্গে ব্রাজিলিয়ানদের উৎসবের নিত্য বাদ্য-বাজনা তো ছিলই। এক কথায় প্রিয় তারকাদের উৎসাহের কোন কমতি ছিল না পাগলা সমর্থকদের মাঝে। যেন কাজানে নেমে এসেছিল এক টুকরো রিও ডি জেনিরো।
ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই ছিলেন নেইমার। যার গোলে ও গোল সহায়তায় শেষ ষোলর ম্যাচে মেক্সিকোকে হারায় ব্রাজিল। ভক্তদের স্বাগত অভিনন্দনে সিক্ত হয়ে হাত নেড়ে জবাব দেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এমন একটা ছবি তিনি নিজের ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশন ছিল ‘এটাই ব্রাজিল।’ ঠিকই তো- ফুটবল আর ব্রাজিল তো সমর্থকই। সে বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক না কেন।
কাজানের শিল্পীদেরও যেন ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সব জায়গায় সাজ সাজ রব। ব্রাজিল দলের টিম হোটেল থেকে উঁকি দিলেই যে হোটেলটা চোখে পড়ছে তার দেয়ালে আঁকা হয়েছে নেইমারের ম্যুরাল। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারের মোরাল স্থান পেল রাশিয়ায়। মজার ব্যাপার হলো শেষ ষোলয় ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কাজানের এই হোটেলেই ছিলেন আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়রা। মেসির রুমের ভেতর থেকে বাইরে তাকালেই চোখে পড়ছিল রোনালদোর ম্যুরাল। দুজনই বিদায় নিয়েছেন রাশিয়া থেকে। নেইমারের ভাগ্যে কি আছে তা সময়-ই বলে দেবে।
নেইমারের ম্যুরাল আঁকা হয়েছে যে হোটেলে সেই হোটেলেই আবার উঠেছেন ডি ব্রæইন-হ্যাজর্ড-লুকাকুরা। ফুটবলের ইতিহাস ঐতিহ্যে হয়ত দুই দলের মাঝে ব্যবধান অনেক। ব্রাজিল যেখানে রাশিয়ায় পা রেখেছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে সেখানে বেলজিয়ামকে আসর শুরু করতে হয় ‘কালো ঘোড়া’ (ডাক হর্স) তকমা নিয়ে। আসরে দু’দলের খেলাতেও পার্থক্য স্পষ্ট। এরপরও বেলজিয়ামের গোছালো মাঝমাঠ ভোগাতে পারে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ীদের।
ব্রাজিল সমর্থকরা একটা পরিসংখ্যানে আশ্বস্থ হবেন- এখন পর্যন্ত আসরের চার ম্যাচে সবচেয়ে কম (১টি) গোল খাওয়া দুটি দলের মধ্যে এটি হলো ব্রাজিল, অন্যটি উরুগুয়ে। ভক্তদের চোখে নেইমার-কুতিনহো-উইলিয়ানদের নিয়ে গড়া দলটির আক্রমণ ভাগই হয়ত সবার আগে চোখে পড়ে। কিন্তু পেছনে থেকে তাদের এই কাজটি করার আশ্বাস দেন তো সিলভা-মিরান্ডারা-কাসিমিরোরাই। তাদের জমাট রক্ষণ ভেদ করে গত চার ম্যাচে প্রতিপক্ষ পোস্টে শটই নিতে পেরেছে মাত্র পাঁচবার। শুধু আক্রমণ নয়, জমাট রক্ষণও যে তিতের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ তা বোঝাই যায়।
দলের সাফল্যের কারণ হিসেবে রক্ষণকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মিডফিল্ডার উইলিয়ানও, ‘আমাদের রক্ষণ শুরু হয় আক্রমণ থেকেই।’ আগেই বলেছি রক্ষণ নিয়ে তিতের পরিকল্পনার কথা। দলটির দায়ীত্ব নেয়ার পর ২৫ ম্যাচে যিনি গোল খেয়েছেন মাত্র ছয়টি! তবে একটা শঙ্কা আজ থাকছেই তিতের দলে। শঙ্কার নাম কাসিমিরো। হলুদ কার্ডের খাড়ায় পড়ে এই ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। দলে তার অবস্থান সম্পর্কে কয়েকদিন আগে তিতে বলেছিলেন, ‘আক্রমণের প্রাণভোমরা নেইমার, আর পুরো দলের প্রাণভোমরা কাসিমিরো।’
দলে কাসিমিরোর অবদান কি তা ফুটবল যারা ভালো বোঝেন তারাই জানেন। সাধারণ ভক্তদের চোখে লেগে থাকে কেবল গোলদাতা আর মিডফিল্ডাররাই। কিন্তু এই কাজটি শুরু হয় যাদের পা থেকে তাদের একজন কাসিমিরো। শুধু আক্রমণ নয়, প্রতিপক্ষে আক্রমণ রুখে দেওয়াও কাসিমিরোর কাজ। গোল দিতে আসা যে কাউকে প্রথমেই পরীক্ষা দিতে হয় কাসিমিরোর কাছে। যে পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন খুব কম খেলোয়াড়রাই। পক্ষান্তরে আক্রমণের শুরুটাও হয় তার কাছ থেকেই।
শুধু কাসিমিরো নয়, দলের লেফট ব্যাক মার্সেলো ও ডগøাস কস্তাকে নিয়েও রয়েছে অনিশ্চিয়তা। যদিও দুজনকেই দেখা গেছে দলীয় অনুশীলনে। ইনজুরিগ্রস্থ দানিলোর অবস্থাও পরিষ্কার নয়। তবে তিতের হাতে যে বিকল্পগুলো আছে তারাও তো বিশ্বমানের। মেক্সিকো ম্যাচে মার্সেলোর অভাব বুঝতেই দেননি তার বদলি নামা ফিলিপ লুইস। কাসিমিরোর জায়গায় আজ দেখা যেতে পারে ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনহোকে।
প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামের নামের পাশে ‘ডাক হর্স’ তকমা থাকলেও তাদের অবহেলা করার সুযোগ নেই। টানা ২২ ম্যাচ হারেনি বেলজিয়াম। চলতি আসরে সর্বোচ্চ (৪ ম্যাচে ১২টি) গোল তাদের। শেষ ষোলর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও গত ৪৮ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাস পাল্টে দিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন ম্বরে থাকা দলটি। এই দলেই রয়েছে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৪টি) গোলদাতা রোমেলু লুকাকু। আর মাঝমাছে হ্যাজার্ড-ডি ব্রæইন-ফেলাইনিদের চেনেন না কে। ষষ্ট বিশ্বকাপ জয়ের পথে সামনে যে বাঁধাগুলো আছে তার কঠিনতম নাম হতে পারে এই বেরজিয়াম।
এরপরও ব্রাজিলের এই দলকে নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের উচ্চাশা অনেক। তাদের আশা ১৫ জুলাই লুঝনিকি স্টেডিয়ামে চেনা ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। সেই ২০০২ থেকে যে চেনা স্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন বিশ্বকাপ ট্রফি। এজন্য অবশ্য শুধু বেলজিয়াম বাধা পেরুলেই হবে না, শেষ চারে প্রতিপক্ষ হিসেবে আসবে ফ্রান্স অথবা উরুগুয়ে, সঙ্গে ফাইনাল বাধা তো আছেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ