Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭, ০৬ সফর ১৪৪২ হিজরী

মোদির বলপ্রয়োগ নীতিতে কাশ্মীরে সঙ্ঘাতের শঙ্কা

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে দলের সমর্থন প্রাপ্তি নিশ্চিতে কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের তীব্রতা বাড়াতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতে কাশ্মীরে সহিংসতার ঘটনা কমবে না বরং বাড়বে। কাশ্মীরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী-পুরুষদের যোগ দেওয়ার বিষয়টি অনুধাবন করতে ভিন্নভাবে চিন্তা করা দরকার বলে মনে করেন তারা। এমনিতেই অঞ্চলটিতে সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘ মন্তব্য করেছে, সেখানে ব্যাকপভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। তারপরও মোদি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন আসন্ন নির্বাচনের কারণে। নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে মোদি তার দলের জন্য সমর্থন নিশ্চিত করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি লিখেছে, স¤প্রতি কাশ্মীরের ক্ষমতায় থাকা জোট সরকার থেকে বিজেপি বেরিয়ে যাওয়ায় এখন সেখানে কেন্দ্রের শাসন চলছে। এতে আলোচনার বদলে বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাটা মোদির জন্য সহজ হবে। আর তাতে বাড়বে সহিংসতার আশঙ্কা।
গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গুজরাট নির্বাচনে খুব কম ব্যবধানে জিততে পারা বিজেপির জন্য যথেষ্ট সমর্থন নিশ্চিত করাটাই এখন মোদির লক্ষ্য। নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার বার্তা দিতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি লিখেছে, কাশ্মীরে কার্যকর করা মোদির নীতি ইতোমধ্যেই বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এখন যদি এলাকাটিতে বলপ্রয়োগের ঘটনা আরও বাড়ানো হয় তাহলে এমনিতেই সংঘর্ষপ্রবণ অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কড়া ভূমিকা নেওয়াটাকে মোদি সমর্থন নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে নিয়েছেন। গত সপ্তাহে গবেষণা সংস্থা স্ট্রাটফরের গবেষকরা মন্তব্য করেছেন, ‘যেহেতু এখন মোদিকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করতে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং যেহেতু তিনি দলের দৃষ্টিতে আরও বেশি শক্তিশালী করে সংগঠন গোছাতে চান সেহেতু নির্বাচনি কৌশল হিসেবে তিনি দেশের ভেতরে থাকা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছেন।’
‘এশিয়া প্রোগ্রামের’ সহপরিচালক এবং উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহযোগী মাইকেল কুগম্যান বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার সম্ভাবনা বাড়বে।’ কিন্তু এমনিতেই সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলটিতে আরও বেশি বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটানো ঝুঁকিপূর্ণ।
সিএনবিসি লিখেছে, স¤প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কাশ্মীরিদের মধ্যে সঙ্ঘাতের পরিমাণ বেড়েছে। রোজার মাস উপলক্ষে যে অস্ত্র বিরতি দিল্লির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল তা খুব বেশি দিন দীর্ঘ হয়নি। জনপ্রিয় কাশ্মীরি সাংবাদিক সুজাত বুখারীর মতো অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত মাসেই শাসক দল বিজেপি কাশ্মীরের আঞ্চলিক দল ‘পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির’ (পিডিপি) সঙ্গে থাকা সমঝোতা ভেঙে দেয়। এত ক্ষমতা ছাড়তে হয় কাশ্মীরের জোট সরকারকে। পদত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি। বিজেপির সমর্থন প্রত্যাহারের কারণে কাশ্মীরে একটি নির্বাচিত সরকারের পতন হয় এবং অঞ্চলটিতে জারি হয় কেন্দ্রের শাসন।
নয়াদিল্লীভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের’ গবেষক মনোজ যোশি মন্তব্য করেছেন, কাশ্মীরে জোট সরকার ভেঙে দেওয়ার মতো কাজ সামনের নির্বাচনের কথা ভেবে করেছে বিজেপি। এতে মোদির সরকার আঞ্চলটিতে কার্যত আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কাশ্মীরের জোট সরকার বিজেপিকে ভারসাম্যের মধ্যে রাখত। কারণ জোটের শরিক পিডিপি চাইত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। এখন যেহেতু পিডিপি সরকারে নেই এবং কেন্দ্রের হাতেই কাশ্মীরের ক্ষমতা সেহেতু, বিজেপি এখন সরাসরি তাদের নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবে। বিজেপির তৎপরতাকে সংশ্লিষ্টরা ‘বল প্রয়োগের রাজনীতি’ হিসেবে দেখেন। জাতিসংঘও মন্তব্য করেছে, কাশ্মীরে ব্যাপাকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এসবের মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমন করতে অত্যধিক বল প্রয়োগ করা, আইনবহির্ভূত হত্যাকাÐ, নির্বিচারভাবে গ্রেফতার করা, যৌন সহিংসতা, গুম ইত্যাদি
কুগম্যান মন্তব্য করেছেন, ‘যেহেতু এখন বিজেপিকে ভারসাম্যে রাখতে পিডিপি নেই এহেতু বিজেপি এখন আরও বেশি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমন আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, ওই জোট সরকার ভেঙে যাওয়ায় সহিংসতার আশঙ্কা বাড়বে।’ সূত্র : সিএনবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মোদির

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন