Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ঝিনাইদহে দুই শিবির নেতার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

এবার ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে ৩ জামায়াত কর্মীকে

প্রকাশের সময় : ১৪ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ পৌরসভা শিবিরের সভাপতি আবুজর গিফারি (২২) ও কে সি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও শিবির নেতা শামীম (২০) কে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে যশোরের হৈবতপুর মৌজার বিরামপুর শ্বশান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহত আবুজর গিফারীর চাচাতো ভাই পাননু মিয়া ও শামিমের ভাই তাজনিম হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুইটি আবুজর ও শামিমের বলে শনাক্ত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার চাপালী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র আবুজর গিফারিকে গত ১৮ মার্চ জুম্মার নামাজের পরে বাড়ি ফেরার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ সন্তানের উদ্ধারের দাবীতে আবুজরের বাবা সেলুনকর্মী নুর ইসলাম গত ২৪ মার্চ ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তার ছেলেকে নিয়ে গেছে। ২৫ দিন পর গতকাল বুধবার তার গুলিবিদ্ধ লাশ পায় যায়। এদিকে ২৪ মার্চ বিকালে একই উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ঝিনাইদহ সরকারী কেসি কলেজের অনার্সের ছাত্র শামীম হোসেন (২০) কে একই ভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯ দিন পর তার লাশও আবুজর গিফারির সাথে পাওয়া যায়। যশোর কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন দুই যুবকের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, বুধবার সকালে যশোরের হৈবতপুর মৌজার বিরামপুর শ্মশান এলাকায় অজ্ঞাত দুই যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। লাশ দুইটি উদ্ধারের পর যশোর মর্গে এসে নিহতদের স্বজনরা লাশ দুইটি আবুজর গিফারি ও শামিম হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। তিনি আরো জানান, নিহতরা শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে পুলিশ পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান। এদিকে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, আমি শুনেছি কালীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের লাশ যশোরে পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, আমার থানার কোন পুলিশ এ ঘটনার সাথে কোন ভাবেই জড়িত ছিল না। এদিকে দুই কলেজ ছাত্রের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার পর তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাপালী গ্রামের সেলুনকর্মী নুর ইসলামের স্ত্রী কুলসুম বেগম তাদের একমাত্র সন্তানকে খুন করায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। কালীগঞ্জের বাকুলিয়া গ্রামে নিহত শামিম হোসেনের পরিবারেটি শোকে পাথর হয়ে গেছে। তার বাবা রুহুল আমিন জানান, কি কারণে তার কলেজ পড়–য়া নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা হলো তা জানা হলো না। উল্লেখ্য ১০ এপ্রিল রোববার কালীগঞ্জের ঈশ্বররা গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে ও স্থানীয় শহীদ নূর আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহানুর রহমানকে (১৬) পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এখনো নিখোঁজ রয়েছে। সোহানূর রহমানের মা পারভীনা বেগম জানান, তার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। সে পড়ালেখা করে। তিনি ছেলেকে ফেরতের দাবি জানান।  
তুলে নেয়া হয়েছে ৩ জামায়াত কর্মীকে
ঝিনাইদহের একটি আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এবার তিন জামায়াত নেতা কর্মীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন, ঝিনাইদহ শহর জামায়াতের আমির নুতন কোর্টপাড়ার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাগুরাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে হাফিজুর রহমান ও একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন। হাফিজের ভাই তৌফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বুধবার বেলা দুইটার দিকে হরিনাকুন্ডুতে ওমর ফারুক নামে এক পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলায় হাজিরা দিয়ে কোট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় কোর্টের বাইরে অপেক্ষমান ডিবি পরিচয়ের লোকজন তাদেরকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ডিবির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ভাবে কিছু বলা হচ্ছে না। ডিবির ওসি হাসেম খান জানান, বিষয়টি খোজ নিয়ে জানানো হবে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, আমি ছুটিতে আছি। এ বিষয়ে কিছুই জানি নে। অন্যদিকে ডিবির এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ডিবির ওসি স্যার বলতে পারবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ