Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে চসিক মেয়র নাছির

চট্টগ্রাম ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

সিটি মেয়র মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, আমাদের এই প্রিয় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম প্রকৃতি প্রদত্ত নান্দনিক শহর। অপরিকল্পিত উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য্য পুনরুদ্ধার করা উচিত। এখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এর ভোগান্তির দায়ভার সিটি করপোরেশনের ওপর আসে, কিন্ত প্রকল্প গ্রহণের সময় কেউ আগে থেকে আলোচনা করেন না। বিভিন্ন সেবা সংস্থা প্রকল্প নিচ্ছে এবং সেগুলো একনেকেও পাশ হচ্ছে। সমন্বয় ছাড়া কোনো উন্নয়নের সুফল মিলবে না উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, জনগণকে চরম ভোগান্তি দিয়ে উন্নয়ন টেকসই হবে না। অনেক প্রকল্প চট্টগ্রামে চলমান। বাস্তবায়ন হলে সুফল মিলবে কী? এসব প্রকল্পের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা হচ্ছে কী? এখনো সময় আছে। গতকাল (শুক্রবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হলে ‘নগর সাংবাদিকতা: বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন উদ্দাহরণ দিয়ে বলেন, যেমন মুরাদপুর ফ্লাইওভার একসময় ছিল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। পরে আলোচনা সমালোচনার মুখে র‌্যাম্প ও লুপ যোগ করা হলো। র‌্যাম্প-লুপ করতে গিয়ে নগরীর উত্তর-দক্ষিণমুখী একমাত্র সড়কটি এলোমেলো হয়ে গেলো। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার শুরুতে ওয়াই শেপ ছিল, কাটা হলো আবার যোগ করা হলো। ফ্লাইওভারের ওপর স্পিড ব্রেকার দেওয়া হলো। এটা পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। আবার সমস্ত দায়ভার সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন নিয়ে মানুষের চাওয়াটা যৌক্তিক কারণ জনগণ সিটি মেয়রকে ম্যান্ডেট দিয়েছন। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা স্বাভাবিক। সিটি মেয়র বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করা হয়। সেটা বাস্তবায়ন করার কথা ছিল ২০১৫ সালের মধ্যে। কিন্তু যে সিডিএ মাস্টারপ্ল্যান করেছে তারা কী তা বাস্তবায়ন করেছে? সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, চান্দগাঁও মৌলভি পুকুর কে ক্রয় করে ভরাট করেছে? মাস্টারপ্ল্যানে তো জলাশয়গুলো খালি রাখার কথা ছিল। জলাভূমিতে তাহলে কি করে আবাসন প্রকল্প নেওয়া হলো। হালদা দূষণ হচ্ছে বাঁধের কারণে। বালি জমে এবং শিল্প বর্জ্য পড়ে হালদার আজ মরণ দশা।
সাংবাদিকদের প্রতি আহŸান জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আপনারাই পারেন, আপনারা ত্রাণকর্তা। আপনারা যেটা নিয়ে সোচ্চার হন ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সেটা সবাইকে মেনে নিতে হয়। এটাই নিষ্ঠুর বাস্তবতা। চট্টগ্রামে চলমান সবগুলো প্রকল্প নিয়ে গভীরে গিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করুন। আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ নিরাপদ নগরী রেখে যাওয়া আমাদের সকলের উচিত। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর