Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬, ১৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ব্রাজিলিয়ানদের কাঠগড়ায় নেইমার-জেসুস

রেজাউর রহমান সোহাগ, রাশিয়া থেকে : | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৮, ১০:২৭ পিএম

 বেলজিয়ামের কাছে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এত তাড়াতাড়ি এই ধাক্কা ব্রাজিলিয়ানরা কাটিয়ে উঠবে বলে মনে হয় না। কান্না হয়ত থেমেছে, কিন্তু এরই মধ্যে তা হতাশার গন্ডি পেরিয়ে রূপ নিয়েছে ক্ষেভে। হেক্সা মিশনে ব্যর্থতার জন্য নেইমার ও গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন স্বয়ং ব্রাজিলিয়ানরা।
বিশ্বকাপ জুড়েই নেইমারকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বেশ। বিশেষ করে আক্রমণে পুরোপুরি মনোযোগ না দিয়ে ২৬ বছর বয়সী অভিনয়ের দিকেই বেশি মনোযোগি ছিলেন বলে সমালোচকদের অভিযোগ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আগে এই অভিযোগ ইউরোপের মিডিয়াতে বেশি করে আসলেও এখন তা আসা শুরু করেছে খোদ ব্রাজিল থেকেই। মাঠের খেলায় ভক্তদের তুষ্ঠ করতে পারেননি নেইমার। খেলা বাদ দিয়ে মডেলিংয়ের দিকে মনোযোগ দেয়ার মত বিদ্রæপও করেন ব্রাজিলিয়ানরা।
মাঠে নেইমারের ডাইভ নিয়ে বিদ্রæপাত্মক ট্রল ইমেজ, ভিডিওর ছড়াছড়ি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রতিপক্ষ সমর্থকরা এমনিটি করতেই পারেন। কিন্তু নেইমারের অভিনয় নিয়ে স্বদেশী সমর্থকরা কি ভাবছেন? বেলজিয়াম ম্যাচের পর এক ব্রাজিলিয়ান টক স্পোর্টসকে বলেন, ‘আমি নেইমারকে পছন্দ করি না। সে খুব খুব খারাপ এবং সে ব্রাজিল নয়।’ তাহলে ব্রাজিল কে? এমন প্রশ্নে তিনি রোমারিও, রোনালদোদের নাম উল্লেখ করেন। পাগলা এই সমর্থক এই বলে নিজের কথা শেষ করেন, ‘নেইমার কোন খেলোয়াড় নয়, সে একজন অভিনেতা, একজন মডেল, খেলোয়াড় নয়। খেলোয়াড় হলো রোমারিও, পেলে, গ্যারিঞ্জা।’
অনলাইনে খেলাধুলা বিষয়ক এক জরিপের ফল অনুযায়ী বিশ্বকাপে নেইমারের পারফম্যান্সে ৫৬ শতাংশ ভক্তই হতাশ হয়েছেন, মাত্র চার শতাংশ ভক্তের মতে, রাশিয়ায় তিনি সেরা খেলাটা উপহার দিয়েছেন।
তবে সবচেয়ে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে। জরিপের ফল অনুযায়ী ৮৩ শতাংশ ভক্তই জেসুসের খেলায় হতাশ। বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই তিতে একাদশে রেখেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকারকে। দলের নয় নম্বর জার্সিধারী তিনিই। নেইমার-কুতিনহোদের আক্রমণকে শেষ গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার দায়ীত্ব তার। অথচ বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচে একটি গোলও করতে পারেননি ২১ বছর বয়সী। প্রতিপক্ষের ডি বক্সে নিজের ছায়া হয়ে থাকার পরও প্রতি ম্যাচেই রবার্তো ফিরমিনহোকে বসিয়ে জেসুসকে খেলিয়েছেন তিতে। অথচ বদলি নেমে প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছেন লিভারপুল তারকা ফিরমিনহো।
শুক্রবার সামারায় কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে নেইমারের ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে রেনেতো আগুস্তোর গোলে ব্যবধান কমালেও পরাজয় এড়াতে পারেনি তিতের দল। ফলে ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন এবারো পূরণ হয়নি সেলেসাওদের। ম্যাচে এদিন নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি নেইমার। কুতিনহো-মার্সেলোরাও সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে অনেকগুলো সুযোগ হাতছাড়া করার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। এ নিয়ে গত চার বিশ্বকাপের তিনটিতেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিল লাতিন দলটি। ফলে বিশ্বকাপের শেষ চারের দলই এবার ইউরোপের।
এমতাবস্থায় সমালোচকরা যে তাদের ধুয়ে দেবেন এটা ভালোকরেই জানেন দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ফিলিপ কুতিনহো, ‘আমি নিশ্চিত চারিদিক থেকে সমালোচনা থেয়ে আসবে। জীবন থেমে থাকে না, এটাই ফুটবল। আপনি জিতবেন অথবা হারবেন।’ বার্সেলোনা মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা ফাইনাল পর্যন্ত যেতে চেয়েছিলাম। এজন্য আমাদের সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছি, সবাই নিজের সর্বস্ব দিয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা পারলাম না।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্বকাপ

১১ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ