Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

৪৭ লক্ষাধিক মানুষ ঘরছাড়া

টোকিওতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, ভারি বৃষ্টিপাত

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৬ এএম

 জাপানে স্মরণকালের ভয়াবহ বর্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৯২ জন। রোববার ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগত তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট এই ভয়াবহ দুর্যোগে উদ্ধারকর্মীদের দ্রæততম সময়ে কাজ করার আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।এদিকে, রাজধানী টোকিওসহ জাপানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটি ৬ মাত্রার ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮ টা ২৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয় বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র রাজধানীর কাছাকাছি চিবা প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের ৫০ কিলোমিটার গভীরে। সাগরের তলদেশে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হলেও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি সংস্থাটি। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিউশু ও শিকোকুর দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রধান দ্বীপগুলোতে ভয়ানক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন অধিবাসীরা। এসব এলাকায় রাতারাতি মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। টোকিওভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কিওডো জানিয়েছে, দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে ৪৭ লাখের বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত, আহত আর আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে এসব এলাকায় দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের পুলিশ ও দমকল বাহিনীর অন্তত ৪৮ হাজার সদস্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে। জাপান সরকারের মন্ত্রিসভার প্রধান সচিব ইয়োশিহিদে শুগা বলেছেন, বেশির ভাগ নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে হিরোশিমা অঞ্চলের দক্ষিণাংশে। কিন্তু ঠিক কোন কোন জায়গায়, তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ এই বর্ষণে বন্যা ছাড়াও অব্যাহত ভূমিধসের ফলে, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে মানুষ চরম বিপদের মুখে পড়েছে। বন্যার পানি গাড়ি পর্যন্ত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানা যায়। দুর্গত এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় মানুষ ডুবে যাওয়া বাড়িঘরের ছাদে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক জায়গায় পুরো গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে। রাস্তাঘাট ডুবে কোথাও কোথাও পানির ওপরে শুধু ট্রাফিক বাতি দেখা যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানির কারণে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজে নৌকা বা হেলিকপ্টার ব্যাবহার করছেন। পশ্চিমে জাপানে এই বন্যা পরিস্থিতির ফলে বুলেট ট্রেন সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। ডাইহাটসু, মিটসুবিশিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকার কারখানাগুলোতে তারা আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছে। চলমান পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, কচি অঞ্চলে তিন ঘণ্টার বর্ষণে ২৬ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৭৬ সালের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকে তাদের এক বুলেটিনে বলছে, অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি ও পানির পাইপ ফেটে গেছে, এমনকি লিফটে মানুষও আটকা পড়েছে। সম্ভাব্য ভূমিধস এড়াতে স্থানীয় এলাকাবাসীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে এনএইচকে। এর আগে গত ১৮ জুন পশ্চিমাঞ্চলীয় ওসাকায় ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫ জন নিহত হয়েছিলেন। এনএইচকে, গার্ডিয়ান, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ