Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

সাতক্ষীরা থেকে আক্তারুজ্জামান বাচ্চু | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৬ এএম

১০০ শয্যা বিশিষ্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাবে মারাত্মক হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। রোগীরা এক রোগের চিকিৎসা নিতে এসে অন্য রোগের চিকিৎসককে দেখাতে বাধ্য হতে হচ্ছেন। হাসাপাতালে জনবল সংকটে অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, শিশু ওয়ার্ড সামলাচ্ছেন একজন ইন্টার্নী চিকিৎসক। এ্যানেসথেসিয়া দিচ্ছেন যে কোন মেডিকেল অফিসার। চোখের চিকিৎসা করছেন যখন যে চিকিৎসক (সাধারণ মেডিকেল অফিসার) দায়িত্বে থাকছেন তিনি। কখনো কখনো উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসাররাও রোগী দেখছেন।
হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৭টি পদের মধ্যে ১৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থ সার্জারি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়ার কনসালটেন্ট (পেডিয়েট্রিক্স), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসারের (হোমিও/ইউনানী/আয়ুর্বেদী) একটি পদসহ ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও নার্সিং সুপার ভাইজার, স্টাফ নার্স, সহকারী নার্স ও স্টোর কিপারের একটি করে ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে হৃদরোগ রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট (সিসিইউ) থাকলেও নেই কোন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
সূত্র আরো জানায়, সদর হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। সুচিকিৎসা তো দূরে থাক, জনবল সংকটে এতো রোগী সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের দীর্ঘ লাইন। সেবা নিতে আসা সবার মুখেই হতাশার ছাপ। যারা ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারাও খুশি নন। কারণ যে রোগের চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন, সেই ডাক্তার নেই। অর্থাৎ পদটি শূন্য রয়েছে। এমনই একজন দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রামের শাওন নামের এক যুবক। দীর্ঘদিন চোখের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন তিনি। এসেছিলেন চোখের ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু চোখের ডাক্তার না থাকায় সাধারণ মেডিকেল অফিসারকে দেখাতেই বাধ্য হলেন তিনি।
এদিকে, সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শিশু বিশেষজ্ঞের পদটি শূন্য। শিশু ওয়ার্ড চালাচ্ছেন ইন্টার্নী চিকিৎসক নাজমুল হাসান ও মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট শফিউল্লাহ মুন্না। আরএমও’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডা. হাফিজউল্লাহ। বর্তমানে ডাঃ ফরহাদ জামিল আরএমও হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে একজন ডাক্তার বলেন, বর্হিবিভাগের রোগী সামলাতেই রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের তো কিছু করার নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পদটি শূন্য। তাই যখন যাকে পাই (মেডিকেল অফিসার) তাকে দিয়েই কাজ চালানো হয়। জনবল সংকটে কখনো কখনো উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার দিয়েও রোগী দেখাতে হচ্ছে। কোন উপায় নেই।
১৪ টি পদে ডাক্তার না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে গতকাল রোববার সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন তওহীদুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, সদর হাসপাতালে জনবল সংকেট চিকিৎসা সেবা অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতখাবে অবহিত করেছি। ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচিবের সাথেও দেখা করেছি। তিনি বিষয়টি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও অদ্যবধি কোন ডাক্তারের পদায়ন হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ