Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

অহঙ্কার পরিত্যাজ্য

মুনশী আবদুল মাননান | প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম | আপডেট : ১২:০৭ এএম, ১০ জুলাই, ২০১৮

মানুষ বুঝে না বুঝে অহঙ্কার করে। অর্থ-সম্পদের অহঙ্কার, মান-সম্মানের অহঙ্কার, ক্ষমতার অহঙ্কার, পদ-পদবীর অহঙ্কার, জাতি-সম্প্রদায় ও বর্ণের অহঙ্কার, বংশ মর্যাদার অহঙ্কার, শিক্ষার অহঙ্কার, জ্ঞানের অহঙ্কার, পোশাক-আশাকের অহঙ্কার, রূপ-সৌন্দর্যের অহঙ্কার ইত্যাদি কত ধরনের অহঙ্কার যে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। অহঙ্কার প্রকাশের মাধ্যমে অহঙ্কারকারী নিজেকে ও তার যা কিছু আছে তাকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রতিপন্ন করতে চায়। পাশাপাশি অন্যকে বা অন্যের যা কিছু আছে তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা বা ছোট করতে চায়। এই মনোবৃত্তি কোনোভাবেই সমর্থনীয় হতে পারে না।
মানুষ প্রধানত যেসব বিষয়ে গর্ব বা অহঙ্কার করে তা তার অর্জন নয়, মহান আল্লাহপাকের অনুগ্রহ ও দান। অহঙ্কারকারী অহং প্রকাশের মাধ্যমে বস্তুত আল্লাহর সেই অনুগ্রহ ও দানকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে অপরকে ও তার অবস্থানকে হেয়প্রতিপন্ন করে। এ কারণেই অহঙ্কারকে আল্লাহপাক মোটেই পছন্দ করেন না, ভালোবাসেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন : ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অহঙ্কারীদের ভালোবাসেন না।’
একটি বাংলা প্রবাদে বলা হয়েছে, অহঙ্কার পতনের মূল। অহঙ্কারকারীর কিভাবে পতন ঘটে তার নজিরের অভাব নেই। আমরা জানি, অহঙ্কারের কারণে শয়তান অভিশপ্ত হয়েছিল, সাদ্দাদ, নমরুদ, ফেরাউনের করুণ পরিণতি হয়েছিল। অহঙ্কারকারী আসলে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, আল্লাহ যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা লংঘন করে। এরই অনিবার্য শাস্তি সে পায় এবং পতনের নিম্নতম স্থানে তার জায়গা নির্ধারিত হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘ অহঙ্কারবশে কাউকে মুখ ভেঙচি দিও না, মানুষকে অবজ্ঞা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।’
অহঙ্কার করার যোগ্যতা ও অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কারণ, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। মানুষ কারো না কারো মুখাপেক্ষী এবং অত্যন্ত নাজুক ও দুর্বল। তার পক্ষে অহঙ্কার প্রকাশ করা শোভা পায় না। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ পাক বলেছেন, শ্রেষ্ঠত্ব আমার পোশাক, অহঙ্কার আমার চাদর, এ দু’টি আমার কাছ থেকে যে কেড়ে নিতে চায়, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।’
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: বর্ণিত একটি হাদিসে আছে : ‘মহানবী সা: বলেছেন, যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। একজন বলল, মানুষ এটাই পছন্দ করে যে, তার পোশাক সুন্দর হোক, এমনকি তার জুতো জোড়াও। উত্তরে মহানবী সা: বললেন, আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। আসলে অহঙ্কার হচ্ছে, সত্য ও ন্যায়কে উপেক্ষা করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’
যা সত্য ও ন্যায়ের খেলাপ এবং যা মানুষকে তুচ্ছ করে, তা মানুষের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে না। যা ঈমানের পরিপন্থী এবং জাহান্নামের উপলক্ষ, তা সকলেরই পরিহার করা উচিত। আল্লাহ-রাসূল সা:-এর প্রতি ঈমান ও পরকালের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরা অহঙ্কারের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে, সর্বাবস্থায় তা পরিহার করে চলবে এবং কৃতজ্ঞ, সদাচারী ও বিনয়ী হবে, এটাই প্রত্যাশিত।



 

Show all comments
  • সাইদুর ১০ জুলাই, ২০১৮, ৪:৪৯ এএম says : 0
    অহঙ্কার মানুষের পতন ডেকে আনে
    Total Reply(0) Reply
  • নাসির ১০ জুলাই, ২০১৮, ৪:৪৯ এএম says : 0
    অহঙ্কারকারী মানুষ খুব বেশি কিছু করতে পারে না।
    Total Reply(0) Reply
  • রাসেল আহাম্মেদ ১০ জুলাই, ২০১৮, ৪:৫০ এএম says : 0
    আল্লাহ আমাদেরকে খারাপ গুণগুলো পরিহার করার তৌফিক দান করুক।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ