Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা অন্যায়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকান্ডের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এই মহান পেশা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কিছু দুর্বৃত্তের কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে চিকিৎসা পেশা। দেশে অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং ভালো মানের চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকা সত্তে¡ও কতিপয় ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। নিজেদের ভুল ঢাকতে ধর্মঘটের ডাক দেয়া আরো অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আদালত অবমাননা সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এইসব মন্তব্য করেন। এ সময় আদালতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্য করে আদালত আরো বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমাদেরও ভুল হয়। আমাদের ভুল সংশোধনের জন্য সর্বোচ্চ আদালত আছে। কিন্তু ডাক্তাররা ভুল করলে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে, তার প্রতিবাদ হিসেবে হরতাল ডাকা অনৈতিক। মানুষ বিপদে পড়লে তিন পেশার মানুষের কাছে যায়। পুলিশ, আইনজীবী ও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।
ডাক্তারদের অবহেলা থাকলে তার যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পাবলিক পারসেপশন ভাল না এবং ডাক্তারদের ব্যবহার ভাল না। কতিপয় দুর্বৃত্তের জন্য এই মহান পেশা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কিছু দুর্বৃত্তের কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে চিকিৎসা পেশা। আদালত চট্টগ্রামে ধর্মঘট ডাকা প্রসঙ্গে বলেন, নিজেদের ভুল ঢাকতে ধর্মঘটের ডাক দেয়া আরো অন্যায়। আদালত বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থাকতে র‌্যাবকে কেন অভিযান চালাতে হবে। তাহলে অধিদপ্তরের কাজ কী-বলেও প্রশ্ন রাখেন আদালত। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অমিত দাসগুপ্ত। অপরপক্ষে ছিলেন এম আমিনুল ইসলাম।
গত ৩ জুলাই চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুলের জবাব না দেয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেন হাইকোর্ট।
গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিনিউটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। এদের মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রæত স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে ইম্প্যাক্টের পক্ষ থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। ৫ মার্চের ওই অপারেশনের ফলে এদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়। পরে আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১ এপ্রিল রিট দায়ের করেন। রিটের শুনানি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।#####



 

Show all comments
  • ওবাইদুল ১০ জুলাই, ২০১৮, ৪:৩০ পিএম says : 0
    এই সব চিকিৎসালয়ের লাইসেন্স বাতিল করে সকল সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে গণ বিরোধী কাজের জন্য শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া উচিৎ । দুর্বৃত্ব চিকিৎসকদের সনদ বাতিল করার বিধান করা উচিৎ ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ