Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের শপথগ্রহণ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৮, ১:১৫ এএম

নতুন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন রজব তাইয়েব এরদোগান। এবার ক্ষমতায় বসেছেন পূর্বের চেয়ে আরো বেশি ক্ষমতাধর হয়ে। নতুন প্রবর্তিত প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থায় তার ক্ষমতা আরো সুসংহত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানী আঙ্কারায় বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। এতে যোগ দেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ ২২টি দেশের আমন্ত্রিত অতিথি। তাকে শপথ পড়ান পার্লামেন্টের স্পিকার দুর্মুস ইলমাজ। 

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন তুরস্কে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট ও স্থানীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন রজব তাইয়ের এরদোগান। এছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এরদোগানের নেতৃত্বাধীন জোট।
নতুন ব্যবস্থায় ৬৪ বছর বয়সী এরদোয়ান দেশের নির্বাহী বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। এখন থেকে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ ও বহিষ্কার করার ক্ষমতা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ বাদ দিয়ে নতুন ব্যবস্থায় ভাইস প্রেসিডেন্ট রাখা হয়েছে। এছাড়া সংসদের অনুমতি ছাড়াই তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য, শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এখন সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাহী আদেশ ও জরুরি অবস্থাও জারি করার ক্ষমতার অধিকারী।
সোমবার শপথ গ্রহণের পর বিকালে নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করবেন বলে কথা ছিল এরদোয়ানের। এর আগে তিনি বলেছেন, নতুন মন্ত্রিসভায় তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি-একে পার্টির কোনও সদস্য থাকবে না। তিনি সাবেক রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এরদোয়ানের দল একে পার্টি গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪২.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের জোটের শরীক দল ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টি-এমএইচপি পেয়েছে ১১.১ শতাংশ ভোট। এই দুই দল মিলে সংসদে কোনও রকমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। একই দিনের নির্বাচনে ৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন এরদোগান।
২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোগান। ২০১৪ সালেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তার প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কিরা। ২০১৬ সালের এক ‘ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থানের’ পর ২০১৭ সালে এক গণভোটে সামান্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন এরদোগান। এতে তিনি দেশটিকে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে জনরায় পান। গত ২৪ জুনের নির্বাচনেও জয় পান এরদোগান। এর মধ্য দিয়ে নির্বাহী ক্ষমতা পাচ্ছেন তিনি। সূত্র : ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ