Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

চট্টগ্রামে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগ চলবে ২০ সাল পর্যন্ত

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

চট্টগ্রামে সড়কে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়িতে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ভরা বর্ষাতেও চলছে সড়কে উন্নয়ন কাজ, ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপন। ফলে নগরীর বেশিরভাগ সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট স্থায়ী হচ্ছে। জোয়ার ও বৃষ্টি হলে পানি আর কাঁদায় প্লাবিত হচ্ছে মহানগরীর বিশাল এলাকা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, আরাকান রোড ও বহদ্দার হাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনও নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নালা সংস্কারের কাজ করছে। নগরীতে ৬৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত চলবে পাইপ লাইন স্থাপন। সেইসাথে সড়কে কাটাকাটি। বর্ষা শেষ হলেই চকবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু করবে ওয়াসা। ঠিক একই সময়ে নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএর। সিডিএর উদ্যোগে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আউটার রিং রোড নির্মাণ কাজও চলছে। ফলে আগামী আরও কয়েক বছর চট্টগ্রামবাসীকে ‘উন্নয়নের দুর্ভোগ’ পোহাতে হবে।
সিটি কর্পোরেশনের হিসেবে টানা বর্ষণ, প্রবল জোয়ার ও উন্নয়ন কাজের জন্য নগরীর ২০ ভাগ সড়ক প্রায় চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের হিসেবে নগরীর প্রায় অর্ধেক সড়কে যানবাহন চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। ফলে ৬০ লাখ মানুষের এ মহানগরীতে যানজটসহ নানা দুর্ভোগ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। উন্নয়ন কাজে ধীরগতি এবং সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনগরী এবং বাণিজ্যিক রাজধানী। সড়কে বেহাল দশার কারণে যানজটে আটকা পড়ছে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন। এতে করে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেকটিং রোড। পোর্ট কানেকটিং রোড হয়ে প্রতিদিন বন্দরমুখী ৮ থেকে ১০ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইম মুভার চলাচল করে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি আগ্রাবাদের সাথে বৃহত্তর হালিশহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি সড়কে সম্প্রসারণ কাজ চলছে। জাইকার অর্থায়নে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক দুটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। আগামী ২০১৯ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। উন্নয়ন কাজের জন্য সড়ক দুটির একপাশ বন্ধ রাখা হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ির ফলে সড়ক দুটি পুরোপুরিই যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে বন্দরমুখী ভারী যানবাহনের চাপ পড়েছে টোল রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোতে।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মঙ্গলবার তার বাজেট বক্তৃতায় দুটি সড়কের উন্নয়ন কাজের ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস দেন নির্ধারিত সময়ের আগেই ওই দুটি সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য সড়কেও সড়ক সংস্কার, সম্প্রসারণ ও নালা নির্মাণের কাজ চলছে।
নগরীতে ৬৫০ কিলোমিটার পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন করছে ওয়াসা। মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের সঙ্গে নগরীর সংযোগ ঘটাতে গিয়ে আরাকান সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় গত দেড় বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করছে ওয়াসা। আরাকান সড়কেও একপাশ গত দেড় বছর ধরে বন্ধ আছে। চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা, হাটহাজারীর কুয়াইশ, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ ইনকিলাবকে বলেন, ৬৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন অলিগলিতে শাখা পাইপ লাইন বসানো হচ্ছে। তবে বর্ষা শেষ হতেই নগরীর চকবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত আরও একটি মূল পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এ দুটি প্রকল্প শেষ করতে আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত ওয়াসাকে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে বলে জানান ওয়াসার এমডি।
নগরীর বহদ্দার হাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ছয় লেইনের সংযোগ সড়কের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সেখানে কাজ চলছে ধীরগতিতে। সড়কটি গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। গর্ত, খানাখন্দকে ভরা সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে গাড়ি। এতে করে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের যানবাহনগুলোকে তীব্র যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে। এর প্রভাবে নগরীর রাজাখালী, চাক্তাই, ফিরিঙ্গিবাজার এবং মেরিনার্স রোডে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট হচ্ছে।
মুরাদপুর ফ্লাইওভারের লুপ নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির ফলে বিশাল এলাকায় সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সিডিএর উদ্যোগে আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজও চলছে ধীরগতিতে। আর এরমধ্যে নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেওয়ের কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিডিএ। নগরীর প্রধান সড়কে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলে যানজট আরও তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, যেসব সরকারি সংস্থা উন্নয়ন কাজ করছে তাদের মধ্যে কোন ধরনের সমন্বয় নেই। সিটি কর্পোরেশন রাস্তা মেরামত করে আসার পর ওয়াসা গিয়ে খুঁড়ে দিচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, জনগণেরও দুর্ভোগ হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ