Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

এসবও ইবাদত

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১০ এএম, ১২ জুলাই, ২০১৮

আপনি গাড়িতে, ট্রেনে, বাসে, রাস্তাঘাটে ময়লা, কাগজ, খোসা বা প্যাকেট যেখানে-সেখানে ফেলে না দিয়ে নির্দিষ্ট বা উপযুক্ত জায়গায় নিয়ে ফেললেন। এতে কি আপনার কোনো সওয়াব হবে? এ ধরনের প্রশ্ন অনেকেরই মনে জাগে। জবাব হলো, শুধু সওয়াব নয়, এটি বা এ ধরনের আরো অনেক কাজই ঈমানের শাখা। ঈমানের দাবি। ইসলামের মূল প্রেরণা। এসবও ইবাদত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে তা সে বিচারের দিন দেখতে পাবে আর যে ব্যক্তি অনু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে তা-ও সে তখন দেখতে পাবে। নবী করিম সা. বলেছেন, ঈমানের ৭৭টি শাখা রয়েছে। যার প্রথমটি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. এর সাক্ষ্য দেয়া। আর শেষটি হচ্ছে মানুষের চলাচলের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। -আল হাদীস। হাদীস ব্যাখ্যাদাতাগণের মতে, ৭৭ সংখ্যাটিকে নবী করিম সা. নির্দিষ্ট অর্থের চেয়ে অসংখ্য বা অধিক বোঝানোর জন্যই ব্যবহার করেছেন। যা আরবি ভাষারীতিতে পাওয়া যায়। ঈমানের যে ৭৭ বা ততধিক শাখা রয়েছে এসবের আলোকেই মুসলিম জাতির জীবন গড়ে তোলা কর্তব্য। শুধু নামাজ-রোজার মধ্যেই ইসলামকে সীমিত করে ফেলা ঈমানের দাবি নয়। ঈমানের দাবি আরো অধিক কিছু। হাদীস শরীফে এসেছে, মহানবী সা. বলেন, মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে সব মানুষ নিরাপদ থাকে। -আল হাদীস। প্রকৃত মুসলমানের আচরণে বা তৎপরতায় শুধু মানুষ কেন জীবজন্তু, গাছপালা, ফুল-পাখি, পরিবেশ ও আবহাওয়া পর্যন্ত বিনষ্ট বা বিব্রত হতে পারে না। ‘পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ’-এটি হাদীসের বাণী। মানুষের চলাচলের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ যেমন ঈমানের শাখা, মানুষকে কোনোভাবে কষ্ট না দেয়া যখন ইসলামে বিশ্বাসী ব্যক্তির প্রধান দায়িত্ব তখন এর আওতায় দুনিয়ার কেন বিষয়টি না আসবে। যেখানে-সেখানে থুথু ও ময়লা ফেলা। বায়ু, পানি, শব্দ ও পরিবেশ দূষণের মতো খারাপ কাজ করা। নিজের দেহ, পোশাক, বাড়ি, কর্মস্থল, পথঘাট, পরিপার্শ্ব, গ্রাম, শহর ও নগরীকে অপরিচ্ছন্ন করে রাখা। ইসলাম এসব পছন্দ করে না। এসব ঈমানের চেতনাবিরোধী কাজ।
ইসলামী জীবন বিধান একটি মহাসমুদ্র। বিশ্বের সব যুগের সব জায়গার সব পরিবেশের সব মানুষের সামগ্রিক জীবনের সকল জিজ্ঞাসার জবাব ইসলামে রয়েছে। ইসলামে ইবাদত শুধু দু’য়েকটি আনুষ্ঠানিক আচার-উপাসনায় সীমাবদ্ধ নয়। দেহ, মন, অর্থ ও সমাজ; ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র ও পৃথিবী, যে ক্ষেত্রেই মানুষ কাজ করুক তার ইবাদত হতে থাকবে, সে সওয়াব পেতে থাকবে। এমন সুন্দর জীবনব্যবস্থা আর হতে পারে না। এমন কেন এর কাছাকাছি কোনো বিকল্পের কথাও মানুষ ভাবতে পারে না। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, যে কোনো ঈমানদার নারী বা পুরুষ, ছোট-বড় যে নেক আমলই করে ইহ ও পরকালে এর যোগ্য প্রতিদান তাকে আমি দান করব। প্রিয় নবী সা. একটি একটি করে প্রতিটি আমলের কথা ভাঙিয়ে বলে গেছেন। গাছ লাগানোর প্রতিদান বলেছেন, যতদিন গাছটি থাকবে, এর যত পাতা, ফুল-ফল মানুষ পশু-পাখিতে খাবে, যত মানুষ এর ছায়া পাবে সবকিছুর সওয়াব বৃক্ষরোপণকারীর আমলনামায় লেখা হতে থাকবে। কেউ যদি কোনো প্রাণীকে রক্ষা করে, সাহায্য করে, পানি বা খাবার দেয় সবকিছুর জন্য সে সওয়াব বা প্রতিদান পাবে। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, প্রতিটি জীবের সেবায়ই রয়েছে সওয়াব বা প্রতিদান। প্রিয় নবী সা. বলেছেন, তোমাদের পরিবারের পেছনে তোমার ব্যয়ও সওয়াবের কাজ। মানুষ তার স্ত্রীর মুখে যে খাদ্যটুকু তুলে দেয় তা-ও সাদাকার সমতুল্য। একজন মুসলমান যখন কোনো মানুষের সাথে হাসি মুখে কথা বলে সেটিও সাদাকাহ। সেটিও ইবাদত ও সওয়াবের কাজ।



 

Show all comments
  • মিরাজ রহমান ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:৩২ এএম says : 0
    একজন মুসলিমের ভেতর-বাহির সবই হবে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। আর এই পরিচ্ছন্ন ও ভালো থাকা মানসিকভাবে ও শারীরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
    Total Reply(0) Reply
  • মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:৩৫ এএম says : 0
    সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য চাই সুস্থ পরিবেশ। চতুষ্পার্শ্বে যা কিছু আছে- ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ-এসব কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সচেষ্ট হতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • সফিক আহমেদ ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:৩৬ এএম says : 0
    ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা মানুষের জন্মগত স্বভাব। নিজেকে সুন্দর রাখার প্রথম এবং প্রধান উপায় হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে অনেক মূল্যবান জিনিসই মূল্যহীন হয়ে যায়। জীব-জানোয়ার ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য এটাই যে, পশুরা যেমন খুশি তেমন চলে, তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ধার ধারে না; আর মানুষ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন করে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষার বিষয়টিকে সাধারণত মানুষ স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে করলেও ঈমানদার মুসলমানেরা এটিকে ইবাদতরূপে গণ্য করে থাকেন। কেননা নবী করিম (স) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’ (মুসলিম)
    Total Reply(0) Reply
  • নাবিলা ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:৩৬ এএম says : 0
    ঈমানদার ব্যক্তিমাত্রই একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অঙ্গীভূত করে এটি নিয়মিত পালন করেন।
    Total Reply(0) Reply
  • রাসেল আহাম্মেদ ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:৩৮ এএম says : 0
    রাসূলুল্লাহ (স) মানুষের চলাচলের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব বলে ঘোষণা করেছেন। দেশের আবহাওয়ার কারণে আমরা পরিষ্কার থাকার চেষ্টা করলেও তা পারি না। বাতাসের সঙ্গে সবসময় ধূলাবালি উড়ছে যার কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে সবসময় খেয়াল রাখা দরকার। যেসব প্রতিকূল ও অস্বস্তিকর পরিবেশে লোকেরা বসবাস করছে, তা থেকে মহানবীর (স) মুখ নিঃসৃত বাণী মানুষকে উত্তরণের পথ দেখাতে পারে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mehjabin khannum ১২ জুলাই, ২০১৮, ১:৪৪ পিএম says : 0
    Apnar leka porar jonne mukhiye thaki. Allah apnake o Inqilab ke kobul korun. Ameen
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ