Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

দেশে ভয়ঙ্কর শাসন চলছে

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ১১দিন যাবত স্বজনদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কারাবন্দি হিসেবে বেগম জিয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার পাবার কথা সেটি থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ১১ দিন যাবত তার সাথে পরিবারের লোকজনও দেখা করতে পারছেন না। দেখা করার জন্য অনুমতি চাইলে কারাকর্তৃপক্ষ দেখাচ্ছে আইজি প্রিজনকে, আইজি প্রিজন দেখাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এক নম্বরের নির্দেশ ছাড়া সম্ভব না। খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের জন্য যদি সরকার প্রধানের কাছে যেতে হয় তাহলে দেশে আর কিছু থাকে? গতকাল (বুধবার) দুপুরে দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, কারাবিধির ৬১৭ অনুসারে খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ প্রাপ্ত বন্দী। তার সাথে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী/বন্ধুবান্ধবেরসাক্ষাৎকারের বিষয়টি কারাবিধির ৬৬৩-৬৮১-তে বিশদভাবে বলা আছে। খালেদা জিয়া যেহেতু সাজার মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) জামিনে আছেন, সেহেতু তাঁকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচনা না করে বিচারাধীন মামলায় বন্দী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ তিনি সাজার মামলায় জামিনে আছেন। সে হিসেবেও কারাবিধির ৯০৯-৯১০ অনুসারে তিনি প্রথম শ্রেণীর ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দী। সেখানেও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী/বন্ধুদের সাক্ষাতের অধিকারের বিষয়ে বিধি-৬৮২-তে বলা আছে। এখানে আরও বলা আছে, কারাবন্দিকে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন স্বজন/বন্ধু/সহকর্মীদের সাথে দেখা করতে দিতে হবে। জেল সুপার মনে করলে প্রয়োজনে আরও বেশি সাক্ষাতের সুযোগ দেবেন। শুধু তাই নয়, কারাবিধির ৮০ (৪) অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতকালে কারাগারের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাক্ষাৎ প্রার্থীর মতামত অন্তর্ভূক্তির জন্য নির্ধারিত ভিজিট বই রাখার বিধানও করা হয়েছে। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে তার যে অধিকার দেয়া হয়েছে তা লঙ্ঘন করে সরকার একদিকে সংবিধান লঙ্ঘন করছে অন্যদিকে মানবাধিকারও লঙ্ঘন করছে।
বিএনপির এই নেতা জানান, সর্বশেষ গত ৩০ জুন খালেদা জিয়ার সাথে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করেন। কিন্তু এরপর ১১দিন পার হলেও বারাবার চেষ্টা করে তার সাথে সাক্ষাত করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। সাক্ষাতের অনুমতির জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কারাবিধি অনুযায়ি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানের জন্য কারাকর্তৃপক্ষই যথেষ্ট। অথচ খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের জন্য অনুমতি চাইলে কারা জেল সুপার বলছে আইজি প্রিজনের সাথে যোগাযোগ করতে, আইজি প্রিজন বলছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এক নম্বর ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করবেন এজন্য যদি সরকার প্রধানের কাছে যেতে হয় তাহলে দেশে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার জন্য বিভিন্ন মামলার ফাঁদ পাতা হয়েছে, সেই মামলার ফাঁদে তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। দুদকের এধরণের সাধারণ যেসব মামলা রয়েছে সেগুলোতে যে বিচার প্রক্রিয়া চলে সেগুলো পুরোপুরি লঙ্ঘন করে তার জন্য আলাদা আদালত গঠন করে অতিদ্রুততার সঙ্গে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এধরনের মামলা এখনো হাজার হাজার পেন্ডিং পড়ে আছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে যে ধরণের মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে এই ধরণের মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি ছিল। তারা ক্ষমতায় থেকে এই মামলাগুলো খারিজ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে সাড়ে ৭ হাজার মামলা ছিল সেগুলোও তারা শেষ করে দিয়েছে। আর বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন করে ৭৮ হাজারের বেশি মামলা চাপানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১/১১’র করা ৪টি মামলার সাথে আওয়ামী লীগ সরকার আরও নতুন করে বিভিন্ন রকম মামলা দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া, তিনি যেন নির্বাচনে যেন অংশ নিতে না পারেন সে ব্যবস্থা করা। এখন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে খারিজ হওয়া পুরনো মামলাগুলো নতুন করে চালু করা হচ্ছে। বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখা এবং নির্বাচনে অংশ নিতে না দেয়ার জন্যই এসব করা হচ্ছে।
দেশের ওপর ভয়ঙ্কর দানবীয় শাসন চেপে বসেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দানবীয় শাসন গোটা বাংলাদেশ তছনছ করে দিচ্ছে। দেশের সমস্ত অর্জন, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, গণতান্ত্রিক যে অবস্থান সব তছনছ করে দিচ্ছে। এই যে ভয়াবহতা চলছে এর প্রথম আক্রান্ত হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে নির্মূল করতে পারলে, সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের কাঁটা একেবারে দূর হয়ে যাবে। তবে সেটা সম্ভব নয়। আপনারা যতই এই ধরণের চেষ্টা করবেন, যত অত্যাচার-নির্যাতন বাড়াবেন ততই গোকূলে বাড়িবে সে। ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হবে। যেদিন বিস্ফোরিত হবে সেদিন আপনারা কেউ নিস্তার পাবেন না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন, এধরণের দানবীয় শাসন, এক নায়কতন্ত্র শাসন কোনদিন চলতে পারে না। দেশ, মানুষ, জনগণের স্বার্থে শুভ চিন্তার মধ্যে ফিরে আসেন। একটা সুষ্ঠু অর্থবহ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেন। তা না হলে কারো জন্যই এই পরিবেশ শুভ কিছু বয়ে আনবে না।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শপু, সালাউদ্দীন আহমেদ, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।####



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর