Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

ছাত্রলীগের নিষ্ঠুরতা সামরিক জান্তাদের হার মানিয়েছে

সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংষ্কার করে অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের বর্বর হামলার বিচার এবং গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাম মোর্চর সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স র্পাটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক।

এছাড়া সংহতি সমাবশে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষাবার্তার সম্পাদক শিক্ষাবিদ এ এন রাশেদা, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুস সাত্তআর, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু।
বক্তারা বলেন, দেশে এক চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। কোন ভিন্নমতকেই সহ্য করা হচ্ছে না। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেই শরীরি শক্তি দিয়ে দমনের চেষ্টা করছে সরকার। সর্বশেষ কোটা সংস্কারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা সামরিক জান্তাদের সৃষ্ট এনএসএফ এর কর্মকান্ডকেও হার মানিয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে ছাত্র লীগের নির্যাতনে আহতদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে - এক নির্মম নিষ্ঠুরতা। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নারীদের লাঞ্ছনা করা হচ্ছে আবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গ্রেফতার করছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে গণআন্দোলকে দমন করা যাবে না, ইতিহাস তার স্বাক্ষীই দেয়। শাসকরা তাদের ক্ষমতাকে নিরংকুশ করতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্রমাগত সংকুচিত করছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে যে কালা কানুন প্রবর্তন করার চেষ্টা করা হচ্ছে তা নজীরবিহীন, এটা জাতির জন্য একটা অশনী সংকেত। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। একর পর এক হামলার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটছে অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ঘটনারও বিচার করতে পারেনি। অথচ বহিরাগত তত্ত¡ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ব্যাহত করার পায়ঁতারা করছে প্রশাসন। সংহতি সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের কথা বলছেন, একটি কমিটিও করা হয়েছে কোটা বাতিল বা সংস্কারের বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য আবার অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী তিনি বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা অক্ষত থাকবে। এই ধরণের প্রহসন করার মানে কি তা বক্তারা জানতে চান। বলেন মন্ত্রীর এই অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য সংকটকে আরও ঘনীভ‚ত করবে। বক্তারা সরকারের প্রতি আহŸান জানান আর কালক্ষেপন না করে অবিলম্বে কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারী করুন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার করুন এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিন। ##



 

Show all comments
  • Md Elias Mia ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:১৬ এএম says : 0
    ছাত্রলীগ সোনার ছেলে। তারা এগুলো করতেই পারেনা
    Total Reply(0) Reply
  • সামসুন্নাহার হিমু ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:১৮ এএম says : 0
    সেটাই তো কথা
    Total Reply(0) Reply
  • আবু নোমান ১২ জুলাই, ২০১৮, ২:১৮ এএম says : 0
    একদম খাঁটি কথা বলেছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Nannu chowhan ১২ জুলাই, ২০১৮, ৩:৪৩ পিএম says : 0
    100% true,no doubt at all....
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ