Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

উলিপুরে নদীগর্ভে দুই শতধিক বাড়ি

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

উলিপুরে তিস্তার পানি কমলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে চলছে তীব্র ভাঙন। গত ১৫ দিনের অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে ঘরবাড়ি সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। ভাঙনে গৃহহারা মানুষজন খাদ্য ও আবাসন সঙ্কটে পড়েছেন।
জানা যায়, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙা হিন্দুপাড়া, মাঝিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ডাক্তারপাড়া, ফকির পাড়া গ্রামের ৫১টি পরিবার গুনাইগাছ ইউনিয়নের সন্তোষ অভিরাম, টিটমা, কাজির চক, শুকদেব কুন্ডর ২০টি পরিবার বজরা ইউনিয়নের সাতালস্কর, চর বজরার ৪৬টি পরিবার হাতিয়া ইউনিয়নের কামারটারি ও হাতিয়া গ্রামের ৮১ পরিবারসহ দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে গুনাইগাছ ইউনিয়নে কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়া টি বাঁধসহ ৫টি গ্রাম ও ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি মন্দির।
থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙা গ্রামের মহুবর রহমান (৫৫), আঞ্জুআরা বেগম (৫০), বিশোদা (৬০), নরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮), মোসলেম উদ্দিন (৪৫), গোপাল চন্দ্র বর্মন (৫০), লালমিয়া (৫৫), বিরেন্দ্র নাথ (৬০), আব্দুল মামুদ (৮৫)সহ নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে জানান, গত বছর থেকে এ সব এলাকায় ভাঙন শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় চলতি বছর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তাদের। ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য তারামনি বম্মণী বলেন, পাশবর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দারচরে অপরিকল্পিতভাবে তিস্তা নদীর পশ্চিম পাড়ে মাটি ভরাট করে বৃহৎ সোলার প্যানেল প্রকল্প স্থাপনের কারনে নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙনে তার বাড়িসহ হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ওই এলাকায় প্রতি বছর নদী ভাঙছে ভাঙনরোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করা হয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা নিলে নদী ভাঙনরোধ সম্ভব হবে।
গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খোকা জানান, শুকনো মৌসুমে নাগড়াকুড়া এলাকায় টি বাঁধের নিকটবর্তী এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় টি বাঁধটি হুমকির মুখে।এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর জন্য ইউনিয়ন প্রতি ১ টন করে চাল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ভাঙন রোধের ব্যবস্থার জন্য জানানো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নদীগর্ভে


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ