Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

প্রতিশোধ নয়, তবে প্রস্তুত দালিচ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৮, ১০:৪৭ পিএম

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে মোকাবেলায় প্রস্তুত ক্রোয়েশিয়া। রোববার আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দু’দল মুখোমুখী হবে। মস্কোতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত টানা তিন ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলার চাপে এখন অনেকটাই ক্লান্ত ক্রোয়েটরা। কিন্তু ফাইনালে ফ্রান্সকে মোকাবেলায় দল মোটেই পরিশ্রান্ত থাকবে না বলেই মনে করেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জøাতলো দালিচ।
বুধবার রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। মস্কোতে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচের শুরুতেই কিয়েরান ট্রিপারের ফ্রি-কিকে পিছিয়ে পড়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ৬৭ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেনের ভুলে গোল বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে এক মিনিট পরই পাল্টা আক্রমণে বাজিমাত করে ক্রোয়েশিয়া। ডিফেন্ডার সিমে ভার্সালিকোর ক্রসের বল লাফিয়ে উঠে বাতাসে ভেসে বাঁ-পায়ের আলতো ছোঁয়ায় গোল করেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পেরিসিচ।
পরে ১০৯ মিনিটে মারিও মাঞ্জুকিচ দারুণ গোল করলে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল ওঠে ক্রোয়েটরা। এবারের বিশ্বকাপে এটা ছিলো ক্রোয়েশিয়ার টানা তিন ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলা। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে বেশ পরিশ্রান্ত মনে হয়েছে দালিচের দলকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত মাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিলো ক্রোয়েশিয়ারই। এসময়ে ইংল্যান্ডকে মাঠে একেবারেই অসহায় মনে হয়েছে। বিশেষ করে একের পর এক ভুল পাসে ক্রোয়েশিয়ার বল নিয়ন্ত্রণে নেয়া সহজ হয়েছে।
গত দু’সপ্তাহে বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ডেনমার্ক ও স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে খেলে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয়ী হয়ে শেষ চারে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। আর সে কারণেই দলের খোলোয়াড়দের শারিরীক ও মানসিক পরিশ্রান্তের বিষয়টি ফাইনালের আগে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ফ্রান্স এমনিতেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে একদিন সময় বেশী পেয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে চিন্তিত নন দালিচ, ‘এটা সত্যিই অসাধারণ। দু’জন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছিল, কিন্তু কেউ তা বুঝতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে কেউই বদলী হতে চায়নি। এটাই একটি দলের আতœবিশ্বাসকে প্রশাণে যথেষ্ট। আর এটাই আমাকে গর্বিত করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত কেউই ছেড়ে কথা বলেনি। আমরা ফাইনালে খেলার প্রস্তুতি নিয়েই এখানে এসেছি। ফাইনাল ম্যাচ ভালভাবেই খেলতে চাই। অতিরিক্ত সময়ে খেলা কিংবা ফ্রান্সের হাতে অতিরিক্ত একটি দিন আছে- এসব কোন সমস্যা হতে পারেনা। আমাদের এমনভাবে খেলতে হবে যেন আমরা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছি।’
বিশ্বকাপে এর আগে কোন দলই নক আউট পর্বের তিন ম্যাচেই অতিরিক্ত সময়ে খেলে ফাইনাল নিশ্চিত করেনি। যা করেছে ক্রোয়েশিয়া। এটা একটা রেকর্ড। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড দু’টি ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলার পরে সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানীর কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে কোচ দালিচের কথা, ‘আমরা রেকর্ড গড়ে ফাইনালে এসেছি শিরোপা জিততে। আর তা জিতে ইতিহাস গড়তে চাই।’
১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ফ্রান্সের কাছেই ২-১ গোলে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়ার। যদি ওই ম্যাচে ক্রোয়েটরা না হারতো তবে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপটি স্মরণীয় করে রাখতো তারা। ফ্রান্স বিশ্বকাপের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়ে আসর শেষ করলেও স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেমির হার ক্রোয়েশিয়াকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই বলা যায় ২০ বছর পর অনেকটা প্রতিশোধের মিশন ক্রোয়েটদের সামনে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার কোচ মনে করছেন, প্রতিশোধ নয়, ভালো কিছু করে দেখানোর মিশন এটা। ১৯৯৮ সালে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপে যা পারেনি তারা, এবার তা করে দেখানোর সময় এসেছে। ইতোমধ্যে যোগ্যতা প্রমাণ করেই রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এখন ইতিহাস গড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্বকাপ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ