Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জন-আকাক্সক্ষা পূরণে বিএনপিকেও শোধরাতে হবে গয়েশ্বর

প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে বিএনপিকেও শোধরাতে হবে বলে মনে করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল এক সভায় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কার স্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখনো অংশ নিচ্ছে বিএনপি। দলে দুর্নীতিবাজ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ নিয়ে চলা যায়, কিন্তু আন্দোলনের মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। ভূমিকম্পের মতোই দেশের রাজনীতিতে আকস্মিক বিপর্যয় আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণসংস্কৃতি দল আয়োজিত সংগঠনের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।
রাজপথ শূন্য থাকার ব্যর্থতার গ্লানি বিএনপিকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজপথ বলতে কিছু নেই। কারণ বিএনপিতে পদের প্রতিযোগিতা চলছে। আর পদের প্রতিযোগিতার কারণে রাজপথ শূন্য হয়ে পড়েছে। যদি দলের পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা রাজপথে হতো তাহলে রাজপথ শূন্য থাকতো না।
তিনি বলেন, বারবার রাজপথের আন্দোলনে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। আন্দোলন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি না। কারণ আমাদের চেষ্টার মধ্যে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। এরপরও দেশের মানুষের বিশ্বাস আমাদের উপর রয়েছে। তাই নিজস্ব প্রচেষ্টায় আমাদেরকে দেশের জনগোষ্ঠির অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে বিএনপির যে সকল নেতাকর্মীরা পদ বিতরণ ও পদ পাওয়ার জন্য ব্যস্ত তাদের নিজেদের আগে সংশোধিত হতে হবে।
বিএনপির শীর্ষনেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির অধিকাংশ নেতার রাজধানী গুলশান ছাড়া রাতের ঘুম হয় না। এদের দিয়ে আর যাই হোক না কেন, জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, দুর্নীতির দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশÑবিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের এই স্লোগান জনগণও বিশ্বাস করে। তবে এর আগে দেখতে হবে, বিএনপির ডানে-বাঁয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা আছে কিনা। কারণ দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ নিয়ে চলা যায়, কিন্তু আন্দোলনের মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না।
কাউন্সিল প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রায় ৪ লাখ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কিন্ত এত লোক সমাগমের পরও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। এত সুশৃঙ্খল কর্মী নিয়েও বিএনপি আন্দোলনে সফল হতে পারছে না। কারণ দলে পদ পাওয়াটাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের গণ-ডাক দিয়ে কেন ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করল?
বিএনপির যে সকল নেতাকর্মী দলকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার গ্যারান্টি দেয়নি। কিন্তু এরপরও কেন নির্বাচনে যাওয়া ঘোষণা দিল। আবার নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না বলে, কেন কান্না করছেন। আর অপরদিকে সম্পদ ভাগাভাগি করবেন। তাহলে তো কিছু হবে না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বর্তমান দেশে ইউপি নির্বাচনের নামে খুন ও হত্যার মহোৎসব চলছে আর সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে বর্তমান সরকারকে বৈধতা দিয়েছে।
পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের আগে ঘোষণা দিলেন তিনি ইলিশ খাবেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি একদিনের জন্য কেনো ইলিশ ছাড়লেন? আর আপনি ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতি বন্ধ করে গণতন্ত্র খাওয়া বন্ধ করবেন কিনা, তা জাতি জানতে চায়। গত বুধবারের ভূমিকম্প প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য মানুষের মনেও তীব্র ভূকম্প হচ্ছে। আর এই ভূমিকম্প এক সময় মনের ভিতর থেকে বাহিরে বের হবেই। সেই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে কী হবে তা সরকার অনুমান করতে পারছে না। যদি অনুমান করতে পারতো তাহলে সকলকে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতো। আমার মতে, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন এই পথ থেকে উত্তোলনের এক মাত্র সমাধান।
তিনি আরো বলেন, না মরে কেউ বেহেশতে যেতে পারে না। আর বেহেশতে যেত হলে মরতে হবে। আমরা কেবল মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামী দিনের আন্দালন করতে পারলে সরকারের সব অপসংস্কৃতির জবাব দিতে পারব। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ইমতিয়াজ হোসেন চপলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. সুকোমল রড়ুয়া, জাসাসের সভাপতি এম এ মালেক, গণসংস্কৃতি দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এস আল মামুন প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন