Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

পর্যটন বিশ্বে নতুন আকর্ষণ হালাল হলিডে

মুনশী আবদুল মাননান | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

নিত্যদিনের কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক অবসর নিয়ে শারীরিক ও মানসিক উদ্যম বা কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে পৃথিবীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন দেশের মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে পরিভ্রমণ করে। এইসব পর্যটকের জন্য সব দেশেই পর্যটনকেন্দ্র বা পর্যটননগরী গড়ে উঠেছে। গৃহীত হয়েছে অবকাঠামোসহ বিবিধ ব্যবস্থা। পর্যটনকে এখন বলা হয় শিল্প। এই শিল্পের অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে অনস্বীকার্য। বলতে গেলে, এটা এখন এক নম্বর শিল্প। বিশ্বের জিডিপির ৯ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। যে ১১টি খাতে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি, পর্যটন তার অন্যতম। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকের সংখ্যা এক হাজার ১৩৩ মিলিয়নের মতো। বিশ্বের প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন পর্যটক। পর্যটন আগমনের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা চারটি দেশ হলো- ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও চীন। আয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, স্পেন দ্বিতীয়, তৃতীয় চীন এবং চতুর্থ ফ্রান্স। এরপরে যুক্তরাজ্য, ইটালি, জার্মানি ও থাইল্যান্ডের অবস্থান।
বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলো পর্যটনের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। পতিতাবৃত্তি, মদ, জুয়া ইত্যাদি পশ্চিমা ও অমুসলিম দেশগুলোর পর্যটনের প্রধান অনুষঙ্গ। মুসলিম দেশগুলোতে এ সবের জোগান সীমিত অথবা নিষিদ্ধ। এ কারণে অমুসলিম দেশগুলোর পর্যটকদের আগ্রহ মুসলিম দেশগুলোতে কম। অন্য দিকে মুসলিম দেশগুলোর ধর্মপ্রাণ পর্যটকদের পক্ষে ‘পশ্চিমা ধাচে’ গড়ে উঠা পর্যটনকেন্দ্র বা নগরীতে যাওয়াও সম্ভব নয়। মুসলিম দেশগুলোতে তাদের জন্য তেমন আলাদা ব্যবস্থা নেই যাতে সেসব দেশে ব্যাপক সংখ্যায় তারা ভ্রমণ করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত ও তুরস্ক উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ‘হালাল হলিডে’ একটি। এই হালাল হলিডে ক্রমাগত জনপ্রিয়তা লাভ করছে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়ায় শরিয়াসম্মত হোটেল ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধায় ইতোমধ্যে সেখানে পর্যটকের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। ডয়েচে ভেলে কিছুদিন আগে খবর দিয়েছে, মালয়েশিয়ার পর তুরস্কে চালু হওয়া হালাল হলিডে মুসলমানদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তুরস্কে ৬০টির বেশি হোটেল ও রিসোর্টে মুসলিম পর্যটকদের জন্য নানান সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টে জায়নামাজ ও কোরআন শরিফ। আছে হালাল খাবার। এসব হোটেল- রিসোর্টে হারাম কোনো খাবার বা অ্যালকোহল জাতীয় কোনো পানীয়ের সরবরাহ নেই। সুইমিং পুল আছে, তবে নারীদের জন্য আলাদা এবং সেখানে পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই। গত বছর তুরস্কে সাধারণ পর্যটকের সংখ্যা কমলেও হালাল হলিডে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
পর্যটনের ক্ষেত্রে যে দেশে যে আচার, তার প্রতিফলন ঘটবেই। সে মতে, মুসলিম দেশগুলোতে ইসলাম ধর্মের অনুশাসন, জীবনদর্শন ও জীবনাচারের প্রতিফলন থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এতদিন তা ছিল না। এখন শরিয়াসম্মত ব্যবস্থা গড়ে উঠছে এবং অনিবার্যভাবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ও তুরস্কের বিশেষভাবে ধন্যবাদ প্রাপ্য। অন্যান্য মুসলিম দেশ তাদের অনুসরণ করলে তাদের পর্যটনশিল্প যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি এ খাত থেকে প্রচুর আয়ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন সম্ভাবনা অন্য অনেক মুসলিম দেশের চেয়ে বেশি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার অধিকারী এ দেশ। এখানে দেখার মতো অনেক পুরানিদর্শন রয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম সভ্যতার একটি উৎকর্ষিত ক্ষেত্র হিসেবে সব ধর্মের লোকেরাই এ দেশ পরিভ্রমণে আসতে পারে। এছাড়া এখানে হয়েছে সুন্দরবনের মতো বিশ্বঐতিহ্য, রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। আছে কুয়াকাটার নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত। আছে নদী, পাহাড় জঙ্গলে সম্মেলনে গড়ে ওঠা প্রাণছোঁয়া স্থান। এত কিছুর পরও পর্যটনে পিছিয়ে আছে দেশ। প্রচলিত ধারায় পর্যটনকেন্দ্র ও নগরী গড়ার চেষ্টা থাকলেও সুফল তাতে তেমন মিলছে না। ট্যুরিজম বোর্ডের মতে, বছরে পাঁচ-ছয় লাখ পর্যটক এখানে আসে। তবে অনেকের মতে, সঠিক সংখ্যা এক লাখ থেকে দেড় লাখের বেশি হবে না। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশও মালয়েশিয়া ও তুরস্কের দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারে। এতে পর্যটন ক্ষেত্রে আয়ই বাড়বে না, মুসলিম বিশ্বসহ সারা দুনিয়ায় দেশের একটি সম্মানজনক ভাবমর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হবে।



 

Show all comments
  • নাহিদ ১৪ জুলাই, ২০১৮, ৩:২৫ এএম says : 1
    পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশও মালয়েশিয়া ও তুরস্কের দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারে।
    Total Reply(0) Reply
  • রিয়াজ ১৪ জুলাই, ২০১৮, ৩:২৫ এএম says : 1
    খুব ভালো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
    Total Reply(0) Reply
  • রাসেল ১৪ জুলাই, ২০১৮, ৩:২৬ এএম says : 0
    এই সুন্দর পরামর্শের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাযাহ দান করুক। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর